মাঠে তার একটা শট, একটা উইকেট যেভাবে গ্যালারিভর্তি দর্শককে উন্মাতাল করে দেয়, তাতে বুঝতে কষ্ট হয় না যে, এখনও মাশরাফি বিন মুর্তজাই দর্শকের নায়ক। এই সিরিজে আরেক দফা ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে বোলিং পারফরম্যান্স দিয়েই ভক্তদের সেই ‘নায়ক’ নিজের নাম রেখেছেন। আজ সিরিজের শেষ ম্যাচে তিনি খেলুন আর নাই খেলুন, দলকে নিয়ে এবং দলের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বললেন গতকাল—
ফিরে যে পারফরম্যান্স করলেন, তাতে নিজে কী সন্তুষ্ট?
আসলে আমার সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কিছু হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে এখন যে গতিটা পেয়েছি, সেটা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকদিন পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছি। শারীরিক, মানসিক চাপ থাকে। সেটা কাটিয়ে যে গতি পেয়েছি, সেটা ধরে রাখতে চাই।
বাংলাদেশ দল যে এখন নিয়মিত এই জিতছে, কতোটা পরিবর্তন দেখছেন?
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে মানসিকতায়। আমরা দুটো ম্যাচ জিতেছি, কিন্তু সেরা খেলাটা এখনও খেলিনি। অনেক জায়গায় ভুল ছিল, তারপরও আমাদের জয়ের কারণ এই যে মানসিকভাবে নিজেদের বদলে ফেলা, এটাই।
সিরিজ জয়ের পর সবাই একটু নির্ভার হয়ে আছেন?
নির্ভার বা রিল্যাক্সড হওয়ার জায়গায়ই নেই। আমরা বিশ্ব ক্রিকেটে এমন কোনো দল হয়ে যাইনি যে, আমরা সিরিজ জিতে গেছি, এজন্য নির্ভার হয়ে যাবো। আমাদের এমন কোনো সুযোগই নেই। আমাদের উন্নতি করার জায়গা আছে। আগেও বলেছি শেষ দুটি ম্যাচে আমরা নিজেদের সেরাটায় ছিলাম না। সেই সেরাটা খেলার জন্য পরিশ্রম করে যেতে হবে।
আমাদের উইকেট সাধারণত স্পিন সহায়ক হয়; তার মধ্যেও পেসাররা ভালো করছে। এটা কীভাবে দেখছেন?
এটা খুব পজেটিভ ব্যাপার। সাধারণত সবাই আশা করে যে, পেস বোলাররা দু-একটা উইকেট নিয়ে স্পিনারদের কাজে সহায়তা করে দেবে। কিন্তু পেসাররা নিজেরাই যখন এরকম ম্যাচ জেতায়, সেটা খুবই ভালো ব্যাপার। তবে আমি বলবো স্পিনাররা কিন্তু শেষ দুইটা ম্যাচ ভালো বোলিং করেছে।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের পারফরম্যান্সে আপনারা একটু অবাক হয়েছেন?
না। শেষ চারটা মাস আমরা অনেক কষ্ট করেছি। ফিটনেস নিয়ে প্রথম এক-দুই মাস কাজ করেছি। তারপর স্কিল শুরু করেছিলাম। অবশ্যই আমাদের কোচিং বিভাগ এবং একাডেমির কোচ, ট্রেনার, ফিজিও আছে তাদেরও ধন্যবাদ। আমি মনে করি, চারটা মাস যে আমরা কষ্ট করেছি সেটারই ফল এটি।
শেন বন্ড বলছে, বাংলাদেশের পক্ষে দেশের বাইরে এরকম পারফরম্যান্স দেখানো কঠিন হবে। আপনি কী বলেন?
আপনি যে উইকেটেই জেতেন, যখন জেতা শিখবেন তখন আপনার আত্মবিশ্বাসটা ভালো থাকবে। এটা সত্যি, ওদের কন্ডিশনে গেলে কাজটা আরও অনেক বেশি কঠিন হবে। বল সুইং করবে। এই কন্ডিশনেই ওরা ৪-৫টা সিমার খেলাচ্ছে তো গেলেও একই কাজ করবে। আমাদের পেসারদের দায়িত্ব নিতে হবে। তবে এই কন্ডিশনে যদি আমাদের পেসাররা ভালো বোলিং করতে পারে, ওদের সিমিং কন্ডিশনেও ভালো করার কথা।
পরপর দুটো সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করাটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যার সঙ্গেই খেলেন না কেন, জিততে পারা আবার আধিপত্য বিস্তার করে জিততে পারার মাঝে অনেক ব্যাপার থাকে। কারণ আপনি ৩-০ তে যদি জিততে পারেন তাহলে বুঝাবে আপনি তাদের কোনো সুযোগই দেননি।
পেস বোলিংয়ে কতটা উন্নতি হচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটুকু হচ্ছে?
অবশ্যই হচ্ছে। প্রত্যেকটা জায়গায় উন্নতি হচ্ছে। দেখেন রুবেলকে কেউ ভাবেনি ৬ উইকেট পাবে। রুবেল কিন্তু অসাধারণ বোলিং করেছে। আমি আগেও বলেছি যে, ও যে স্পেলটা করেছে হয়তোবা ও ওর ক্যারিয়ারে কতবার করবে আমি জানি না। যারা বাইরে আছে, আল আমিন ভালো বোলিং করছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ও সেরা পারফরম্যান্স করেছে। ১৯টা উইকেট পেয়েছে। তারপর আমি আছি, জিয়া আছে; জিয়া অলরাউন্ডার।
