গাজী সাজ্জাত হোসেন সিনিয়র শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মাদ পাবলিক কলেজ
দ্বাদশ অধ্যায়
২। নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ্য এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
‘খ’ ব্যাংকে কর্মরত জনাব করিম সাহেব ঈদের জন্য ব্যাংক থেকে নতুন টাকার নোট তুলে আনলে তার ৭ বছরের কন্যা সব টাকা নোটের উপর ‘ক’ ব্যাংকের নাম লেখা কেন তা জানতে চায়।
ক) কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোন ব্যাংকের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে? ১
খ) বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ হিসাবে কী জমা রখে? ব্যাখ্যা কর। ২
গ) ‘ক’ ব্যাংক কী ধরনের ব্যাংক? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ) ‘খ’ ব্যাংকের তারল্য সংকটে ‘ক’ ব্যাংক কী ভূমিকা রাখবে? আলোচনা কর। ৪
সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর:
ক. জ্ঞান; কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
খ. অনুধাবন: বাণিজ্যিক ব্যাংক তার আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রিজার্ভ হিসাবে জমা রাখে যা উভয়কে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আবদ্ধ করে।
ব্যাংকের আমানতকারীর অর্থ স্বার্থ রক্ষার্থে এবং তারল্যতা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রত্যেক তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক আমানতকারীর একটা নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ হিসাবে জমা রাখে।
গ. প্রয়োগ:কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নোট ও মুদ্রা প্রচলন ও নিয়ন্ত্রণ করা।
উদ্দীপকে উল্লেখ ‘ক’ ব্যাংকটি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করে। ‘ক’ ব্যাংকের উত্পত্তি হয় সুসংগঠিতভাবে দেশের মুদ্রাবাজার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থেকেই। এটি একটি জনকল্যাণমূলক অমুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠান। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় সরকারের মালিকানায়, ‘ক’ ব্যাংকের প্রধান কার্যাবলি মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ, চাহিদা অনুযায়ী নোট ও মুদ্রা প্রচলন, ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের অনুকূলে ব্যাংকিং কার্যক্রম উন্নয়নে ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা। এছাড়া দেশের যাবতীয় বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের পক্ষে ব্যাংক হিসাবে কাজ করা।
‘ক’ ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলা হয় কারণ-কেন্দ্রীয় সকল কাজ করে।
ঘ. উচ্চতর দক্ষতা:কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সকল ব্যাংকের ব্যাংকার বলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা।
উদ্দীপকের ‘খ’ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ক’ এর নিকট জামানতের একটি অংশ জমা রাখে। উক্ত জমাকৃত অর্থ ব্যাংকের আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষার্থে ও তারল্য সংরক্ষনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তারল্য সংকটের সময় ‘খ’ ব্যাংক যখন অন্য কোনো উত্স হতে অর্থ প্রাপ্তিতে ব্যর্থ হয় তখন একমাত্র ‘ক’ ব্যাংকই ঋণ প্রদান করে সাহায্য করে থাকে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের তারল্য সংকটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাহায্য করে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংককে তারল্য সংকট থেকে মুক্তি দিয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকে বিভিন্ন সহায়তা করে থাকে।
অর্থাত্ কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজারের অভিভাবক বা মুরব্বি বলে দেশের অর্থ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক সংকটের সময় ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখে।
