এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা ও পৌরনীতি

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৩২
বাংলা দ্বিতীয়পত্র মো. দিলওয়ার হুসাইন প্রভাষক, বাংলা প্রসঙ্গ : পত্র রচনা বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ভালো নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে পত্র রচনা বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে । সাধারণত পত্র রচনা আংশে ব্যক্তিগত পত্র , বাণিজ্যিক পত্র , পত্রিকায় প্রকাশ উপযোগী পত্র , চাকরির আবেদন পত্র ও নিমন্ত্রণ পত্র গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। নিচে একটি নিমন্ত্রণ পত্রের নিম্নে নমুনা দেয়া হল : প্রশ্ন : তোমার কলেজে আয়োজিত সাংস্কৃতিক সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য একটি নিমন্ত্রণ পত্র রচনা কর । উত্তর : সুহূদ আসছে ২৫ নভেম্বর ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ রোজ — সোমবার , সকাল — ১০:০০ ঘটিকায় ‘ক’ জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ক’ সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে সপ্তাহ ব্যাপি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে । অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড.সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন । এতে সভাপতিত্ব করবেন কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মো. ইউনুছ মিয়া । উক্ত অনুষ্ঠানে আপনার/ আপনাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলবে । নিবেদক ‘ঝ’ শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ‘ক’ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নভেম্বর ০৩,২০১৩ খ্রি ঃ ** অনুষ্ঠান সূচি *২৫ নভেম্বর ,২০১৩ ( উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ) * ১০:০১ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন । * ১০:১০ মিনিটে অতিথিবৃন্দের আসন গ্রহণ । * ১০:২০ মিনিটে পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠ । * ১০:২৫ মিনিটে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা ও প্রধান অতিথির শুভেচ্ছা বক্তব্য । * ১১: ০১ মিনিটে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা । *০৩ :০১ মিনিটে আমন্ত্রিত সঙ্গীত শিল্পীদের অংশ গ্রহণে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান । *০৫ :০১ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা । পৌরনীতি প্রথমপত্র মমিনুল ইসলাম মোল্লা প্রভাষক পৌরনীতি, সামছুল হক কলেজ হায়দরাবাদ মুরাদনগর, কুমিল্লা সৃৃজনশীল অংশ অধ্যায় ঃ ১৪.মানবাধিকার উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশানগুলোর জবাব দাও ঃ কুমিল্লার মেয়ে মুক্তা আক্তার যৌতুকজনিত কারণে স্বামীর সংসারে শান্তি না থাকায় কাঁচপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকুরি নেয়। সে ওভারটাইমসহ দৈনিক ১০ ঘণ্টা কাজ করে মাত্র ১০০ টাকা মজুরি পায়। একই অফিসে নরসিংদীর কামাল একই সময় কাজ করে পায় ১৫০ টাকা। মুক্তা আক্তারের মতো হাজার হাজার নারী দেশের বিভিন্ন গার্মেন্টসে কাজ করছে। তারাও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সম্প্রতি নারীরা তাদের এ বেতন বৈষম্য দূরীকরণের জন্য আন্দোলন শুরু করেছে। আন্দোলনের নেত্রী মনোয়ারা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন “ একই যোগ্যতা নিয়ে একই অফিসে কাজ করে বেতন কম পাবো কেন ? এ বৈষম্যের অবসান না হলে আমরা কেউ ঘরে ফিরে যাবোনা। ” প্রশ্নঃ ক. মানবাধিকার মানুষের কোন্ ধরণের অধিকার ? উত্তর ঃ মানবাধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। খ. মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের পার্থক্য লিখ। উত্তর ঃ মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ ঃ পার্থক্যের বিষয় মৌলিক অধিকার মানবাধিকার ১. উত্স মৌলিক অধিকারের উত্স সংবিধান মানবাধিকারের উত্স হলো জাতিসংঘ। ২.পরিধি এর সীমানা রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে আবদ্ধ। এটি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে কার্যকর। ৩.বিকাশ রাষ্ট্রের চেতনাবোধ থেকে মৌলিক অধিকার বিকাশ লাভ করে। আন্তর্জাতিক চেতনাবোধ থেকে মানবাধিকার বিকশিত হয়। ৪.কার্যকারিতা মৌলিক অধিকার সহজেই কার্যকর করা যায়। মানবাধিকার সহজে কার্যকর করা যায় না। ৫.আশ্রয় লাভ এর বলে কোন ব্যক্তি অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় লাভ করতে পারে না। মানবাধিকারের বলে কোন ব্যক্তি নিজ রাষ্ট্রে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করলে অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় লাভ করতে পার। গ. উদ্দীপকের মুক্তা আক্তার ও অন্যান্য নারী শ্রমিকেরা কোন অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে ? ব্যাখ্যা কর। উত্তর ঃ উদ্দীপকের মুক্তা আক্তার ও দেশের অন্যান্য নারী শ্রমিকেরা সমানাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮/১ধারায় বলা হয়েছে “কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।” জাতিসসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী মানবাধিকার ভোগের বেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-গরীব, রাজনৈতিক পদমর্যাদা নির্বিশেষে সে যে কোন দেশেরই হোকনা কেন সমান মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করবে। বাংলাদেশ সাম্য নীতিতে বিশ্বাসী। সাম্যের অর্থ সকল ক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুসারে সকলকে সমান সুযোগ সুবিধা দান করা। আর্থ- সামাজিক ক্ষেত্রে সাম্য হচ্ছে যোগ্যতার নিরিখে সমান অর্থনেতিক ও সামাজিক অধিকারসমুহ ভোগ করার নিশ্চয়তা বিধান করা। এ অর্থে সাম্য বলতে বুঝায় কারো জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা না রাখা। আর্থ-সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় মানবাধিকার সাহায্য করে। মানবাধিকার ও আর্থ-সামাজিক সাম্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে সঠিকভাবে মানবাধিকার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে মুক্তা আক্তার ও বাংলাদেশের অন্যান্য নারী শ্রমিকরা সমানাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একটি রাষ্ট্রে একই ধরণের আইন ও বিচার ব্যবস্থা থাকে। এটি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। সামাজিক অধিকারগুলোর মধ্যে ন্যায়বিচার লাভের অধিকার অন্যতম। গার্মেন্টেসে কর্মরত সকল শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার রয়েছে। এক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে ব্যবধান করা উচিত নয়। এক্ষেত্রে সকলেরই সামাজিক মর্যাদা লাভের অধিকার রয়েছে। উদ্দীপকের মুক্তা আক্তার ও তার সঙ্গীরা সমানাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে অধিকার আদায়ে আন্দোলনে নেমেছে। স্বামীর সংসারে সুখ না থাকায় সে প্রথমে বাবার বাড়িতে চলে আসে। পরে এক প্রতিবেশী গার্মেন্টস কর্মীর পরামর্শে সে বেঁচে থাকার তাগিদে গার্মেন্টসে চাকুরি নেয়। সে এখানে দেখতে পায় তার সমান কাজ করে পুরুষ শ্রমিকরা পাচ্ছে ১৫০ টাকা আর তাকে দেয়া হচ্ছে মাত্র ১০০ টাকা। শুধু মাত্র মুক্তা আক্তার নয় দেশের হাজারো নারী শ্রমিক বঞ্চিত হচ্ছে। একারনে তারা অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনে নেমেছে। উদ্দীপকের ঘটনায় এ বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে। ঘ. উত্তর ঃ জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ অনুসারে বাংলাদেশ তার নাগরিকদের মানবাধিকার প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা লঙ্ঘিত হচ্ছে যা উদ্দীপকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঘটনায় ফুটে উঠেছে। নারী-পুরুষ সকলে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে একটি দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। বাংলাদেশে এটি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হলেও তা বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। ফলে এখানে ধনী-দরিদ্র, ও নারী-পুরুষের মাঝে বিরাট বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। এদেশের নারীরা শুধুমাত্র গার্মেন্টস সেক্টরেই নয় বিভিন্ন পেশায় তারা শ্রম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক যে পেশা ও বৃত্তি এবং ধর্ম ইত্যাদি ক্ষেত্রে নাগরিকরা স্বাধীনতা ভোগ করবে। কিন্তু বাস্তবে তার ভিন্ন চিত্র প্রতিফলিত হচ্ছে। গার্মেন্টস শিল্পে নারীরা যেমন উপেক্ষিত তেমনি সংসারেও তারা অবহেলিত। তার বাবা যৌতুক দিতে না পারার কারণে মুক্তা তার স্বামীর বাড়ি থেকে চলে আসতে বাধ্য হয়েছে। পরিশেষে আমরা বলতে পারি, মানবাধিকারের নীতি সকল দেশেই সমানভাবে প্রযোজ্য। এ নীতির সাথে বাংলাদেশ সংবিধানে গৃহীত মৌলিক অধিকারের বেশ মিল রয়েছে। তবে আমাদের দেশে মানবাধিকার নীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিথিলতা লক্ষ্য করা যায়।