বার্সার জয় অব্যাহত

গোলহীন মেসির পাশে মার্টিনো

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:০০
এস্পানেয়লের বিপক্ষেও গোল পাননি লিওনেল মেসি। চোট থেকে ফেরার পর এই ম্যাচটিসহ টানা তিন ম্যাচে গোলশূন্য থাকলেন আর্জেন্টাইন তারকা। তবে এ্যালেঙ্সি সানচেজের একমাত্র গোলে শুক্রবার লা লিগায় এস্পানেয়লের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এর ফলে ক্যাম্প ন্যুতে নিজেদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখলো কাতালানরা। গোল না পেলেও কোচ জেরার্ডো মার্টিনোকে পাশেই পাচ্ছেন মেসি। মার্টিনো বলেন, ‘সব সময় আমি একটা কথাই বলি, খেলার পর তাকে (মেসি) নিয়ে আমি বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করি। সে আমাদের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।’ এই আর্জেন্টাইন কোচ আরো বলেন, ‘আমার মনে হয় না সে চিন্তিত। বাস্তবতা হলো পুরোটা ক্যারিয়ার জুড়েই সে মুখে এমন অভিব্যক্তি করে এসেছে। গত মৌসুমেও সে টানা ১৯ ম্যাচে গোল করেছে। সে গোল না করলেও গোলের যোগান দিচ্ছে।’ নেইমারের ক্রস থেকে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে সানচেজ জয়সূচক গোলটি করেন। এই নিয়ে এটি ছিল বার্সেলোনার হয়ে তার টানা তৃতীয় ম্যাচে গোল। যদিও টানা তিন ম্যাচে গোলবিহীন থাকা দলের অন্যতম মূল ভরসা লিয়নেল মেসি কালও হতাশ করেছেন। কোন গোল আসেনি এই গোল মেশিনের কাছ থেকে। এই জয়ে ১২ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে বার্সা বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের তুলনায় চার পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে। আর তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের তুলনায় তাদের পয়েন্টের ব্যবধান ৯। তবে উভয় দলই কাতালানদের তুলনায় একটি করে ম্যাচ কম খেলেছে। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত বার্সা কোচ জেরার্ডো মার্টিনো বলেছেন, ‘প্রথমার্ধে আমাদের বলের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ধীর গতির ছিল। কিন্তু এস্পানেয়লও ঐ সময়ের মধ্যে মাত্র একটি ভাল সুযোগ পেয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা বেশি প্রভাব বিস্তার করে খেলেছি। তাছাড়া পুরো ৯০ মিনিট প্রতিপক্ষ দলের বলের পিছনে তাড়া করে খেলাও বেশ কঠিন।’ তবে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা হতাশাজনক পারফরমেন্সের পরেও পুরো সপ্তাহ শতভাগ সাফল্য অর্জন করায় মার্টিনো স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, গত ছয় দিনে আমরা তিনটি ম্যাচ খেলেছি। এরমধ্যে ক্ল্যাসিকো ও ডার্বি ম্যাচ ছিল। সবগুলোতেই আমরা জিতেছি। ম্যাচগুলোতে আমরা ছয় গোল করেছি এবং একটিমাত্র গোল হজম করেছি। এমনকি একটি ম্যাচে স্টপেজ টাইমেও আমরা গোল করেছি। আমাদের পারফরমেন্স হয়ত সবসময়ই দুর্দান্ত ছিল না। কিন্তু আমরা বার্সেলোনার আদলেই খেলেছি এবং জয়গুলো আমাদের প্রাপ্য ছিল। সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে সপ্তাহের মাঝামাঝিতে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রাখার পরে গতকাল পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নেমেছিল স্বাগতিকরা। জেরার্ড পিকে, জেভিয়ার মাসচেরানো, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, নেইমার সবাই দলে ফিরেছেন। লেফট ব্যাকে ইনজুরি আক্রান্ত আদ্রিয়ানোর জায়গায় কাল খেলেছেন মার্টিন মনটোয়া। যদিও গত ১৩ দিনে পাঁচটি ম্যাচ খেলার ধকল স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে। প্রথমার্ধে প্রায় পুরো দলকেই বেশ পরিশ্রান্ত মনে হয়েছে। ম্যাচের শুরুতেই ইনিয়েস্তা এবং মেসির সহায়তায় এ্যালেঙ্সি সানচেজের একটি শট এস্পানেয়ল গোলরক্ষক কিকো ক্যাসিয়া রক্ষা করেন। কিন্তু প্রথমার্ধের মাঝামাঝিতে ম্যাচের সবচেয়ে ভাল সুযোগটি পেয়ে তা হাতছাড়া করে সফরকারীরা। ডানি আলভেসের পিছন থেকে এস্পানেয়ল মিডফিল্ডার ভিক্টর সানচেজের একটি প্রচেষ্টা গোলরক্ষক ভিক্টর ভালদেস তার লাইন থেকে বেরিয়ে এসে কোনরকমে রক্ষা করেন। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে ইনিয়েস্তার ভলি একটুর জন্য গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। এরপরপরই আলভেসের শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। বিরতির পরেও বার্সেলোনা একইভাবে আক্রমণ চালাতে থাকে। আর এস্পানেয়ল বার্সার জন্য অপেক্ষা করে ১০ জন খেলোয়াড়ই রক্ষণভাগে নিয়ে আসাতেই খুশী ছিল। ৫৪ মিনিটে মার্টিনোর খেলোয়াড়রা গোল খরা প্রায় দুইই করে ফেলেছিল। কিন্তু মেসির হেড দারুণ দক্ষতায় রক্ষা করেন ক্যাসিয়া। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের লো ক্রস থেকে সানচেজ দুজন ডিফেন্ডারের মধ্য থেকে বার্সাকে স্বস্তিদায়ক গোল উপহার দেন যা পরে স্বাগতিকদের জয়ের উপলক্ষ এনে দেয়।