চেলসির নাটকীয় জয়

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৩
শেষ মিনিটে ফার্নান্দো তোরেস গোলটি না করতে পারলে নিজেদের মাঠ থেকে আরেকবার মুখ কালো করে বের হতে হতো চেলসিকে। শেষ পর্যন্ত ওই গোলেরই কল্যাণে গত রবিবারের ম্যাচে স্টামফোর্ড ব্রিজে ম্যানসিটিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখল চেলসি। একই রাতে লিগের অপর খেলায় টটেনহ্যাম হটস্প্যার নিজেদের মাঠে হল সিটিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। এছাড়া সান্ডারল্যান্ড নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে হারিয়েছে ২-১ ব্যবধানে। সোয়ানসি সিটির সাথে গোলশূন্য ড্র করেছে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড। চেলসি-সিটি ম্যাচের শুরুর দিকে গ্যারি চাহিল এবং ফার্নান্দো তোরেস বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেন। তবে ভুল করেননি আন্দ্রে শারেল। ৩৩ মিনিটে চেলসির হয়ে প্রথম গোলটি করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন এই জার্মান স্ট্রাইকার। তবে সমতা ফেরাতে বেশি সময় নেননি সার্জিও আগুয়েরো। এই আর্জেন্টাইন তারকা ৪৯ মিনিটে সিটির পক্ষে সমতা ফেরান। মৌসুমে এটি তার দশম এবং শেষ চার ম্যাচে ষষ্ঠ গোল। এরপর দুদলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও কেউ এগিয়ে যেতে পারেনি। ৯০ মিনিটে সিটির ডিফেন্ডার মাটিজা নাস্টাসিক ও গোলরক্ষক জো হার্টের ভুল বোঝাবুঝিতে বল পেয়ে তোরেস তার দলকে দারুণ এক জয় এনে দেন। তোরেসের এই গোলের পর মরিনহো দৌড়ে স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো দর্শক সারিতে গিয়ে উল্ল¬াস প্রকাশ করেছেন। ম্যাচ শেষে দারুণ স্বস্তিতে থাকা মরিনহো তোরেসের প্রশংসা করতে ভোলেননি, ‘আমরা যেভাবে ম্যাচটি জিতেছি সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের জয়টা এসেছে শেষ মিনিটের নাটকীয়তায়। তোরেস যেভাবে দলকে জয় এনে দিয়েছেন তা সত্যিই অসাধারণ। সবকিছুই তার জন্য সম্ভব হয়েছে।’ এই জয়ের সুবাদে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় কোচ হোসে মরিনহোর দলটি টানা পঞ্চম জয় তুলে নিল। আর এই পরাজয়ে আর্সেনালের থেকে ৬ পয়েন্ট এবং চেলসির থেকে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলের সপ্তম স্থানে নেমে গেছে ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির সিটি। লিগ শিরোপার দৌড়ে বর্তমানে বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়া সিটির কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি এই ম্যাচে হারের জন্য দলের ডিফেন্সের ভুলকেই দায়ী করেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই ছিল। কিন্তু ম্যাচ শেষে যা হয়েছে আমরা আরেকটি অ্যাওয়ে পরাজয়ের মুখোমুখি হলাম। তোরেসের গোল প্রসঙ্গে বলতে গেলে এই মুহূর্তে আমি জানি না আমার কি বলার আছে, ঐ বলটি আসলে কার ধরা উচিত ছিল। মূল কথা হলো তারা গোল করেছে এবং আমরা পরাজিত হয়েছি।’ মরিনহোর দর্শক সারিতে গিয়ে উল্লাস প্রকাশে চটেছেন সিটি কোচ, ‘আমি তার কাছে এর থেকে ব্যতিক্রম কিছু আশা করিনি।’ এমন কী ম্যাচ শেষে মরিনহোর সাথে হ্যান্ডশেক করতে চাননি পেলিগ্রিনি। চেলসি কোচ অবশ্য তাকে খোঁচা দেয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করেননি, ‘আমি যদি ভুল করে থাকি তাহলে তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তবে, আমি তার মনের অবস্থা বুঝতে পারছি। শেষ মিনিটে যেটা ঘটেছে তাতে তার জন্য আমি সমবেদনা জানাই। অন্য দেশের সংস্কৃতিতেও খেলার আগে হ্যান্ডশেক করার রীতি প্রচলিত। আমরা সেটাই করেছি।’