শচিন টেন্ডুলকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার আগে জীবনের শেষ রনজি ম্যাচে প্রায় একা খেলেই মুম্বাইকে চার উইকেটে জিতিয়ে সাজঘরে ফিরলেন। হরিয়ানার বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার শেষ হওয়া খেলাটিতে অপরাজিত ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন কিংবদন্তী এই ক্রিকেটার। রনজি ট্রফির অভিষেক ম্যাচে শতরান ছিলো টেন্ডুলকারের।
হরিয়ানার লাহলিতে অনুষ্ঠিত খেলাটির শেষ দিনে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩৯ রান, হাতে ছিল চার উইকেট। শচিন ১৭৫ বলের মুখোমুখি হয়ে এই রানগুলো তুলে আনেন। ক্রীজের মাঝখানে তার দীর্ঘ সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে আগামী মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের জন্যও কিছুটা প্রস্তুতি নেয়া হলো শচিনের। ক্যারিবীয় দলটির বিরুদ্ধেই তিনি কলকাতায় নিজের ১৯৯তম টেস্ট খেলবেন। এরপর মুম্বাইয়ে খেলবেন ২৪ বছরের ক্যারিয়ার সমাপনী ২০০তম টেস্টটি।
কাল লাহলিতে ধৈর্যের সাথে খেলেই মুম্বাইকে জয়ের রাস্তায় নিয়ে যান মাস্টার। বিপরীত প্রান্তে থাকা লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান ধবল কুলকার্নিকে নিয়ে চতুর্থ দিনের ভয়ানক পিচের ভ্রূকুটিকে উপেক্ষা করে জয়ের মালা পরলেন শচিন। চারদিনের এ ম্যাচটি অবশ্য ক্ষণে ক্ষণেই রূপ বদলাচ্ছিল। কিন্তু এতে শচিনের চরম ধৈর্যের কারণে শেষ হাসি হাসে মুম্বাই।
জয়ের জন্য ২৪০ রানের লক্ষ্যে এদিন শচিনের দল মাঠে আসে পুরনো সঞ্চয় ২০১/৬ নিয়ে। টেন্ডুলকার আগের দিন অপরাজিত ছিলেন ৫৫ রানে। ধবল অপরাজিত ১৬। তার মুম্বাই সতীর্থরাও এ ম্যাচটিতে শচিনকে জয় উপহার দিতে সচেষ্ট ছিলেন।
হরিয়ানার চৌধুরী বংশিলাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হাজির থাকা স্বাগতিক দর্শকরা অবশ্য বিপক্ষ শিবিরের এই ক্রিকেটারকে প্রতিটি রানেই করতালিতে সংবর্ধিত করেন। আর খেলা শেষে তো সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান দেখান তাকে। মাঠে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়, এমনকি হরিয়ানা ক্রিকেটাররা তাকে ব্যাট হাতে বেরিয়ে আসার সময় স্যালুট পর্যন্ত দেন।
আর নিজের সতীর্থরা, তারা তো শচিনকে মাথায় তুলে রাখলেন এ জয়ের পর। বাসস/দ্য হিন্দু
