শিক্ষা

৭ম এশিয়া প্যাসিফিক শিক্ষক সম্মেলন সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১৫
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে গত ১৮-২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হল এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল ৭ম এশিয়া প্যাসিফিক শিক্ষক সম্মেলন। হোটেল ফেডারেলে আয়োজিত এ সম্মেলনে এশিয়ার ৩৪টি দেশের ৬৩টি শিক্ষক সংগঠনের ৪০০ জন শিক্ষক নেতা অংশগ্রহণ করেন। এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট মিসেস হোপগুডের উপস্থিতিতে তিনদিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল: Quality Public Education: Building Asia Pacific Social and Economic Future. এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালের অধিভুক্ত সংগঠন বাংলাদেশ টিচার্স ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারী হিসেবে আমি ও শিক্ষক নেতা কামরুস সালেহীন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সক্রিয় অংশগ্রহণ করি। আমরা জাতিসংঘ ঘোষিত ২০১৫ সালের মধ্যে “সবার জন্য শিক্ষা” কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সামগ্রিক অর্জন, অসম্পূর্ণ কাজ বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার সম্বলিত প্রতিবেদন তুলে ধরি। এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে মানসম্মত শিক্ষা ১. মানসম্মত শিক্ষাদান পদ্ধতি ২. শিক্ষাদানের উপকরণ ৩. শিক্ষাদানের পরিবেশ— এ তিনটি মূল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এ ভিত্তি সাম্যতা, বৈষম্যহীন ও গতিশীলতার উপর নির্ভরশীল। তবে মানসম্মত শিক্ষা তখন নিশ্চিত তবে যখন সকল শিক্ষার্থী অগ্রগতি সাধন করবে। মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ সহজলভ্য, তথ্য ও প্রযুক্তির প্রয়োগ ও ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিতের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাদানের পরিবেশ আরামদায়ক ও নিরাপদ হতে হবে। সম্মেলনে শিক্ষক নেতৃবর্গ সম্মত হয়েছেন যে, শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষাদানের মূল উপাদান। তবে তাদের অবদান সবসময় পুরোপুরিভাবে প্রশংসনীয় নয়। শিক্ষা পদ্ধতির ত্রুটির জন্য নিয়মিতভাবে শিক্ষকদের দায়ী করা হয়। মূলত শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের ক্রমাগত প্রশিক্ষণ দান প্রয়োজন। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ব্যয়বহুল ও অনুত্পাদনশীল খাত ভেবে তা বন্ধ রাখা হয়। তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই সরকার শিক্ষানীতিতে নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিফলন ঘটাতে চান, আবার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিক্ষাখাতে ব্যয় কমিয়ে দেন এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় সমন্বয় সাধন করেন না, এসব কারণে শিক্ষার মান ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। জাতিসংঘ ঘোষিত অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের সরকারকে অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে এবং অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম, পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য শিক্ষক, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষাদান সামগ্রী ও ভৌত অবকাঠামো যথার্থ শিক্ষণ-শিখন পদ্ধতি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান এবং গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ও উপযুক্ত মূল্যায়ন ব্যতীত এ লক্ষ্য অর্জন পুরোপুরি সম্ভব নয়। তাই অভীষ্ট সফলতার জন্য শিক্ষার সকল স্তরে শিক্ষক সংকট দূর করতে হবে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত গ্রহণযোগ্য পর্যায় আনতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত রেখে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, শিক্ষার যথোপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নত করতে হবে। বর্তমানে বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা হতাশাব্যঞ্জক। বাড়িভাড়া দেয়া হয় না। নামমাত্র মেডিক্যাল ফিসহ সুযোগ-সুবিধা এতই সীমিত যা দিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ সময়ে শিক্ষকদের জীবন পরিচালনা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অথচ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে শিক্ষকদের বেতনভাতাদি অনেক উচ্চ। তাই পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে তুলনীয় গ্রহণযোগ্য, যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে সার্বজনীন মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন। লেখক: গবেষক ও জেনারেল সেক্রেটারী, বাংলাদেশ টিচার্স ফেডারেশন e-mail:[email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন