রাত জেগে টিকেট কেনা, রোদের প্রখরতায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, মোড়ে মোড়ে টিকেট নিয়ে উত্সবমুখর, কখনো উত্তেজনাময় পরিবেশ: নারায়ণগঞ্জকে দেখলে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে আলাদা বলেই মনে হচ্ছে। কারণ একটাই আজ রবিবার এই জেলার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে জমবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচেও বাংলাদেশের আরেক জয় দেখতে মুখিয়ে আছে এখন নগরটি।
খেলা উপলক্ষে স্টেডিয়ামের আশপাশ এলাকা এখন সেজে উঠেছে। লাল সবুজের বিশাল বিশাল পতাকা শোভা পাচ্ছে স্টেডিয়ামের আশপাশে। স্টেডিয়ামের আশেপাশে যেখানে ছিল ময়লা আবর্জনার বিশাল স্তূপ সেখানে চলছে পরিচ্ছন্নতার কাজ। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গা, গর্ত স্থান মেরামতের কাজ চলছে।
তবে সবচেয়ে বড় কান্ডটা হয়ে গেল টিকেট নিয়ে।
নারায়ণগঞ্জ শহরে গত দুইদিন ধরেই টিকেট নিয়ে লঙ্কাকান্ড চলছে। শুক্রবার সকালে সংঘর্ষের পর রাত জেগেই লোকজন টিকেটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল টিকেট কেনার লাইন।
এদিকে রয়েছে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় স্টেডিয়ামে। মাঠের গ্যালারী, মাঠ, আউটফিল্ড, পিচ, স্কোর বোর্ড সবকিছুই প্রস্তুত। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচ্ছন্নতা আর ধোয়া মোছার কাজ। নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা।
খান সাহেব ওসামন আলী জাতীয় স্টেডিয়ামের ভেন্যু ইনচার্জ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘১৮ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামটিতে সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’
খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করছে বেসরকারি টিভি চ্যানেল জিটিভি। এ টিভি স্টেশনের পক্ষে শুক্রবার মাঠে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলে। মাঠের চারদিকে ১৭টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
নিরাপত্তার জন্য স্টেডিয়ামের ভেতর ও বাইরে নিরাপত্তা রক্ষায় মোট ৬৯টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বাকী ১২টি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম জানান, ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ পুলিশ খেলার দিন নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলা পুলিশ প্রশাসন, র্যাব ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দফায় দফায় পরিদর্শন করছেন ভেন্যু এলাকা। এখন শুধু মাঠে ব্যাট-বলের লড়াই শুরুর অপেক্ষা।
