চিনির চেয়ে গুড়ের দাম বেশি

এক লাখ ৩৮ হাজার টন চিনি উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:১৩
আসন্ন উত্পাদন মৌসুমে (২০১৩-২০১৪) চিনি শিল্প করপোরেশনের অধীন ১৫টি চিনিকলে ১৮ লাখ ৬০ হাজার টন আখ মাড়াই করে এক লাখ ৩৮ হাজার একশ’ ৫০ টন চিনি উত্পাদান লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। চিনিকলগুলো হচ্ছে, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, সেতাবগঞ্জ, শ্যামপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, নর্থ বেঙ্গল, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, কুষ্টিয়া, দর্শনার কেরু, মোবারকগঞ্জ, ফরিদপুর ও জিলবাংলা। এবার চিনি আহরণের হার ধার্য করা হয়েছে শতকরা ৭ দশমিক ৪৩ ভাগ। তবে এবার বিলম্বে চিনির উত্পাদন শুরু হবে। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে উত্পাদন শুরু হবে। চিনির উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নির্ভর করছে চাষিদের মিলে আখ বিক্রির আগ্রহের উপর। চাষি চিনিকলগুলোর চেয়ে বেশি দাম পেয়ে গুড় তৈরি ওয়ালাদের কাছে আখ বিক্রি করে থাকে। বর্তমানে চিনির চেয়ে গুড়ের দাম বেশি। খুচরা বাজারে এক কেজি চিনি ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর গুড় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ টাকা। ইতিমধ্যে গুড় তৈরি শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকায়। চিনি শিল্প করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা যায়, মিলগুলো গুদামে বিপুল পরিমাণ চিনি মজুত রয়েছে। দাম কমানোর পরও এ চিনি বিক্রি হচ্ছে না। গত বছরে উত্পাদিত ৫শ’ ২৩ কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ ৬ হাজার টন চিনি মিল গুলোর গুদামে পড়ে আছে। এ ছাড়াও বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ১২ হাজার টন চিনি করপোরেশনের চট্টগ্রামের গুদামে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এ চিনির মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমদানিকৃত এ চিনির দাম কমিয়ে প্রতি টন ৩৯ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাত্ প্রতি কেজি ৩৯ টাকা। করপোরেশনের ইক্ষু শাখার এক কর্মকর্তা জানান, এবার মিলগুলোর জোন এলাকাতে এক লাখ ৭৪ হাজার ৬ একরে আখ আছে। এ আখ থেকে ৪২ লাখ ৩৩ হাজার টন আখ উত্পাদন হবে। বীজ, চিবিয়ে খাওয়া ও গুড় তৈরিতে যাওয়ার পরও ১৮ লাখ ৬০ হাজার টন আখ মিলগুলো পাবে বলে উক্ত কর্মকর্তা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গত মাড়াই মৌসুমে (২০১২-২০১৩) ১৭ লাখ ৪৫ হাজার টন আখ মাড়াই করে এক লাখ ২৯ হাজার ৭৫ টন চিনি উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আখের অভাবে মিলগুলো মৌসুমের মাঝ সময়ে বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। ১৫ লাখ ৬২ হাজার ৩শ’ ১৪ টন আখ মাড়াই করে এক লাখ ৭ হাজার ২শ’ ৩০ টন টিনি উত্পাদন হয়। চিনি রিকভারির শতকরা হার ছিল ৬ দশমিক ৮৫ ভাগ। উত্পাদন খরচের চেয়ে কম দামে চিনি বিক্রি করায় করপোরেশনের গত অর্থ বছরে (২০১২- ২০১৩ ) পৌনে ৩শ’ কোটি টাকা লোকসান হয় বলে জানা যায়। দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা ১৫/১৬ লাখ টন। দেশে উত্পাদিত চিনি এবং বিদেশ থেকে আমদানিকৃত র-সুগার দিয়ে দেশের রিফাইনারিগুলোর উত্পাদিত চিনি দিয়ে চাহিদা মিটানো হয়ে থাকে।