রুবেলের বিস্ফোরক হ্যাটট্রিক!

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫৯
কদিন আগেই ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। সেবার কেউ খেয়াল করেননি। রুবেল হোসেন নিজেই একে একে ফোন করে জানান দিয়েছিলেন সবাইকে। এবার আর সেই ঘটনা ঘটার সুযোগ ছিল না। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল ৩০ হাজার দর্শকের সামনে পর পর তুলে নিলেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা কোরি অ্যান্ডারসন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও জেমস নিশামের উইকেট। হয়ে গেল হ্যাটট্রিক। তৈরি করলেন আরেক বিস্ময়! এর আগে মাত্র দুজন বাংলাদেশি বোলারই ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন। প্রথমটি করেন ২০০৬ সালে পেসার শাহাদাত হোসেন রাজিব। এরপর ২০১০ সালে স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক এই ঢাকার মাটিতেই করেন হ্যাটট্রিক। দুটো ম্যাচেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। ‘নতুন’ নিউজিল্যান্ড প্রথম যখন ওয়ানডে আর টেস্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দল করার প্রচলন হল সেসময় অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো এটা অনুসরণ করতো। এখনো আলাদা দল হয়। তবে আগের মতো কড়াকড়িভাবে নয়। কিন্তু এ সিরিজে নিউজিল্যান্ড ফিরে গেল আগের ধারাতেই। টেস্ট দল থেকে ওয়ানডে দলে মোট নয়টি পরিবর্তন। আর গতকাল মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ছয়টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামলো সফরকারীরা। বিজয়ের কাণ্ড দুই টেস্টে ৩৭৬ রান, ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ টেস্টে ৫৮৪ রান, এমন পারফরম্যান্সের পর ওয়ানডে সিরিজেও মোমিনুল হকের ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দুই টেস্ট মিলিয়ে প্রায় পৌনে ১৪ ঘণ্টা ব্যাটিং করে গেলেও মিরপুরের প্রথম ওয়ানডেতে ক্রিজে থাকলেন মাত্র ছয় মিনিট। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য একটি বলও খেলার সৌভাগ্য হয়নি ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের। যদিও আউট হওয়ার পেছনে মোমিনুলের ‘ব্যর্থতা’ খুঁজতে গেলে ভুল করা হবে। ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন তিনি। টেস্টে ৮৩.৪২ গড় হলেও ১০ ওয়ানডেতে নিজের গড়কে এখনো ২০ এর ঘরেই নিতে পারেননি মোমিনুল। ১৭.৭৫ গড়ে করেছেন মাত্র ১৪২ রান। সৌভাগ্য শেষ গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দলে ছিলেন। সেবার ঢাকা টেস্টেই পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। এরপর ইনজুরির কারণে ছিলেন না শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে সিরিজে। এবার নিউজিল্যান্ড সিরিজে ডাক পেলেও টিম কম্বিনেশনের কারণে দলে জায়গা হচ্ছিল না। টেস্টে জায়গা না হওয়ায় ভাগ্যকে দুষতেই পারেন নাঈম ইসলাম। কিন্তু ওয়ানডেতে আবার সেই ভাগ্যের জোরেই জায়গা পেলেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সাকিবের স্থানে খেলতে নামলেন সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। আর সৌভাগ্যমণ্ডিত এই ফেরাকেও স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি। প্রথম রান পেতে ১৬ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও শেষ পর্যন্ত ১১৫ বল খেলে ৮৪ রান করে আউট হন এই ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ রান এর আগে একবারও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫০ ছাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। গতকালকের করা ২৬৫ রানই তাই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় রান। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই মিরপুরেই সেই সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ করেছিল ২৪১ রান। একই বছর ফেব্রুয়ারীতে ক্রাইস্টচার্চেও ২৪১ রান করেছিল বাংলাদেশ। গতকাল সেই রানকে ছাড়িয়ে গেল মুশফিক বাহিনী। বৈবাহিক সম্পর্ক একই পরিবারের দুই বা তারও বেশি সদস্যের একই সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার অনেক নজিরই দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। পাকিস্তানের মোহাম্মদ পরিবার, জিম্বাবুয়ের ফ্লাওয়ার ভ্রাতৃদ্বয় থেকে শুরু করে এখনকার পাঠান কিংবা আকমল ভাইরা সবাই ‘পারিবারিক’ ক্রিকেটের অংশ। তবে বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয় দুই ক্রিকেটার একই সাথে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন—এমন কথা খুব বেশি শোনা যায়নি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই দ্বিতীয়বারের মতো ঘটতে যাচ্ছে এ ঘটনা। সবকিছু ঠিক থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ‘ভায়রা’ হতে যাচ্ছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। এর আগে সাবেক দুই অধিনায়ক আকরাম খান ও ফারুক আহমেদ ছিলেন ভায়রা। ১৯৮৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অভিষেক ওয়ানডেতেও এক সাথে খেলেছেন এই দুই ক্রিকেটার। সাতটি ম্যাচ একসাথে খেলা এ দুজন সর্বশেষ একই আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছেন ১৯৯৯ সালে।