সংলাপের মাধ্যমে
সুষ্ঠু নির্বাচন
হওয়া সম্ভব
বর্তমানে উভয়পক্ষই শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। উভয়ের এই শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান দেবে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তবে শক্তি প্রদর্শন গণতন্ত্রের ভিত্তি হতে পারে না, গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো। বর্তমানে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের জন্য ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল উভয়কেই আন্তরিক হতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ ও জাতির অগ্রগতির স্বার্থে রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে একে অপরের প্রতি আস্থা এনে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা অধিক জরুরি। এক্ষেত্রে দলগুলোকে একে অপরের প্রতি কুিসত ও নোংরা বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পরিশেষে আমরা আশাবাদী হতে চাই যে, দুই নেত্রী দেশ ও জনগণের স্বার্থে সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাবেন।
মো. আবু বক্কর সিদ্দীক
এম বি (আই বি এ)
০০০০০
নিরপেক্ষ একজনকে প্রধান উপদেষ্টা করলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
দু’দলের প্রধানের কাছে সাধারণ মানুষের চাওয়া “নিজের চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়” এই নীতিতে বিশ্বাস করে সমঝোতায় বসুন। আমার মনে হয় দুই দলই যদি নমনীয় হয়ে সমঝোতা একান্তই চায় তাহলে আওয়ামী লীগ হতে ৫জন এবং বিএনপি থেকে ৫জন সাধারণ উপদেষ্টা নিয়ে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাকে ও খালেদা জিয়াকে সহকারী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান করে (নতুন পদ সৃষ্টি সম্ভব করে) যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ করে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়া উচিত। অন্যথায় এই দু’দলের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ও সমঝোতার পথ অবরুদ্ধ রাখার ফলে অরাজনৈতিক কোন শক্তির আবার উত্থান হতে পারে। যা আমাদের দেশের উন্নয়নের বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করি।
মো. খলিলুর রহমান
দর্শন বিভাগ, অনার্স ৪র্থ বর্ষ
কারমাইকেল কলেজ,
রংপুর
০০০০০
নির্বাচন সুষ্ঠু হতে
হলে সমঝোতার
বিকল্প নেই
নির্বাচনী সংস্কৃতির পরিবেশ গড়তে হলে আমাদের ইসি হতে হবে নিরপেক্ষ। জ্বি হুজুর করার বাধ্য-বাধকতা অপসারণ করে স্বাধীনভাবে কমিশন পরিচালনা করতে দিতে হবে। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সব ক্ষমতাসীন সরকারকে তার শেষ পর্যায়ে সব দলের ঐকমত্যে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সমঝোতায় যেতে হবে। পাশাপাশি বিরোধী দলেরও সেরকম মানসিকতা থাকতে হবে। মনগড়া সিদ্ধান্তে কখনো ফল আশা করা যায় না। ক্ষমতার লোভে ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধনের পথ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রশাসনিক স্তরে দলীয়ভাবে অদক্ষ কর্তাদের হাই লেভেলে রদবদল ও পদোন্নতি দিয়ে উচ্চাভিলাষী আশা বন্ধ করতে হবে। তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আব্দুর রহমান ফুয়াদ
৩য় বর্ষ, আরবি বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০
নিরপেক্ষ একজনকে প্রধান করে নির্বাচন পরিচালনা করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোন ব্যক্তি নিরপেক্ষ হতে পারেন কিন্তু নির্দলীয় নন। আমাদের দেশে এমন অনেক ব্যক্তিই আছেন যারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেন কিন্তু কোন না কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি তার দুর্বলতা বা আন্তরিকতা রয়েছে। আমি এক্ষেত্রে বলব, কোন ক্ষুদ্র পরিসরের রাজনৈতিক দল দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা বা রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব নয়। তাই, বৃহত্ রাজনৈতিক দলসমূহের দাবিকে অধিকতর গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করে একজনকে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ হিসাবে মেনে এবং তাকে প্রধান করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তথা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে যেখানে নির্বাচন কমিশনকেও শক্তিশালী, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থাকতে হবে। সুতরাং শক্তিশালী, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং প্রধান দুই রাজনৈতিক দলসহ সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে একক ঐকমত্যে পৌঁছতে পারলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।
মো. ইয়াছিন উদ্দিন
বিএসসি অনার্স ৩য় বর্ষ,
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ,
সরকারি শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা
