গ্রহণযোগ্য, নির্দলীয় একজনকে প্রধান করে নির্বাচন দিলে
তা সুষ্ঠু হবে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন প্রধান দু’দল একদলের প্রতি আরেক দলের বিশ্বাস-শূন্য এমনকি মাইনাসে নেমে এসেছিল ঠিক তখনই আমরা নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে তৃতীয়পক্ষ তথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বেছে নিয়েছিলাম। বর্তমানেও আমাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে একটুও পাল্টায়নি তথাপি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা একমাত্র অবসান ঘটানো যেতে পারে যদি গ্রহণযোগ্য নির্দলীয় একজনকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া যায়। আর এর জন্য যদি সংবিধান সংশোধন করার প্রয়োজন হয় তাতে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সরকার সেটা করবে বলে আমরা আশাকরি। কারণ সংবিধানতো দেশের মানুষের জন্যই।
মো. আবদুর রহমান (সোহেল)
চতুর্থ বর্ষ, লোক-প্রশাসন বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার , ঢাকা
রাষ্ট্রপতিকে প্রধান করে একটি কমিটি করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব
আমরা তরুণ সমাজ বিএনপিকে বলবো, আপনারা বাংলাদেশের সংবিধানে যা লেখা আছে, তাতে একমত হয়ে আপনারা বিরোধী দল এবং সরকারি দল আলোচনা করে নির্বাচন কমিশনকে কিভাবে সর্বোচ্চ স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং শক্তিশালী করা যায় এ নিয়ে সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। শুধু শুধু দেশের মধ্যে অশান্তি, হরতাল, ধর্মঘট করবেন না। আর যদি তা না হয়, তাহলে বাংলাদেশের আসন্ন সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে বড় দু’দলের পাঁচজন করে মোট ১১ জন সদস্য নিয়ে নির্বাচনের জন্য সময়কালীন সরকার গঠন করতে পারেন। আর যদি তাও না হয়, তবে উভয় দলের আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি দল থেকে সমানভাবে লোক নিয়ে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে পারেন। যাদের মাধ্যমে আপনারা আশা করতে পারেন নির্বাচন স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ হবে। এতে করে আমরা মনে করি যে, সংবিধান সংশোধনের কোন প্রয়োজন নেই। কারণ সংবিধানের জন্য তো সাধারণ জনগণ না, বরং সাধারণ জনগণের জন্যইতো সংবিধান। তাই সংবিধান পরিবর্তন বা অপরিবর্তনে কি যায় আসে! ভোট তো দিবেন সাধারণ জনগণ। আপনারা যদি দেশের জন্য, দেশের সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করেন তাহলে ভয় কিসের? জয়-পরাজয়ের জন্য জনগণের উপরই নির্ভর করেন না, দেখবেন জনগণই সঠিক কোনটি তা লুফে নিবে।
খাজা মাহাদী
ফটো সাংবাদিক (DUPS),
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে বড় দুই দলের দুই নেত্রীকে আলোচনার টেবিলে বসালে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে
বড় দু’দলের দুই নেত্রী স্বদেশের মতোই নতুন প্রজন্মের মাতৃতুল্য। সেই সম্পর্কের রেশ ধরে নতুন প্রজন্মের দাবি- আপনারা দুই নেত্রী স্বার্থের বেড়াজালে আবদ্ধ না হয়ে মমত্ববোধের পরিচয় দিন। দেশের সাধারণ দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জান-মালের স্বার্থে অতিদ্রুত ঐকমত্যে চলে আসুন। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের তাগিদে প্রয়োজনে বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শ নিন। যাতে করে সংঘর্ষের পথ এড়িয়ে দ্রুত নির্বাচনমুখী হওয়া সম্ভব হয়। স্মরণ রাখা খুবই জরুরি, আপনাদের রেষারেষির কারণে রাস্তায় নিরীহ মানুষের লাশ পড়বে- নতুন প্রজন্মের তা মোটেই কাম্য নয়। এর ফলাফল তো সন্তোষজনক হবেই না বরং বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে বড় দলের দুই নেত্রীকে আলোচনার টেবিলে বসানো যেতে পারে। কোনো ব্যাপারে মতানৈক্য সৃষ্টি হলে দেশের প্রবীণ সাংবাদিক , বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক বিচারপতিদের সহায়তা নিন। যাতে করে কোনভাবেই অগণতান্ত্রিক সরকারের হাতে দেশের জনগণকে জিম্মি হতে না হয়।
আরিফ মজুমদার
মাস্টার্স, ইংরেজি বিভাগ
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে হবে
বাংলাদেশ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কখন, কিভাবে আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। নির্বাচনে ৩৬টি নিবন্ধিত দলের কতজন অংশগ্রহণ করবে তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। দেশের সুশীল সমাজসহ বিদেশি কূটনীতিকরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বার বার তাগিদ দিচ্ছে। দুই নেত্রী সমঝোতার বহুল কাঙ্ক্ষিত ফোনালাপ হলেও সেখানে চরম উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। অনেকক্ষেত্রে একজন অন্যজনের কথা শুনতেও পাচ্ছিল না। তবে গণতন্ত্রের জন্য না হলেও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নির্বাচনে যাচ্ছে দু’দল। ইতিমধ্যে দু’দল নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রত্যক্ষভাবে আর বিএনপি পরোক্ষভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করতে হবে। আরপিও সংশোধন করে কোন প্রার্থী দু’বারের বেশি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে পারিবারিক গণতন্ত্র বাদ যাবে। সুদিন আসবে প্রকৃত গণতন্ত্রের। ফলে একমাত্র তখনই নির্বাচন অবাধ, গ্রহণযোগ্য হবে।
নাজমুল হক
শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স,
বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট,
ঢাকা
