একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশের ম্যাচ মানেই ছিল হারের মিছিল। সংবাদ সম্মেলনে মুখ কালো করে আসতেন অধিনায়ক। গত্বাঁধা কিছু কথা বলতেন। সেই সময়টা এখন অতীত। এখন নিয়মিত জয় পায় বাংলাদেশ। সংবাদ সম্মেলনেও তাই উজ্জীবিত থাকেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। এক হিসেবে গতকালের সংবাদ সম্মেলনটা ছিল এক বিশেষ মাইলফলক। র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা একটা দলের বিপক্ষে টানা দুইটি সিরিজ হোয়াইট ওয়াশ করার পরের সংবাদ সম্মেলন বলে কথা। আর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুশফিকও জানিয়ে দিলেন, এই ধরণের মাইলফলক সামনে আরো আসতে যাচ্ছে।
সিরিজ তো জিতলেন। এবার সামনের পরিকল্পনা কি?
মুশফিক: আপাতত আমরা টি-টোয়েন্টি ম্যাচটির দিকে ফোকাস করছি। অন্য দলে দেখা যায় একটি সিরিজে একজন ব্যাটসম্যান আড়াইশ থেকে তিনশ রান করে বা একজন বোলার ১০ থেকে ১২ উইকেট নেয়। আমাদের তো তেমন কেউ নেই। সে দিক থেকে বলে থাকলে আমরা যেমন চেয়েছিলাম তেমন হয়নি। তবে অনেকেরই অবদান ছিল। সম্পূর্ণ দলীয় প্রচেষ্টা। এই জিনিস নতুন হচ্ছে। আর আপ টু দ্য মার্ক হয়নি। শেষ দুইটি ওয়ানডেতে কিন্তু আমরা পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারিনি। আজ পরিকল্পনা ছিল আগে বা পরে ব্যাট করি আট ব্যাটসম্যান সম্পূর্ণ ব্যাট করবো। বিরতির সময় বলেছিলাম ৫০ ওভার প্রথম ৮ ব্যাটসম্যান খেললে আমরা জিতবো।
কোনটা এগিয়ে রাখবেন? ৪-০ না ৩-০?
মুশফিক: দুটোরই অনুভূতি অন্যরকম। ব্যক্তিগত ভাবে বললে আমি এটাকে এগিয়ে রাখবো। একটা ফলাফল হলে সেটাকে ধরে রাখা কিন্তু খুব কঠিন। এবার সেটা করেছি আমরা। আর আজকে যেটা করলাম আমাদের দুই সেরা পারফরমারকে ছাড়াই। এটা আমার কাছে মনে হয় ঐ সিরিজের চেয়ে অনেক বড় অর্জন।
দলে এখন অনেক পারফরমার। ব্যাপারটাকে কিভাবে দেখছেন?
মুশফিক: পারফরমারের সংখ্যা বেড়েছে। নাসির গত দুই ম্যাচে রান করেনি। আমি টেনশন করিস না বলছিলাম শেষ ম্যাচে যখন রান লাগবে তুই সেটা করবি। সাকিব সুস্থ থাকলে হয়তো নাঈম ভাই ?সুযোগও পেত না, সুযোগ পেয়েই উনি সেটা কাজে লাগিয়েছেন। সবাই আগের চেয়েও অনেক পরিণত। কষ্ট করছে তার ফল পাচ্ছে। আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলা, আমরা সেটি করতে পারবো। দেখেন, এখন বরং আমরা ভাবি, সাকিব ফিরলে কাকে ড্রপ দিয়ে কাকে খেলাব!
এই পরিবর্তনটা কিভাবে আসলো?
মুশফিক: আসলে এটা আস্তে আস্তে হয়েছে। নতুনরা এসে ভালো খেলছে। তরুণরা ভালো করায় সিনিয়র ক্রিকেটারদের ওপর চাপ বাড়ছে। নতুন আর সিনিয়র সব ক্রিকেটারই পারফরম করে নিজের জায়গা ধরে রাখতে চায়। এই সংস্কৃতি ধরে রাখতে পারলে আমরা যাওয়ার পরও বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক দূর যাবে।
দল হিসেবে বাংলাদেশের কাছে আপনার চাওয়া কি?
মুশফিক: আমার কোনো চাওয়া নেই। আমি চাইবো বাংলাদেশ দল যখন যেখানে যার নেতৃত্বেই খেলুক ধরাবাহিকভাবে জিতবে, ভালো খেলতে থাকবে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের জন্য কি চাপ অনুভব করেছেন?
মুশফিক: বাংলাওয়াশ নিয়ে বারবার শুনছিলাম। অনেক কনসার্ন ছিলাম। বিশ্বাস ছিল। সহজ নয়। খেলতে খেলতে সবাই শিখে। আমরা একজন আরেকজনের সঙ্গে শেয়ারের চেষ্টা করি। আমার কোনো সহায়তা লাগলে সবাই এসে সেটা করে। সবাই জানে চাপে কিভাবে ঠাণ্ডা থেকে ভালো খেলা যায়।
এমন একটা সিরিজের পর ড্রেসিংরুমের ভিতরের পরিবেশটা কেমন এখন? টি-টোয়েন্টির জন্য আলাদা কোন পরিকল্পনা?
মুশফিক: ৩-০ উপভোগ করতে চাই সবাই। টি-টোয়েন্টি ওরা খুব ভালো খেলে। যে কোনো কন্ডিশনে যে কেউ জিততে পারে। কঠিন প্রতিপক্ষ হবে। আমরা সেভাবে প্রস্তুতি নেয়ার চেষ্টা করবো। এখনো কাপ পাই নাই, শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজটা আরো উপভোগ করতে পারি।
টসে জিতে ফিল্ডিং নিলেন। এতোগুলো রান করে ফেললো নিউজিল্যান্ড। তারপরও কি আপনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন?
মুশফিক: আজকে ব্যাটিং করার মতোই উইকেট ছিল। গেম প্লান ছিল, সকালে ৫-১০ ওভার বোলাররা যেটুকু পায় সেটুকু সহায়তা নেবে। এ সময় এক-দুইটা উইকেট নিতে পারলে ওরা চাপে থাকতো; কিন্তু ওরা খুব ভালো করেছে। এক সময় মনে হচ্ছিল ওরা ৩৩০ বা তার বেশি রান করবে। এরপর বোলাররা ফিরে এসেছে যদিও শেষ ৪/৫ ওভারে অনেক রান হয়েছে। সেটা হতেই পারে। রস টেইলর যে কারোর বিপক্ষে এমন খেলতে পারে। এমন উইকেটে যেখানে আমাদের স্পিনাররাই নিজেদের ইচ্ছেমত বল করতে পারেনি সেখানে কিভাবে আশা করেন ওদের বোলাররা এর চেয়ে ভালো করবে। একটাই বার্তা ছিল- ওরা যদি পারে আমরা পারবো না কেন। ৩০৮ এখন খুব বড় লক্ষ্য নয়। চারজন ফিল্ডার বাইরে থাকে। যে কোনো সময় চড়াও হওয়া যায়। পাওয়ার প্লের সুবিধা থাকে। ভালো শুরু আর উইকেট রাখার পরিকল্পনা ছিল আমাদের।
