: ৪-০’র মতো কিছুর পুনরাবৃত্তি হবে না কি?
: হুহ। ৪-০ আর হওয়ার সুযোগ নেই। ম্যাচই তো ৩টা। বড়জোর ৩-০ হতে পারে!
বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, ‘বড়জোর ৩-০’ ব্যবধানে হারের শঙ্কা দেখতে পাওয়া এই ভদ্রলোকের নাম ব্রেন্ডন ম্যাককালাম! কোথায় সেই ২০১০ সালের হোয়াইট ওয়াশের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি সেটা ‘কিচ্ছু না’ বলে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন; উল্টো ম্যাককালাম বরং হাসতে হাসতে বলে দিলেন, ৪-০ আসলেই একটা মানসিক খেলার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১০ সালের ‘বাংলাওয়াশ’ নামে পরিচিত সেই নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজের ৪-০ ফলাফল নিউজিল্যান্ডের জন্য হয়ে উঠেছে হয়তো এক তিক্ততার নাম, যেটাকে জয় করাটা তাদের বাড়তি চ্যালেঞ্জ হবে। আর বাংলাদেশ দলের সব খেলোয়াড় বলছেন, এটা তাদের জন্য বিশাল একটা অনুপ্রেরণা। তারা ওই স্মৃতিটাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চান। চার বছর আগের সেই স্মৃতিতে ধূলো পড়ে যাওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। সে নিয়ে এখনও অনুপ্রেরণা পাওয়াটা একটু কঠিন ব্যাপার বৈকি! ফলে কাল মিরপুরে যখন কণ্ঠে কণ্ঠে এই ‘৪-০’ ভেসে বেড়ালো, একটু অবাক হতে হল—এতোদিন আগের কথা এতো কেন?
অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম তার সংবাদ সম্মেলনে এই ব্যাপারটার দারুণ ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বললেন, এটা তাদের অনুপ্রেরণার চেয়েও নিউজিল্যান্ডের জন্য একটা বড় ‘মেন্টাল ব্লক’ হয়ে উঠেছে বলে তার বিশ্বাস। উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলেন মুশফিক, ‘বাংলাওয়াশের স্মৃতি প্রভাব তো ফেলবেই। এ ধরনের মানসিক ব্যাপার, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাটে না। দেখুন, দক্ষিণ আফ্রিকা অনেক বড় একটা দল। কিন্তু যে কোনো বড় ম্যাচের আগে ওদের ভেতর একটা ব্যাপার কিন্তু থাকে। কারণ ওরা কিন্তু চোক করে। হতে পারে, আমরা তিন বছর পরে খেলছি। মনে কিন্তু ব্যাপারটা ঠিকই থেকে যাবে—শেষ সিরিজে ওরা আমাদের কাছে হেরেছিল। সেটাও ছোট ব্যবধানে নয় অনেক বড় ব্যবধানে।’
সঙ্গে মুশফিক বারবার দাবি করলেন, ওই সিরিজের ফলটা আসলে যেসব খেলোয়াড় তখন ছিল না, তাদেরও অনুপ্রাণিত করছে। তারাও ভাবতে পারছেন যে, নিউজিল্যান্ড দল ওয়ানডেতে যতোই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের হারানো সম্ভব। এই কথাটাই ব্যাখ্যা করে বললেন আকরাম খান। তার মতেও এটা দলের জন্য একটা অনুপ্রেরণা, ‘আসলে এই ধরনের ফলগুলো খেলোয়াড়দের খুব মোটিভেটেড করে। তারা নিজেরা অন্তত আত্মবিশ্বাসী থাকে যে, এদের এভাবেও হারানো সম্ভব। দল দুটোয় অনেক পরিবর্তন হয়েছে, সময় অনেক পার হয়ে গেছে, নিউজিল্যান্ড এখন অনেক গোছানো দল; তারপরও ওই হোয়াইট ওয়াশের স্মৃতি আমাদের অনেক এগিয়ে রাখবে।’
এমনিতে আকরাম খান মনে করেন যে, নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ দল খুব কাছাকাছি শক্তির দল এখন। কিন্তু কন্ডিশন আর ওই বাংলাওয়াশের অনুপ্রেরণায় নিজের উত্তরসূরীদেরই এগিয়ে রাখছেন তিনি। তবে ৪-০ ব্যাপারটায় আসলে আত্মসমর্পণ করতে রাজি নন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। এ বিষয়ে প্রশ্ন হতে শুরুতে রসিকতা করে আবার ৪-০-তে না হারার ‘যুক্তি’ দিলেন। পরে বোঝালেন যে, এইরকম কিছু পুনরাবৃত্তির শঙ্কা নিয়ে ভাবিতই নন তারা, ‘আসলে এই আতঙ্ক মাথায় নিয়ে তো মাঠে নামা যাবে না। তাহলে সেটা আরও চেপে ধরবে। আমরা এখন সামনে যে খেলা, সেটাতেই ফোকাস ঠিক রাখতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, নিজের খেলাটা খেলতে পারলে আমাদের একটা ম্যাচেও হারানো কঠিন হবে।’ কিন্তু ম্যাককালাম না চাইলে কী হবে! তার সংবাদ সম্মেলন জুড়ে এই প্রশ্ন উঠতে থাকল। একপর্যায়ে ম্যাককালামও সেই স্মৃতিচারণ করতে বাধ্য হলেন, ‘না, নাহ। আমরা অবশ্যই সেই ঘটনা ভুলে যাইনি। ওটা মনেই আছে। বাংলাদেশ অত্যন্ত যোগ্য দল হিসেবে একেবারে একপেশে লড়াইয়ে চারটি ম্যাচেই আমাদের হারিয়েছিল। সেবার আমরা প্রস্তুতির সুযোগ পাইনি। যে পরিকল্পনাগুলো ছিল, তার কিছুই কাজে লাগাতে পারিনি।’
ম্যাককালামের এই স্মৃতিচারণের ভঙ্গিই বলে দেয়, কতোটা যন্ত্রণা পুষে রেখেছেন তারা। আর নিউজিল্যান্ডের যন্ত্রণা মানেই বাংলাদেশের আনন্দ!
আসলেই কী তাই? এই যে ৪-০ নিয়ে এতো কথা; এটা উল্টো বাংলাদেশের ওপর কী চাপ হয়ে যেতে পারে না? আকরাম আর মুশফিক এই চাপটা উড়িয়ে দিলেন। দু’জনই বলছেন, চাপের কোনো সুযোগই নেই। কারণ, তাদের ওই কাজই আবার করতে হবে, সেটা কেউ দিব্যি দেয়নি। মাঠ থেকে অনুশীলন সেরে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক মুখে এই প্রশ্নটা শুনলেন দলের সিনিয়র স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। একটু আগে সেন্টার উইকেটে ব্যাট চালিয়ে এসেছেন। ঠিক সোজা ব্যাটে খেলার মতো করেই বলে দিলেন, ‘চাপ নেই। কারণ চার বছর পুরোনো ব্যাপার নিয়ে আমরা তো সবসময় ভাবছি না। ওটা অনেক আগে লেখা ইতিহাস। এবার নতুন কিছু লেখার অপেক্ষা করুন।’
পুরো বাংলাদেশ সেই অপেক্ষায় আছে, রাজ্জাক।
