বলা হয়ে থাকে রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙ্গার জন্য। কিন্তু তাই বলে শচীনের ৪৯ ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডও! ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারের বিশ্বাস, বিরাট কোহলি যে গতিতে এগোচ্ছেন তাতে তার পক্ষেই সম্ভব শচীনের এই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়া। ব্যাট হাতে কোহলির দুর্দান্ত ফর্ম আর ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করার বিস্ময়কর ক্ষমতাই গাভাস্কারকে এমনটা ভাবতে বাধ্য করছে। এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এই ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি একথা বলেন।
ডন ব্রাডম্যানের টেস্ট গড় আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শচীনের সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি; ক্রিকেটের বাণিজ্যিক দিক আর খেলাটির সংক্ষিপ্ত সংস্করণগুলোর দিকে ক্রিকেটারদের আসক্তির বিষয়গুলো বিবেচনা করলে রেকর্ডদুটোকে চিরস্থায়ীই মনে হয়। একই কারণে শচীনের ২০০ টেস্ট খেলার রেকর্ডও কেউ কোনদিন ছুঁতে পারবে এমন সম্ভাবনাও ক্ষীণ। আর অভিন্ন কারণেই গাভাস্কার মনে করছেন শচীনের ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডটি কোন একদিন হুমকির মুখে পড়তেও পারে।
সামপ্রতিক সময়ে আইসিসির বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দর্শক চাহিদার কথা বিবেচনায় ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর বেশি বেশি ওয়ানডে খেলার প্রবণতার কারণে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে সবাই অনেক বেশি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি বিবেচ্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই কোহলির ধারাবাহিকতা। শচীনের ৪৯ সেঞ্চুরির প্রথমটি এসেছে তার ৭৯ তম ওয়ানডেতে। সেখানে কোহলি তার প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন ক্যারিয়ারের চতুর্দশ ওয়ানডেতে। ১১৪ ওয়ানডে শেষে কোহলির ওয়ানডে সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন ১৭। সমসংখ্যক ম্যাচ শেষে শচীনের শতরানের সংখ্যা ছিল মাত্র আটটি। তাছাড়া অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কোহলির এই মুহূর্তে বয়স ২৫। এর পাশাপাশি গাভাস্কার আমলে নিচ্ছেন কোহলির ধারাবাহিক উন্নতির বিষয়টিও। টেস্টে ৩৪ সেঞ্চুরির মালিক এই সাবেক ওপেনার বলেন, ‘মানুষের ধারাবাহিক উন্নতির মূল ব্যাপারটা এখানেই। আমরা জানি টেন্ডুলকারের কিছু রেকর্ড ভাঙ্গা অসম্ভবই বটে। ২০০ টেস্ট ম্যাচ কিংবা ৫১ টেস্ট সেঞ্চুরির বিষয়গুলো তেমনই। তবে বিরাট যেভাবে খেলে যাচ্ছে, ৪৯ (ওয়ানডে) সেঞ্চুরির রেকর্ডটি তার পক্ষে ভাঙ্গা সম্ভবই মনে হচ্ছে। ভারত যে পরিমাণ ওয়ানডে খেলছে, তাতে অবশিষ্ট ৩২ সেঞ্চুরি করা তার পক্ষে খুবই সম্ভব। আমার মনে হয় এ মৌসুমেই সে নিজের সেঞ্চুরি সংখ্যাকে ২০ অথবা ২২ এ নিয়ে যেতে পারবে।’
ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি সংখ্যা ১৭। যেটিও কিনা বিশ্বরেকর্ড। আর কোহলির ১৭ সেঞ্চুরির মধ্যে ১১ টিই এসেছে রান তাড়ার সময়ে। অর্থাত্ টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙ্গতে কোহলির প্রয়োজন আর মাত্র সাতটি শতরান। অল্প বয়সেই ভারতের তারকা খচিত ব্যাটিং লাইনআপে নিজের আসন পাকা করে নেয়া কোহলির এই মানসিক সক্ষমতারও প্রশংসা ঝরেছে গাভাস্কারের কণ্ঠে, ‘সে দ্রুতই ম্যাচের পরিস্থিতি এবং মেজাজটা ধরতে পারে। সে প্রতিপক্ষের সবল কিংবা দুর্বল দিকগুলোও খুব সহজে বুঝতে পারে। তার ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারার পেছনে এই গুণগুলোই কাজ করছে।’
সৌরভ গাঙ্গুলী, রাহুল দ্রাবিড়, শচীনদের অবসরের পর ব্যাটিং অর্ডারের তিন নম্বরে কোহলির মতো দুর্দান্ত একজন ব্যাটসম্যানকে পাওয়ায় ভারতীয় দল দারুণ লাভবান হচ্ছে জানিয়ে গাভাস্কার আরো বলেন, ‘ভারতের সৌভাগ্য যে তারা বিরাটের মতো একজনকে এই মুহূর্তে দলে পেয়েছে। কোহলি তার ক্যারিয়ারের শুরুর সময়টাতে শচীন, বিরেন্দর শেবাগ, রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষণদের মতো ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতার পরশ পেয়েছে। আর এই অভিজ্ঞতাকে মাঠে সে দারুণ ভাবে কাজেও লাগাচ্ছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
