এবার লক্ষ্য ‘বাংলাওয়াশ’

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৩৪
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের শুরু থেকেই ঘুরে ফিরে আলোচিত হচ্ছিল ২০১০ সালে ব্ল্যাক ক্যাপদের ৪-০ ব্যবধানে হারানোর সুখস্মৃতি। এর মধ্যেই সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে সফরকারীদের কোনঠাসা করে ফেলেছে মুশফিকুর রহিমের দল। সঙ্গত কারণেই আগামীকাল রবিবার বিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার প্রাক্কালে স্বাগতিকদের লক্ষ্য ‘বাংলাওয়াশ’। গতকাল শুক্রবার সিরিজ জয়ের পরদিন এমন লক্ষ্যের কথাই জানালেন দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়রা গতকাল অনুশীলনে যায়নি। হোটেলে অবসর সময় কাটান নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়রা। অপরদিকে জুম্মার নামাজের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও চলে যান নিজ নিজ বাসায়। একদিন বাদে আজ আবার শুরু হচ্ছে দুদলের অনুশীলন। সকালে অনুশীলন করবে বাংলাদেশ; বিকেলে নিউজিল্যান্ড। আগামীকাল ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি। স্বাগতিক দলের ম্যানেজার ও ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আকরাম খান গতকাল সকালে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টির কথা জানান। তিনি ‘বাংলাওয়াশে’র লক্ষ্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রথম দুটি ম্যাচে ছেলেরা অনেক ভাল খেলেছে। সিরিজে আর একটা ম্যাচ বাকি। পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে অবশ্যই হোয়াইট ওয়াশ সম্ভব।’ সোহাগ গাজীও জানালেন, শেষ ম্যাচটাকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে সেরা হওয়া এই খেলোয়াড় বলেন, ‘সিরিজ জয় হয়ে গেছে বলে যে আমরা শেষ ম্যাচকে হালকা করে দেখবো, সেটা ভাবলে ভুল হবে। সেই ম্যাচেও আমরা নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিয়েই খেলবো।’ তার সাথে গলা মিলিয়ে আগের দিনেই অভিষিক্ত ওপেনার শামসুর রহমান শুভ বলেন, ‘শেষ ম্যাচে আমরা অবশ্যই জয়ের জন্য খেলবো। আশা করি আমরা জিতবো।’ গত বছর এশিয়া কাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত এক জিম্বাবুয়ে সফর বাদ দিলে কোন ওয়ানডে সিরিজেই হারেনি বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ হারও সেই ২০১১-১২ মৌসুমে, পাকিস্তানের বিপক্ষে। র্যাংকিং যাই বলুক না কেন, সামপ্রতিক সময়ের পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে, দ্রুতই উন্নতি করছে বাংলাদেশ। আকরাম খান সেই প্রসঙ্গ টেনেই বললেন, ‘সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশ অনেক ভাল ক্রিকেট খেলছে। আর দেশের মাটিতে আমরা সব সময়ই শক্ত প্রতিপক্ষ। সেটা অবশ্যই আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। তবে শুধু দেশেই নয়, এখন আমাদের দেশের বাইরেও ভাল পারফর্ম করতে হবে।’ অনেকদিন পর দলে ফিরেই নৈপুণ্যে জ্বলে উঠলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ডেঙ্গু জ্বরের কারণে খেলতে পারছেন না সাকিব আল হাসান। গত শ্রীলঙ্কা সিরিজেও ছিলেন না সাকিব। সাকিবের অবর্তমানেও ভাল পারফরম্যান্সের মধ্যে আছে বাংলাদেশ দল। আকরাম খানও অনেক গুরুত্ব দিয়েই ব্যাপারটা দেখছেন, ‘আগে আমাদের দুই একজন ছাড়া বাকি কেউ পারফরম করতে পারতো না। এখন পারফরমারের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে দলের তারকা খেলোয়াড়রা অনেক বেশি সাপোর্ট পাচ্ছেন। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক।’ গত মঙ্গলবারেরটি নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা ষষ্ঠ ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ। অথচ একটা সময় ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করাই ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় ব্যাপার। এই ব্যাপারে সোহাগ গাজী বলেন, ‘ওই সময় টিভিতে খেলা দেখতাম। অনেক মন খারাপ হত। কিন্তু সেই সময়টা আমরা পিছনে ফেলে এসেছি। এখন যে কোন দলের বিপক্ষেই আমরা জয়ের জন্য মাঠে নামি। আগামী ম্যাচেও আমাদের সেই লক্ষ্যই থাকবে।’ আর সেটা হলে তো নতুন আরেকটি ইতিহাস রচনা করে ফেলবে বাংলাদেশ!