‘৩-০ হলে খুশি হবো’

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:০৮
ওয়ানডে সিরিজে আপনাদের দলীয় লক্ষ্যটা কী থাকবে? টেস্টে ভালো খেলার কারণেই আমাদের সবাই আত্মবিশ্বাসী। ওদের সঙ্গে শেষ যে ওয়ানডে সিরিজটা খেলেছিলাম সেটা ৪-০ ব্যবধানে জিতেছিলাম। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন আমরা নিজেদের মাটিতে সমীহ জাগানোর মতো দল। তিনটি বিভাগে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে আমাদের জেতার সম্ভাবনা থাকবে। আমরা জেতার জন্যই খেলবো। সিরিজ জয়, নাকি ৩-০; কোনটা আশা করছেন? আমরা চাইবো প্রত্যেকটা ম্যাচ জিতি। ৩-০ ব্যবধানে জিততে পারলে আমরা খুব খুশি হবো। তার আগে শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাল যদি জিতে যেতে পারি তাহলে সবার আগে চেষ্টা করবো সিরিজ নিশ্চিত করতে। পরেরটা এর পর আসবে। আমাদের মেইন কনসার্ন হচ্ছে আমরা অনেকদিন পর ওডিআই খেলছি। এটা আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং একটা কাজ হবে কালকে। একাদশটা কী হবে? তিন স্পিনারই খেলবে? উইকেট দেখে মনে হচ্ছে স্পিনাররা বেশ সহায়তা পাবে। শিশির ফ্যাক্টর একটা বড় ব্যাপার হতে পারে। আমরা তিন স্পিনারই খেলাতে পারি; কিন্তু টস একটা বড় ব্যাপার হবে। সুবিধা হল, আমাদের অনেক অলরাউন্ডার আছে, স্পিন অলরাউন্ডার। সে ক্ষেত্রে স্পিনিং অলরাউন্ডার কারা হতে পারে? রিয়াদ ভাই, নাঈম ভাই আছে, গাজী তো আছেই। আমরা উইকেট কাল একটু দেখবো। আবার দেখা গেল ছয়/সাতটা স্পিনার নিয়ে খেললাম। আর টস হেরে পরে যদি ফিল্ডিং পাই তাহলে একটা অনেক বড় বিপদে পড়বো। আমাদের স্কোয়াডে যথেষ্ট অপশন আছে। কাল সেগুলো দেখেই দল সাজাবো। তিন সিমার খেলার কী সম্ভাবনা আছে? তিন সিমার কম্বিনেশনও আমরা ট্রাই করতে পারি। সিমিং অলরাউন্ডার জিয়া ভাই। উইকেট থেকে যদি সিমাররা বাড়তি সুবিধা পায় তাহলে তিনিও খেলতে পারেন। ২০১০ সালের সেই সিরিজের থেকে এখনকার পার্থক্যটা কী? তিন বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়। ওদের দলেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। আমাদের দলে পরিণত খেলোয়াড় বেড়েছে। তবে আগে কি হয়েছে সেটা ভেবে লাভ নাই। আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। নির্দিষ্ট দিনে যে ভালো খেলবে সে জিতবে। ওডিআই সিরিজে ওদের হারানো সহজ হবে না। তবে ওদের হারানো অসম্ভবও না। আমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে ওদের হারানো সম্ভব। মাশরাফির ফেরাটা কিভাবে দেখছেন? মাশরাফি ভাই যে কোনো দলের জন্য সম্পদ। আমরা খুশি তিনি এখনো ফিট আছেন। তিনি পুরোপুরি সুস্থ আশাকরি, কাল তিনি সেরাটা দেবেন। টেস্টের থেকে ওয়ানডেটা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বেশি কঠিন হবে বলে অনেকে মনে করছেন... ওদের টেস্ট স্কোয়াড থেকে ওডিআই স্কোয়াড অনেক স্ট্রং। অনেক অভিজ্ঞ প্লেয়ার না থাকলেও অনেক তরুণ খেলোয়াড় আছে। অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে কিন্তু অসম্ভব কিছু না। নিজেদের কন্ডিশনে আমরা ভালো খেলি। আর ওরাও ওডিআই ভালো খেলে। কন্ডিশন ওদের চেয়ে আমরা ভালো জানি। দুই দলেই অনেক ম্যাচ উইনার আছে। আমরা পরিকল্পনা করবো আর আশাকরি পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারবো। শীত প্রায় চলে এসেছে, ডে-নাইট ম্যাচ। শিশির কতোটা ভূমিকা রাখতে পারে? শিশির ফ্যাক্টর- প্রথমদিকে শিশির কম ছিল কিন্তু আটটা -সাড়ে আটটার দিকে অনেক বেশি ছিল। সাতটা -সাড়ে সাতটার দিকে অনেক বেশি ছিল। টসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ার প্লেতে বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তাটা তো আছেই... স্লগ ওভার সহজ নয়। পেসাররা সবসময় চেষ্টা করে থাকে। আমাদের কন্ডিশনে এটা সহজ নয়। ব্যাটসম্যানরা উইকেটে সেট হয়ে গেলে সে সময় সহজেই শট খেলতে পারে। আমাদের চেষ্টা থাকবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নেয়া। তার আগে আটোসাটো বোলিং করা। স্লগ ওভারের জন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে। পাওয়ার প্লে, ডেথ ওভারের জন্যও প্ল্যান আছে। মেইন ব্যাপার হচ্ছে ওই সময়ে কাজটা করা। যতই পরিকল্পনা করি না কেন, সময়মতো সেটি কাজে পরিণত করতে না পারলে কোনো লাভ নেই। ইয়র্কার বল ছয় মারলে করার কিছু নেই। কিন্তু ইয়র্কার বল করতে চাইলে ইয়র্কারই করবেন এটা নিশ্চিত করা।