ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকের দুদিন পর বাজার নিয়ন্ত্রণে আজ শনিবার থেকে আবার খোলাবাজারে পিঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে পিঁয়াজ বিক্রি করা হবে। রাজধানীর ২৫টি স্থানে এবং বিভাগীয় ও জেলা শহরে ১৭৪টি স্থানে খোলাবাজারে পিঁয়াজ বিক্রি করা হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত কিছুদিন ধরে পিঁয়াজের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে সরকার উদ্বিগ্ন। ঈদের আগে প্রতিকেজি পিঁয়াজের দাম ১’শ টাকার নিচে থাকলেও ঈদের পরে তা ছাড়িয়ে যায়। গতকাল খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পিঁয়াজ মানভেদে ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও আমদানিকৃত পিঁয়াজ ৮৫ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়। ফলে নড়েচড়ে বসেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। গত ৩০ অক্টোবর পিঁয়াজ আমদানিকারক ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকে বসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বৈঠকে নতুন করে পিঁয়াজের দাম আর বাড়বে না বলে ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতি দেন।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ভারত ও মিয়ানমার থেকে পিঁয়াজ আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান থেকেও পিঁয়াজ ক্রয়ের এলসি খোলা হয়েছে; যা খুব শিগগির দেশে আসবে। এছাড়া অল্প দিনের মধ্যে নতুন পিঁয়াজ বাজারে আসবে। ফলে নতুন করে পিঁয়াজের দাম বাড়ার আর কোন কারণ নেই। তবে সূত্র জানিয়েছে, সরকার ব্যবসায়ীদের এ প্রতিশ্রুতি পেয়ে বসে না থেকে টিসিবির মাধ্যমে আবার পিঁয়াজ বিক্রি শুরু করছে। তবে এবার পিঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে। ঈদের আগে টিসিবি প্রতিকেজি পিঁয়াজ ৫৫ টাকায় বিক্রি করলেও এবার ১০ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ূন কবীর বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় টিসিবিকেও দাম বাড়াতে হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে পিঁয়াজের দাম কবে থেকে কমতে পারে এ প্রসঙ্গে গতকাল কাওরান বাজারের পাইকারী পিঁয়াজ ব্যবসায়ী লোকমান বলেন, চলতি মাসের শেষের দিকে দেশীয় নতুন পিঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করবে। এছাড়া ভারতের নাসিক পিঁয়াজ বাজারে ওঠা শুরু হয়েছে। খুব শিগগির বাজারে পিঁয়াজের সরবরাহ বাড়বে। আর সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে।
