ক্রিকেটই এখন তারুণ্যের ইমেজ

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪২
আকাশে তখন সূর্য অস্তমিত প্রায়। গোধূলী লগ্নের সূর্যের লাল আভা তখনো জলন্ত আগুনের মতো ফুটে রয়েছে। তারপরও বাড়ি ফেরার নাম নেই। সিরিজ জেতার আনন্দ চলছেই। আনন্দে উদ্বেলিত ক্রিকেট অনুরাগীরা উত্সব করছেন। ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম এলাকায় গাছগাছালী থেকে অনেকেই ডাল ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। আর বলছেন এটা সিরিজ জয়ের স্মৃতি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ৪ উইকেটে জয়টা হাতে নিয়েই মুশফিক বাহিনী ক্রিজ থেকে স্ট্যাম্পগুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এটা স্মৃতি ধরে রাখার জন্যই করে থাকেন। কাল অনেকেই সেই অনুকরণ করলেন ফতুল্লায়। সাত বছর পর নারায়ণগঞ্জে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে প্রচুর দর্শক মাঠে হাজির হয়েছিলেন। গ্যালারি ভরা দর্শক ছিল। স্টেডিয়ামের বাইরেও ছিল দর্শক। অনেকেই টিকিট পাননি। স্টেডিয়াম এলাকায় গিয়ে হৈহুল্লোড় করেছেন তারা। আর এখন তো ক্রিকেট মানেই তরুণদের উপস্থিতি। যে পরিমাণ দর্শক মাঠে এসে খেলা দেখছেন। তার মধ্যে প্রবীণের উপস্থিতি কম। এদেশের তরুণ-তরুণীদের কাছে ক্রিকেটই এখন সবচেয়ে বড় ইমেজ। ক্রিকেট খেলাটা হলেই তারুণ্যের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। রং মেখে সং সেজে মাঠে তরুণদের উপস্থিতি সবার নজর কাড়ে। মাঠে এসে খেলা দেখতে না পারাটা তারুণ-তরুণীদের কাছে যেন হতাশার, দারুণ ব্যর্থতার। মাঠে ঢোকার আগে তরুণ-তরুণীরা গালে রং মাখেন, সেটিও করে দেন যিনি তিনিও তরুণ কিংবা তরুণী। ফতুল্লায় কাল এমন দৃশ্য ছিল অনেক। ঢাকা থেকেও খেলা দেখতে গিয়েছেন এমন অনেক তরুণ-তরুণী। ভাবীর হাত ধরে মুশফিকদের খেলা দেখতে গিয়েছে ননদ। মাঠ চেনেন না। নারায়ণগঞ্জের বাসে চড়ে ফতুল্লায় নেমে ভাবী-ননদ জানতে চাইছেন, এক্সকিউজমি, স্টেডিয়ামের গেটটা কোন দিকে? চোখে রোদচশমা লাগিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছিলেন শুলশান থেকে আসা একুশ বছরের তরুণী। কিন্তু তার হাতে থাকা পানির বোতল গেটে আটকে দেয়ায় শুরু হয়ে গেল চিত্কার-চেচামেচি। ইংরেজিতে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, ওহ শিট। টসে জিতে বাংলাদেশ ফিল্ডিং নিয়েছে। কেন মুশফিক এটা করলেন তা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে দারুণ ঝগড়া বেধে গেল রাজধানীর সোবাহানবাগ থেকে আসা দুই তরুণের মধ্যে। সিরিজটা জয়ের পর ওরাই একজন আরেকজনকে আলিঙ্গন করেছেন। শামসুর রহমান শুভ সেঞ্চুরি করতে না পারায় আফসোস করলেন নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজের ছাত্রী। ‘আর বলবেন না, শুভকে আমি পছন্দ করি। তবে তরুণদের দাবি আবার তারা ফতুল্লায় ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে চান। নারায়ণগঞ্জে বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। পার্ক বলতে যেটা রয়েছে তা বিনোদনের জন্যর জন্য যথেষ্ট নয়। অনেক দিন পর আবার ক্রিকেট ম্যাচ হতে যাচ্ছে বলে সকাল থেকেই স্টেডিয়ামমুখো হয় তরুণ-তরুণীরা। আর খেলা না থাকলে অলস সময় কাটে। এলাকার চাষাঢ়ার শহীদ মিনারে দিনরাত আড্ডা লেগেই থাকে। কাল সেখানে গিয়ে একজন তরুণ-তরুণীর দেখা পাওয়া গেল না। সেখানটা ছিল ফাঁকা। শহর ছিল নিস্তব্দ। নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা হাবিবুর রহমান বাদল জানান, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জয় করার পর সেখানে আনন্দ মিছিল হয়েছে। দিনের নিস্তব্দ শহীদ মিনার এলাকাটি সন্ধ্যার পর পুনরায় জমজমাট হয়ে ওঠে। সবার মুখে মুখে ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের গুণকীর্তন। নিউজিল্যান্ড হারলে হোয়াইট ওয়াশ হবে। এমন স্মৃতির সাক্ষী হতেই দর্শকের ঢল নামে স্টেডিয়ামে। শহরটা ছিল অঘোষিত হরতাল। ইলেক্ট্রনিকসের দোকানগুলোতে টিভিতে খেলা দেখার জন্য ভিড় ছিল। যেসব দোকানি টিভি বিক্রি করেন না, তারাও কাল টিভি বসিয়ে ছিল খেলা দেখার জন্য। সেখানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বাসাবাড়িতে পারিবারিকভাবে পিকনিক হয়েছে, খেলা উপলক্ষে। অফিসগুলোতে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বিনোদন কক্ষে ভিড় দেখা গেছে।