পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক আজ শারজায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেটিতে মুখোমুখি হওয়ার প্রাক্কালে সতীর্থদের কাছে মেধার সাথে কঠোর পরিশ্রমও দাবি করেছেন। অপরদিকে টেস্ট সিরিজ ড্রয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এবি ডিভিলিয়ার্স ওয়ানডেতে জয়ের ব্যাপারে আক্রমণাত্মক খেলার কথা জানিয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংয়ের মূল স্তম্ভ ডেল স্টেইন প্রথম দুটি ওয়ানডেতে থাকছেন না। হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরি সারিয়ে ফেরা এই পেসার যাতে নতুন করে কোন সমস্যায় না পড়েন সেজন্য তাকে ম্যাচ দুটির জন্য বিরতি দিচ্ছে বোর্ড। এছাড়া হাশিম আমলা দেশে উড়ে গিয়েছেন দ্বিতীয় সন্তান জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য। তাই তিনিও দলে নেই। তার পরিবর্তে কলিন ইনগ্রামকে দলে রাখা হয়েছে।
ডিভিলিয়ার্স তার দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড় না থাকার পরও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। মূলত শেষ টেস্টের জয়ই প্রোটিয়া অধিনায়ককে মনোবল যোগাচ্ছে,‘মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য আমরা পর্যাপ্ত সময় পাইনি। সিরিজের শুরুতে ভাল কিছু করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়ে যতো দ্রুত সম্ভব তাদের দুর্বল জায়গাগুলোতে আমরা আঘাত করবো।’
অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক মনে করেন তার দলের মেধাবীরা নিজেদের মেলে ধরলেও টেস্ট সিরিজে জয়ের সুযোগ ফস্কে গেছে। এ কারণেই জয়ের জন্য কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প দেখছেন না পাকিস্তান অধিনায়ক, ‘আমাদের দলে ক্রিকেটাররা খুবই প্রতিভাবান। তবে শুধু প্রতিভা আপনাকে সব ম্যাচ জেতাবে না। নিয়মিত জয়ের জন্য প্রয়োজন দায়বদ্ধতা, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস। প্রত্যেকটা ইনিংসকেই নতুনভাবে ভাবতে হবে। একটি ইনিংসে ২০০ করলে পরের ইনিংসেও আপনার কাছে তেমন কিছুই আশা করা হবে।’ প্রথম টেস্টে দারুণ জয়ের পর শেষ টেস্টে বাজেভাবে হারার পেছনে দেশের ডমেস্টিক ক্রিকেটে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের অভাবকেও দায়ী করেন এই ৩৯ বছর বয়সী, ‘আমি অনেক আগে থেকেই বলে আসছি যাতে আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করা হয়। এর কারণেই আমাদের ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে শক্তিশালী না। টেকসই সিস্টেমের মধ্য দিয়ে না আসার কারণে আমাদের ক্রিকেটারদেরকে সংগ্রাম করতে হয়। এই দিকটিতে আমাদের উন্নতি করতে হবে।’
পাকিস্তানের স্পিনার সাইদ আজমলকে সামলানোর ব্যাপারটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে প্রোটিয়া অধিনায়ককে, ‘সে বিশ্বমানের খেলোয়াড়। কয়েক বছর ধরে সে দারুণ বল করছে এবং র্যাংকিংয়ের শীর্ষেও ছিল। আমরা তার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।’ আফ্রিকা দলে ওয়ানডে স্পেশালিস্ট হিসেবে যোগ দেবেন কুইন্টোন ডি কক, রায়ান ম্যাকলরেন, ডেভিড মিলার, ওয়েন পারনেল এবং লনওয়াবো সোসোবে।
আগামী শুক্রবার দুবাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দল দুটি। পরের দুটি ম্যাচ হবে আবুধাবিতে এবং শেষটি অনুষ্ঠিত হবে শারজায়। এরপর ১৩ এবং ১৫ নভেম্বর দুবাইয়ে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে দল দুটি। নভেম্বরের শেষের দিকে পাকিস্তান দল দুই সপ্তাহের একটি সংক্ষিপ্ত সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র নাদিম সারওয়ার। ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার মধ্যকার টেস্ট সিরিজ।
সূচি :
তারিখ ভেন্যু
প্রথম ওয়ানডে ৩০ অক্টোবর শারজা
দ্বিতীয় ওয়ানডে ১ নভেম্বর দুবাই
তৃতীয় ওয়ানডে ৬ নভেম্বর আবুধাবি
চতুর্থ ওয়ানডে ৮ নভেম্বর আবুধাবি
পঞ্চম ওয়ানডে ১১ নভেম্বর শারজা
প্রথম টি-টোয়েন্টি ১৩ নভেম্বর দুবাই
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ১৫ নভেম্বর দুবাই
