ঠোঁটে শচিনের রেকর্ড আর হাতে চাকরির আবেদন

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ২১:০২
হরিয়ানার তানোয়ার। পেশায় রাজমিস্ত্রি। শিক্ষাগত যোগ্যতা দশম শ্রেণী পাস। আর্থিক কষ্টেই কাটছে সংসার। কিন্তু ক্রিকেটে ভক্ত শচিন টেন্ডুলকারের। টেন্ডুলকারের যে কোন টেস্ট ম্যাচের স্কোর তার মুখস্থ। আপনি কেবলমাত্র টেন্ডুলকারের টেস্ট ম্যাচের নম্বরটা বলবেন তাকে। আর অনায়াসে চোখের পলকেই তানোয়ার বলে দেবেন- সে ম্যাচে টেন্ডুলকারের রান। ইতোমধ্যেই টেন্ডুলকারের সঙ্গে দেখা করে বিখ্যাত হয়ে গেছেন তানোর। বিখ্যাত হলেও পেট-সংসারতো আর চলে না। তাই আগামী মাসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে যাওয়া শচিনকেই একটা চাকরি দিয়ে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তানোয়ার। ভারতের মিড ডে পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘সোমবার মুম্বাইর ড্রেসিং রুমে আমি শচিনজির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছি। চার পৃষ্ঠার একটি চিঠি আমি তাকে দিয়েছি। আমি আমার নিজ সম্পর্কে, জীবন ও জীবিকা এবং সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছি। আমার নিজের ও স্ত্রীর জীবন ধারণের জন্য আমাকে একটি স্থায়ী চাকরি দিয়ে সাহায্য করার জন্যও আমি তাকে অনুরোধ করেছি।’ তানোয়ার আরো বলেন, ‘শচিনজি একজন মহান ব্যক্তি। আশা করি তিনি আমার সমস্যাটা বুঝতে পারবেন। তাকে উত্সর্গ করে চিঠিতে আমি একটা কবিতাও লিখেছি।’ তানোয়ার এবং তার স্ত্রী গত জানুয়ারি মাসে দিল্ল¬ীতে শচিনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। সে সময়ও তিনি একই অনুরোধ জানান এবং তার ভাষ্য অনুযায়ী শচিন তাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতিও দেন। হরিয়ানা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা তানোয়ারকে শচিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং এই সাক্ষাতের পর বিস্মিত হন লিটল মাস্টার। ৩২ বছর বয়সী তানোয়ার বলেন, ‘শচিন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন— তার ১৫৫তম টেস্টে তিনি কত রান করেছেন। আমি বলেছি চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সে ম্যাচে শচিন ৩৭ ও ১০৩ রান করেছেন এবং ভারত খেলাটিতে জয়ী হয়েছিল। এরপর তিনি তার ১৩০তম টেস্টের রান জানতে চান। আমি তাকে বলেছি এটা ছিল নাগপুর টেস্ট এবং তার স্কোর ছিল যথাক্রমে ১৬ এবং ২৮।’ টেন্ডুলকার তার ৮০তম ও ১৬তম টেস্টের স্কোরও জানতে চান। সাথে সাথে বলে দেন তানোয়ার। তার উত্তরে বিস্মিত হয়ে টেন্ডুলকার কেবলমাত্র একটি হাসি দেন এবং অটোগ্রাফসহ মুম্বাই দলের একটি টি-শার্ট দেন তাকে। বাসস