[ রা জ নী তি ]

সমঝোতা না হলে সমাধান কী হতে পারে

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১৪
এমুহূর্তে সমগ্র দেশে সর্বস্তরে যে কোন মূল্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। সব ধরনের হানাহানি, নির্যাতন, জ্বালাও-পোড়াও, প্রাণহানি অবিলম্বে বন্ধ করে জনমনে স্বস্তির নিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীদের নিষ্ঠার সাথে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে। আমি একান্তভাবে বিশ্বাস করি সরকার (ও ১৪ দলীয় জোট) এবং বিরোধী দল (ও ১৮ দলীয় জোট) অবিলম্বে নিজেদের ভেতর সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসে বর্তমান সংকট নিরসনে সমঝোতায় পৌঁছুতে সক্ষম হবেন। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এটাই আমি সর্বাগ্রে কামনা করি। এ সমঝোতা অতিদ্রুত হয়ে যাওয়াই উচিত। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে যদি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সরকার কাঠামো নিয়ে উভয় জোটের মধ্যে কোন সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হয়, এবং সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন যদি সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে নতুন ধরনের রাজনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে। যাতে দেশকে এ ধরনের কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয় সেজন্য আমি নিম্নবর্ণিত একটি বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব করছি। এ প্রস্তাব নতুন কিছু নয়। কিন্তু সংকটের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এটা সহায়ক হতে পারে। এই ভেবে আমার এ প্রস্তাবনা তুলে ধরছি। আমার এ প্রস্তাবনার শুরুতে কয়েকটি বিষয়ের উল্লেখ করতে চাই। বর্তমান সংকট উত্তরণে আমার প্রস্তাবনা হলো আমাদের রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম, তাদের গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা, ভালবাসা, দেশের জন্য তাদের ত্যাগ, কারাবরণ, দুঃখ, কষ্ট কোন কিছুই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। দেশ পরিচালনায় তাদের রয়েছে বিশাল অভিজ্ঞতা ও অসামান্য কৃতিত্ব। লক্ষণীয় বিষয় হলো এই যে, যখনই রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীগুলোর ভেতর আদর্শিক বা অন্যকোন বিষয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় ও ক্রমশ এসব দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পেতে পেতে জাতীয় জীবনেও এর প্রতিফলন ঘটা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে দারুণভাবে সমাজ ও জাতীয় জীবনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়, তখন এমন কোন নেতৃত্বের উপস্থিতি আমরা অনুভব করি না যে নেতৃত্ব সর্বোদয় নেতার মতো আবির্ভূত হয়ে বিবদমান দলগুলোর বিভেদ দূর করে শান্তি ও ধৈর্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হতে পারেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর ভেতর মত ও পথের পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু জাতীয় সংকটে সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমাদের দেশ, দেশের আপামর জনগণের বিষয়টিইতো প্রাধান্য পাওয়া উচিত। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী প্রচার করে থাকেন- জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স, জনগণের কল্যাণ ও দেশ সেবায় তারা কাজ করে থাকেন। আমাদের এ বক্তব্য যদি শুধু কথার কথা না হয়, আমরা সবাই যদি এটা সমগ্র অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করি, দেশের জনগণকেই তাহলে সে দায়িত্ব দেয়া হোক যে, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তারা মতামত দিন আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তারা কী ধরনের সরকার ব্যবস্থা চান। দেশের সাধারণ মানুষের (যারা ভোটার আছেন) সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার দাবি রাখে। তাই আগামী পাঁচদিনের মধ্যে যদি সরকার ও বিরোধী দল এবং গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কোন সমঝোতা না হয়, যা সম্পর্কে আগেই উল্লেখ করেছি, তাহলে এ পাঁচ দিন অতিক্রান্ত হবার পর আরো পনের থেকে বিশদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে দিয়েই সমগ্র দেশে জরুরিভিত্তিতে সরকারি দলের প্রস্তাব ও বিরোধী দলের প্রস্তাব পাশাপাশি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনবোধে এক্ষেত্রে জাতিসংঘের সহায়তাও কামনা করা যায়, যাতে গণভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে। দেশের জনসংখ্যা (মোট ভোটারদের) সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের রূপরেখা (নির্বাচনকালীন) বাস্তবায়িত হলে সম্ভবত এ সংকট থেকে জাতি পরিত্রাণ পেতে পারেন। দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কোনভাবেই যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত না হয় তাহলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে বিকল্প হিসেবে অতিপরিচিত এ গণভোট ব্যবস্থায় সম্ভবত আমরা একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে পেতে পারি। দেশের যে মানুষের জন্যে আমাদের সকল কল্যাণ প্রচেষ্টা ও দেশসেবার কথা আমরা বলে থাকি চলুন সেই মানুসগুলোর কাছেই আমরা দ্রুত ফিরে যাই, সমাধান চাই তাদের কাছে, তারা কি পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান, সম্ভবত এ মুহূর্তে এটা অনেক কার্যকরি সমাধান এনে দিতে পারে বলে মনে করি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন