পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় দলবদলের সময় বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তের সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেএমসির কর্মকর্তা আরিফ খান জয়। অথচ তিনিই গতকাল সবার আগে খেলোয়াড় রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে ফেলেছেন। এতে অন্তত আর যাই হোক খেলোয়াড় দলবদল নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে যে অনিশ্চিয়তা উঁকি দিচ্ছিল সেটা কাটিয়ে দিয়েছে অফিস দল বিজেএমসি। দলবদলের শুরুটা হয়ে যাওয়ায় অন্য ক্লাবগুলোও এখন পালাক্রমে খেলোয়াড় রেজিষ্ট্রেশন করাতে উত্সাহী হবে তারও আভাষ পাচ্ছেন লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী। তিনি বলছিলেন অনেকেই ভেবেছিলেন ট্রান্সফার ক্লিয়ারেন্সটা হবে কিনা। একটা বিষয় আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও আমরা সব কয়টি খেলা আয়োজন করেছি।’
বিজেএমসির পরিচালক হওয়ার পর মৃতপ্রায় বিজেএমসির ফুটবল দলকে জাগিয়ে তুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফ খান জয়। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে অফিস দলটি এখন এদেশের ফুটবলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। গত তিন বছরে শতাধিক ফুটবলার খেলেছেন এই দলে। পারিশ্রমিক নিয়েছেন। বহু ক্রীড়াবিদকে চাকরির সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতেও বিজেএমসি ফুটবল দল গঠন করবে কিনা সে প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, দলটাকে দাঁড় করানোর জন্য আমি রাতদিন কাজ করেছি। আমি পজিটিভ মানুষ, আলোর দিকটাই দেখতে চাই। দেশের স্পোর্টসে বিজেএমসির অবদান অনেক। সেটা আগামীতেও থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বিজেএমসি শুধুমাত্র দেশীয় ফুটবলার রেজিষ্ট্রেশন করিয়েছে। দলে বিদেশি ফুটবলার অনুশীলন করলেও তাদেরকে আরো পরখ করে দেখতে চান আরিফ খান জয়। তিনি এবার দলের প্রশিক্ষণের জন্য নতুন কোচ খুলনার আলী আজগর নাসিরকে নিয়েছেন। এই কোচ কাল সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছেন। তিনি মনে করছেন ক্যারিয়ারে অন্য যেসব দলের দায়িত্বে ছিলেন, সেই সব দলের চেয়েও বর্তমান বিজেএমসি ভালো এবং তুলনায় শক্তিশালী দল। বর্তমানে লিগের চতুর্থ স্থান থেকে উপরে নিয়ে যাওয়া কোচের লক্ষ্য । আরিফ খান জয় বলছিলেন, চাইলেই তো চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায় না। ভাগ্যটাও লাগে। আমরা গত লিগে দুইবার মোহামেডানের বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ ড্র করে ফিরেছি। শেখ রাসেলের সাথে এগিয়ে থেকেও হেরেছিলাম। এই তিন ম্যাচে আমাদের পয়েন্ট হতে পারত নয়। তাই বলছি ভাগ্যটাও জরুরি।’
তকলিস আহমেদ, কেষ্ট কুমার বোসকে চ্যালেঞ্জ নিয়ে দলে জায়গা করে দিয়েছিলেন জয়। কিন্তু তারা এবার দল ছেড়ে চলে গেছেন। জাতীয় দলের সাবেক গোলকিপার আমিনুল নেই এবার।
তরুণ এবং পুরানোদের নিয়ে এবারের বিজেএমসি। দলটিতে পুরানো কিছু ফুটবলার ধরে রেখে সাথে তরুণ ফুটবলারদের জায়গা দেয়া হয়েছে। নিজেদের বাছাই করা, তৃতীয় বিভাগ লিগের, শেখ জামাল ফুটবল একাডেমি থেকেও তরুণ খেলোয়াড়দের স্থান দিয়েছে বিজেএমসি। অধিনায়ক থাকছেন অমিত খান শুভ্র।
বিজেএমসির ২৯ ফুটবলারের মধ্যে রয়েছেন চার গোলকিপার, হিমেল, আরিফুল ইসলাম, নাঈম, করিম। রাজীব, রনি, শাকিল, সুমন, ওমর ফারুক বাবু, আব্দুল্লাহ পারভেজ, ফয়সাল আহমেদ, জিকু, মোকলেসুর রহমান, আকবর কানন, সাইফুল ইসলাম সাইফ, মেহেদী হাসান তপু। তরুণদের মধ্যে রয়েছেন শোয়েব মিয়া, মোসাদ্দেক খান মুরাদ, স্বপন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আরিফ হোসেন। দলে যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার মাহমুদুল হাসান, ব্রাদার্স থেকে খান মোঃ তারা, ফেনীর সকার ক্লাবের রেদওয়ান বিন রাকিন, আমিনুর রহমান সজীব, লুত্ফর রহমান নয়ন, শেখ জামালের মাসুদ রানা, আরামবাগের অং থাওয়াই চিং মারমা রয়েছেন।
