জনগণের মতামতের মাধ্যমে নির্বাচন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের উচিত একটি জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা যেখানে জাতীয় সংসদের প্রতি-নিধিত্বকারী সব দলের অংশগ্রহণ থাকবে। এ সম্মেলনে সকল দল একটি মৌলিক বিষয়ে ঐক্যমত্য পোষণ করবে যে- “অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই প্রধান লক্ষ্য”। এই লক্ষ্যে সকল দল সম্মিলিতভাবে একটি জাতীয় সনদ প্রণয়ন করবে, যেখানে নির্বাচনকালীন সরকারের স্পষ্ট রূপরেখা থাকবে, এটা প্রয়োজনে সংবিধানেও সংযোজন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে যদি সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা যায়, তাহলে নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থাই করতে হবে। সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়। ব্যক্তিগত বা দলগত স্বার্থের জন্য একগুয়েমি চলবে না। প্রধান দুই জোটের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রার্থীদের সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে- সুস্থ রাজনীতির বিকল্প আর কিছুই নেই। যারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করে তাদের চিহ্নিত করে বর্জন করতে হবে।
মিঠুন রেজাউল হান্নান,
শিক্ষার্থী,
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ-ইউডা,
ধানমন্ডি, ঢাকা
এই মুহূর্তে তত্ত্বাবধায়ক-এর সমাধানের পথে গিয়ে নির্বাচন দিলে সুষ্ঠু হবে
দেশে নতুন নেতৃত্ব, নতুন কোন পরিবর্তন আসুক। নির্বাচন নিয়ে যেটা বলতে চাই, যেহেতু অতীতে বেশ কয়েকবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন হয়েছে। তাই এবারও দুই মহাজোটের সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর মাধ্যমে নির্বাচন এর ব্যবস্থা করা। কথায় আছে ‘না জেনে হাঁটু পানি দিয়ে না যেয়ে, জেনে গলা পানি দিয়ে যাওয়াই অনেক ভাল’। কারণ এই সঙ্কট মুহূর্তে দেশের পরিস্থিতিকে বেশি ঘোলাটে না করাই হবে সবার জন্য মঙ্গলজনক। রক্তপাত কখনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। সংলাপ শুনতে শুনতে খারাপ লাগলেও উভয় দলকে সংলাপে বসতে হবে । কারণ একটাই, সমাধানে যেতে হলে সংলাপের প্রয়োজন ।
মো. এরশাদ আলী,
৩য় বর্ষ, কম্পিউটার সায়েন্স,
নর্দান ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সকল দলের সহযোগিতা ও সহমর্মিতা একান্ত কাম্য
সাম্প্রতিক সময়ে দেশ যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে তার অন্যতম কারণ হলো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে। এ নির্বাচন কোন ধরনের সরকারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন মত পার্থক্য । সরকার চায় দলীয় সরকার বা সংবিধানের অধীনে নির্বাচন হোক অপরপক্ষে বিরোধী দল চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক, উভয় দলের বিপরীতমুখী অবস্থার কারণে দেশের অবস্থা জটিল আকার ধারণ করছে। দেশ অনিশ্চয়তার পথে, দেশের সর্বস্তরের মানুষ সর্বদা আতঙ্কের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। লাগাতার হরতাল, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও ইত্যাদি প্রতিদিনের নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থা থেকে দেশের জনগণ মুক্তি চায়। উভয় দলকে দেশের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে ঐক্যমত, সহযোগিতা, পারস্পরিক সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সকল দলের সহযোগিতা ও সহমর্মিতা আমাদের একান্ত কাম্য । সকল দলের ঐক্যমত ব্যতীত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আশা করা যায় না ।
মোছা. তানিয়া সুলতানা (রুপা),
বাংলা বিভাগ, অনার্স (২য় বর্ষ),
এন.এস কলেজ, নাটোর
কোন নির্দলীয় ব্যক্তিকে প্রধান করে নির্বাচন করলে তা সুষ্ঠু হবে
সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে অবসান হোক সকল প্রতিহিংসার রাজনীতি। সংকট নিরসনে প্রধান দু’দলকে নিজস্বার্থ ত্যাগ করে জনগণের কথা বিবেচনা করে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় আসতে হবে । প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংশোধিত সংবিধানের আলোকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেও সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষা করা যায়। আবার, বিরোধী দলীয় নেত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী উভয় দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া যায়। যদি সেই সরকার প্রধান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোন নির্দলীয় ব্যক্তিকে গ্রহণ করতে পারেন। প্রস্তাবিত সরকার ব্যবস্থা প্রধানকে ঘিরে উভয়ের মধ্যে সন্দেহ সংশয় ও আশংঙ্কা বিরাজ করছে। সকল হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।
মো. আব্দুল লতিফ,
এমবিএ (৬ষ্ঠ সেমিষ্টার),
দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ,
প্রধান কার্যালয়, মোহাম্মদপুর,
ঢাকা
