পাবনার সুজানগরের ক্রীড়াঙ্গন এখন নিস্তব্ধ প্রায়। বলতে গেলে উপজেলার কোথাও এখন আর তেমন খেলাধুলা হয় না। অথচ এক সময় সুজানগরের ক্রীড়াঙ্গন ছিল জমজমাট এবং প্রাণচঞ্চল। ওই সময় খেলার পুরো মৌসুমব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নানা রকমের খেলাধুলা হতো। বিশেষ করে ৯০’র দশকের দিকেও উপজেলার মানিকহাট সূর্যমুখী ক্লাব, সাতবাড়ীয়া স্পোর্টিং ক্লাব, সুজানগর ত্রিরত্ন ক্লাব এবং আদর্শ ক্লাবের উদ্যোগে আন্তঃজেলা ফুটবল, ভলিবল এবং হাডুডু খেলার আয়োজন করা হতো। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ওই খেলায় অংশ নিতেন। স্থানীয় দর্শকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ক্রীড়ামোদী দর্শক ওই খেলা দেখতে সুজানগরে ছুটে আসতেন। আর ওই খেলা উদ্বোধন করতে ওই সময় সরকারের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও সুজানগরে আসতেন।
এছাড়া তখন স্থানীয় ছোট-বড় ক্লাবের উদ্যোগে বলতে গেলে সারা বছরই ফুটবল এবং ভলিবলসহ কোন কোন খেলা সুজানগরের গ্রামগঞ্জে অনুষ্ঠিত হতো। শুধু তাই না সে সময় ওই সকল ক্লাবের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং ২১ ফ্রেরুয়ারীসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন করা হতো। সেই সাথে ক্লাবগুলো সমাজের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানেও ভূমিকা রাখতো। এ ক্ষেত্রে কোন কন্যাদায়গ্রস্ত বাবা-মায়ের কন্যাকে বিয়ে সম্পন্ন করার মত মানবিক কাজটিও করা হতো।
অথচ কালের বিবর্তনে ওই সকল ক্লাবের কার্যক্রম থেমে যাওয়ায় উপজেলার ক্রীড়াঙ্গন সম্পূর্ণভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে। তাছাড়া এলাকায় আগের মত খেলাধুলার মাঠও নেই। ওই সময় যেসব মাঠে খেলাধুলা হতো সেসব মাঠে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সুজানগর উপজেলা সদরের কাঁচারীপাড়ায় সরকারিভাবে একটি স্টেডিয়াম থাকলেও সেটি এখন গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম না থাকায় এখন আর ওই স্টেডিয়ামে তেমন খেলাধুলা হয় না। তাছাড়া প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে স্টেডিয়ামটি খেলাধুলার ব্যবস্থা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরিত্যক্ত হতে চলেছে স্টেডিয়ামের ধারাভাষ্য ভবনটি। এলাকার সচেতন মহল মাঠটি সংস্কারের মাধ্যমে খেলার উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
