রাজনীতি

এখনো সংলাপের প্রত্যাশা

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৫
‘কেন কাঁদে পরান কী বেদনায় কারে কহি’— কাজী নজরুল ইসলামের লেখা এই গানটি বুকের ভেতরে বেজে চলছে অবিরাম। এটা প্রেমের গান নাকি বিরহের গান, মানুষের গান নাকি মানবতার গান সে প্রশ্নে যাচ্ছি না। প্রশ্ন হলো প্রাণ কেন কাঁদে? ব্যথা-বেদনা কী? কাকেই বা জানাবো? —এরকম প্রশ্নের জবাব খুঁজতে দূরে যাবার প্রয়োজন নেই? আশেপাশে নিয়মিত ঘটে যাচ্ছে এমন সব ঘটনা, না কেঁদে উপায় থাকে না। তিন দিনের হরতালে এতগুলো প্রাণহানির খবর শুনে প্রাণ কি কাঁদবে না? এত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড দেখে বুকের ভেতরটা কি ব্যথায় বেজে উঠবে না? এই প্রাণহানি, সংঘাত, সংঘর্ষ, হানাহানি আর ধ্বংসযজ্ঞের দায়ভার কে নেবে? এটা তো নতুন নয়। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে দেখতে এতটাই সহ্য হয়ে গেছে যে চোখের পানিও অভিমান করে ঝরতে চায় না। বিষাদে বিমূঢ় হয়ে গেছে চোখ, সহিষ্ণু পাথর হয়ে গেছে বুক। হূদয়ের হাহাকার কেউ দেখে না, কেউ বোঝে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে হলেও ফোনটা যখন করলেই, মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতার কি উচিত ছিল না হরতাল প্রত্যাহার করে সংলাপে শামিল হওয়া? তিনি এই সুযোগটি কেন হারালেন বুঝা গেল না। সংলাপে বসার পর যদি মীমাংসা না হতো তবে হরতাল কেন, আরো কঠোর কর্মসূচি (রাজনৈতিক ভাষায়) দিতে পারতেন। আমরা ঠিকই বুঝতাম আপনারা জনগণের সেবায় দৌড়ঝাঁপ করেন। তাছাড়া অত দীর্ঘ সময় ধরে ফোনে কথা বলার কথা নয়। শুধু আমন্ত্রণ বা আহ্বানই যথেষ্ট ছিল। তা না করে আবার সেই বাসি কথার জাবর কাটা, পুরনো হিসেব-নিকেশের কাসুন্দি ঘাঁটা— যা এই ক্রান্তিকালে বেমানান মনে হয়েছে। দু’জনে একত্রে বসে এ ধরনের আলাপ করলেও সেটা কিছুটা মানানসই। আগে তো প্রয়োজন বসা। বসার জন্য সম্ভাবনার দুয়ারটা খুলি খুলি করেও কেন যেন খুলছে না। এই রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। যা হোক, আমরা আরো একটি সম্ভাবনার দুয়ার থেকে বিনা বাক্যে ফিরতে দেখে বিমর্ষ হয়ে পড়লাম। আর সেই সাথে তিনদিনের মধ্যেই ঝরে গেল এতগুলো প্রাণ। কে লীগ, কে দল, কে শিবির, কে পুলিশ সেটা বড় নয়— বড় হলো মানুষ এবং সে মানুষ বাঙালি। এখন আবার নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে হবে। কারণ ইনি বলছেন উনি আগে ফোন করবেন, উনি বলছেন ইনি। এই জিদটা যেন বহাল না রাখেন, আমরা উভয়ের কাছে সেই প্রত্যাশা করি। শুধু তিক্ত কথা নয়, আমরা জানি দু’নেত্রীরই অনেক মধুর স্মৃতি আছে। সেসব স্মৃতি দিয়েও শুরু হতে পারে মধুর সংলাপ। আর এই সংলাপ থেকে জন্ম নিতে পারে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার রূপরেখা ও আগামী দিনের নিষ্কলঙ্ক রাজনীতি। স্বচ্ছ, সুন্দর ও মঙ্গলময় রাজনীতি ও রাজনৈতিক আদর্শ এগিয়ে নিয়ে যাবে আমাদের কষ্টার্জিত বাংলাদেশকে। প্রাণ কাঁদলেও যেন ব্যথাটা জানাতে পারি কাউকে না কাউকে। বুকের ভেতরে যেন সুখের বাজনা বেজে ওঠে মুহুর্মুহু। লেখক :কবি ও ছড়াকার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন