[ রা জ নী তি ]

হরতালে সহিংসতায় নতুনমাত্রা সংকট বাড়াচ্ছে

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৪৩
দ্বিতীয় দফা ৬০ ঘণ্টার হরতালটি ‘শান্তিপূর্ণ’ হবে বলে বিরোধী দলের তরফ থেকে যা বলা হয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটবে বলে মনে হচ্ছে না। ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া প্রথম দফা ৬০ ঘণ্টার হরতালে প্রতিদিনই ৫-৭ জন করে মানুষ নিহত হয়েছেন। সে হরতাল শুরুর আগে কিন্তু বলা হয়নি, এটি অশান্তিপূর্ণ হবে। হরতাল আহ্বানকারী সব দলই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের কথা বলে থাকে। অশান্তি ঘটলে তার দায় চাপিয়ে দেয় সরকার পক্ষের ওপর। হরতাল এক সময় মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হতো এ দেশে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়েই সাধারণত ব্যবহার করা হতো হাতিয়ারটি। এতে আন্দোলন সমর্থনকারী জনসাধারণের এক ধরনের স্বতঃস্ফূর্ততার প্রকাশও ঘটতো। আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনেও হরতাল কর্মসূচির দায়িত্বশীল প্রয়োগ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তখন হরতাল ডাকা হতো খুব কম এবং এখনকার মতো জ্বালাও-পোড়াও হতো না বললেই চলে। এখন তো জ্বালাও-পোড়াওয়ের চেয়েও বেশি কিছু হচ্ছে। একে আমরা বলছি ‘সহিংসতা’। এটা যে কেবল হরতালের আহ্বান অমান্য করে চলা যানবাহনের ওপর হচ্ছে, তা নয়। পথের ধারে পার্ক করে রাখা বা নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা যানবাহনও পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে মহা উত্সাহে। এটা হয়ে পড়েছে হরতালের রাস্তায় টায়ার বা গাছের গুঁড়ি এনে জ্বালিয়ে দেয়ার মতো। প্রথম দফা ৬০ ঘণ্টার হরতালে ভোরবেলায় রাজধানীর একটি ডিপোতে ঢুকে বিআরটিসির নতুন কেনা দুটি দোতলা বাস পুড়িয়ে দেয়া হয়। কঙ্কাল হয়ে যাওয়া বাসগুলো দেখে অসহায় লাগে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের এ বাস দুটি তো জনগণের কষ্টের টাকায় কেনা। এগুলো যে হরতাল চলাকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর জন্য রাস্তায় নামানো হয়েছিল, তাও নয়। হরতাল আহ্বানকারীরা স্বভাবতই এ কাজের নিন্দা করেননি। অভিযুক্ত হলে তারা অবশ্য দুম করে বলে দেবেন, বিরোধী দলে থাকাকালে ক্ষমতাসীনরাও এমনতরো কাজ করেছিল। তারা আরও বেশি হরতাল ডেকেছিলেন বলেও বক্তব্য দেবেন এখনকার হরতাল আহ্বানকারীরা। তবে এটি তাদের স্বীকার করতে হবে, দিনকে দিন হরতাল পালনকারীরা হয়ে উঠছে আরও বেপরোয়া। সহিংসতায় নতুন মাত্রা যোগ করছে তারা। উদ্দেশ্য হরতাল পালনে মানুষকে বাধ্য করা। সরকারের ওপর ‘কার্যকর চাপ’ সৃষ্টিও এদের লক্ষ্য। এক্ষেত্রে তারা যে কোনো পন্থা অবলম্বনে রাজি। নতুন কোনো ‘বুদ্ধি’ পেলেই হলো! সহিংস হরতাল কিংবা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এগুলো বাম উগ্রপন্থার রীতি-নীতি। আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারক-বাহকগণ কেন বাম উগ্রবাদীদের নীতি-কৌশল গ্রহণ করে চলেছেন, সেটাই প্রশ্ন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় হরতাল এক অর্থে শুরু হয়ে যাচ্ছে আগের দিন সন্ধ্যা থেকে। রাজপথে জ্বালাও-পোড়াও করে পরদিনের হরতালের জন্য জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির কাজটা শুরু করা হচ্ছে দুপুর থেকেই। ভয়ে অনেকেই আজকাল হরতালের আগের দিন প্রাইভেট কার বের করেন না। তারা তো দেখছেন, মিডিয়ার গাড়িও আক্রান্ত হচ্ছে হরতালকারীদের হাতে। কী আশ্চর্য, লাশবাহী গাড়ি ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও ভাংচুর করা হচ্ছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় ডাকা হরতালে এসব চিন্তাও করা যেত না। আর যা-ই হোক, দেশে তো এখন সামরিক স্বৈরাচার নেই। পরাধীন দেশে স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনও হচ্ছে না। এ আন্দোলনের ঘোষিত লক্ষ্য একটাই আর তা হলো আগামী নির্বাচনকালে একটি নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা। এটি কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা হবে কিনা, তাও স্পষ্ট করে বলছে না বিরোধী দল। এ ধরনের সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলেও তার মাধ্যমে আমরা নতুন একটি সরকার ছাড়া আর কী অর্জন করব, সেটিও স্পষ্ট নয়। এটুকু লক্ষ্য অর্জনেই ডাকা হচ্ছে হরতালের পর হরতাল আর তাতে যোগ হচ্ছে সহিংসতার নতুন মাত্রা। প্রথম দফা ৬০ ঘণ্টার হরতালে রাজপথে ও বিশিষ্টজনদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে যেভাবে ককটেল ফাটানো হয়েছে, তেমনটি ইতোপূর্বে আর দেখা যায়নি। কোথাও কোথাও চালানো হয়েছে গুলি। সাম্প্রতিককালের হরতালগুলোয় রেলব্যবস্থা আক্রান্ত হচ্ছে বারবার। নিকট অতীতেও হরতালে ট্রেন চলাচল করত প্রায় নির্বিঘ্নে। এর যাত্রীরা ধরে নিতেন, হরতালকারীরা অন্তত ট্রেনে হামলা চালাবে না। রেলপথে পণ্যসামগ্রী পরিবহনও হতো নির্বিঘ্নে। লক্ষ্য করার মতো বিষয়, দূরপাল্লার বাস না চললেও পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি চলাচল করতো মহাসড়কে। বিশেষত রফতানিপণ্য ও খাদ্যসামগ্রী বহনকারী যানবাহনকে বাধা দেয়া হতো না। হরতালকারীরা দাবি আদায়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলেও তারা মনে করতেন, রফতানি খাতকে বিপন্ন করা যাবে না। সাপ্লাই চ্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খাদ্যপণ্যের বাজার অশান্ত হোক, এটাও কাম্য ছিল না তাদের। ঘোষণা দিয়েই কাঁচাবাজারকে রাখা হতো হরতালমুক্ত। পাইকারি বাজার থেকে ভ্যান বা রিকশায় খাদ্যপণ্য পরিবহনেও বেপারিরা টেনশন বোধ করতেন না। এখন সে পরিস্থিতি নেই। রফতানিপণ্য পরিবহনেও বাধা দেয়া হচ্ছে জোরেসোরে। এতে অর্ডার অনুযায়ী পণ্য জাহাজীকরণ ব্যাহত হচ্ছে বিশেষত টানা হরতাল হলে। ৬০ ঘণ্টার হরতাল তো টানা হরতালই। এর বদলে পরপর তিনদিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল হলেও রাতে পণ্যসামগ্রী পরিবহন করা যেত বন্দর অভিমুখে। বন্দরের ভেতরে তো আর হরতাল হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে খালাস হওয়া আমদানিপণ্যও ভোরের আগে পৌঁছে দেয়া যেত গ্রাহকের কাছে। আমরা তো শুধু খাদ্যপণ্য আমদানি করি না। উত্পাদনে ব্যবহারের জন্য কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্যও আমদানি করছি বিপুল পরিমাণে। মেশিনারিজ, এমনকি কৃষি উপকরণ কম আমদানি হচ্ছে না। প্রধান রফতানি খাত গার্মেন্টসের বিপুল পরিমাণ সামগ্রী আমরা আমদানি করছি। আমদানিপণ্যের এ পরিবহন ব্যাহত হলে তাই রফতানিও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। সামনেই রয়েছে গার্মেন্টপণ্য রফতানির বড় সুসময়। পশ্চিমে ক্রিসমাস ও নববর্ষ ঘিরে বাজার হয়ে উঠবে চাঙ্গা। আমাদের রফতানিকারকরা বলা যায় অপেক্ষা করে থাকেন মৌসুমটি ধরার জন্য। সন্দেহ কী, রাজনৈতিক সংকট নিরসনে তারা দুই নেত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন নিজেদের স্বার্থে। এতে দেশের স্বার্থও নিহিত। সার্বিক দিক বিচারে আমরা কি চাইব না, প্রধান রফতানি খাতটি ভালোভাবে কাজ করুক? শ্রমিকরা এর ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছেন কিনা, সে প্রশ্নও রয়েছে। এটি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও দেশে চলমান। রাজনীতিতে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে যে সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে, তারও নিষ্পত্তি হতে হবে এবং সেটি শান্তিপূর্ণভাবে। এর বদলে ঘন ঘন ও টানা হরতাল আর তাতে সহিংসতার নতুন মাত্রা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাম্প্রতিক হরতালগুলোয় পিকেটারদের ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন পণ্যবাহী ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। আগুন ধরিয়ে দেয়াতেও করুণ মৃত্যু হয়েছে কয়েকজনের। এ অবস্থায় বেশি ভাড়া অফার করা হলেও হরতালকালে তারা মহাসড়কে নামার সাহস পাচ্ছেন না। প্রথম দফা ৬০ ঘণ্টার হরতালে বেনাপোলসহ স্থলবন্দরে আমদানিপণ্য বোঝাই ট্রাকে জট লেগে গিয়েছিল। শুল্কায়ন প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যায় কোথাও কোথাও। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে চালানো হয় বোমা হামলা। এ ধরনের তত্পরতা নিরুত্সাহিত না হলে তো মুশকিল। রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জে সরকার একটি নৌ কনটেইনার টার্মিনাল চালু করেছে সম্প্রতি। সড়কের পাশাপাশি নৌপথে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটিতে কনটেইনার পরিবহনের পরিকল্পনা আছে এর মাধ্যমে। আমরা এখনও জানি না এটি কতখানি কার্যকর হবে। হলে সড়কপথের ওপর যানবাহনের চাপ কমবে বৈকি। আর হরতালকালে এটি ভালো বিকল্প হিসেবে কাজ করবে— যেহেতু নৌপথ থাকে হরতালকারীদের দৃষ্টির বাইরে। নৌপথে পণ্য পরিবহন না হলে এ ধরনের হরতালে শহুরে জনগোষ্ঠীর খাদ্যপণ্যের ব্যবস্থা হতো কীভাবে, সেটি কিন্তু মৌলিক প্রশ্ন। হরতালকারীদেরও বিপাকে পড়তে হতো না কি? অবশ্য তারা বলছেন, আগামীতে আরও ‘কঠোর কর্মসূচি’ দেয়া হবে আর তখন নৌপথেও পালন করা হবে হরতাল। নৌপথে হরতাল বা অবরোধ মানে কি সেখানেও সহিংসতা? এ মৌসুমে নৌপথ কিছুটা সংকুচিত হয়ে আসে বৈকি। তার মানে, হরতালকারীদের পক্ষে এতে বাধা সৃষ্টি করা সহজ এখন। এরা তো আর গান্ধীবাদী হয়ে নৌযান পরিচালনাকারীদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর বিষয়টি ছেড়ে দেবে না। সড়কপথে যেমন, নৌপথেও জোর খাটাবে তারা। প্রয়োজনে করবে একই রকম জ্বালাও-পোড়াও। সাম্প্রতিককালের হরতালে যারা নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন, তারা পড়ে যাবেন বিপাকে। উন্নত নৌযান নামাতে যারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা প্রমাদ গুনবেন। তবে নৌপথে হরতাল ‘কার্যকর’ করতে যে সাংগঠনিক ক্ষমতার প্রয়োজন, তা হরতালকারীদের আছে কিনা কে জানে। সহিংসতার জন্য অবশ্য তেমন সাংগঠনিক ক্ষমতা লাগে না। এজন্য করতে হয় অর্থায়ন। প্রথম দফা ৬০ ঘণ্টার হরতালে ককটেল তৈরি, তা ফাটানো, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ প্রভৃতিতে একশ্রেণির ক্রিমিনালকে নিয়োজিত করা হয়েছিল বলে খবর রয়েছে। হরতালকেন্দ্রিক সহিংসতায় জামায়াত-শিবির কর্মীদের অবশ্য জুড়ি নেই। এক ধরনের ‘আদর্শিক উন্মাদনায়’ তারা এসব করছে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নজিরবিহীন সহিংস আচরণ করেছিল তারা। এর মধ্যে ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে একটি বিদ্যুত্ উপকেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে দেয়া। কে জানে, তাদেরই একটি গ্রুপ হয়তো রাজধানীর ডিপোতে ঢুকে বিআরটিসির বাস পুড়িয়েছে। অদক্ষ পুলিশ এদের টিকিও স্পর্শ করতে পারেনি। রাজপথে সহিংসতা চালাতে গিয়ে ভিডিও ক্যামেরায় যারা ধরা পড়ছে, তাদের ক’জনকেই বা গ্রেফতার করতে পারছে তারা? হরতালে ব্যাহত হচ্ছে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের দু’দুটি পাবলিক পরীক্ষা। শিক্ষামন্ত্রী এ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন হরতালকারীদের। কথা হলো, বিরোধী দলে থাকলে আর এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে তারাও কি এমনি ধারার হরতাল করতেন না? নির্বাচনকালে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ও বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে তারা কিন্তু কম গোলযোগপূর্ণ হরতাল করেননি। সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত সমাবেশে বিরোধী নেত্রী এর একটি বর্ণনা দিয়েছেন। মজার ব্যাপার হলো, তার অনুসারীরা যে এখন আরও বেশি অর্থনীতিবিরোধী ও সহিংস হরতাল করতে লেগেছে, সেদিকে দৃষ্টি নেই বিরোধী নেত্রীর। কিংবা একে তিনি হয়তো মনে করেন যুক্তিপূর্ণ! সন্দেহ নেই, রাজনীতিতে চলছে মন্দের প্রতিযোগিতা আর তারই অংশ হিসেবে হরতাল কর্মসূচি হয়ে উঠছে আরও সহিংস। শিক্ষামন্ত্রী মনে করতে পারেন, (প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীসহ) প্রায় ৫০ লাখ পরীক্ষার্থীর এক কোটি অভিভাবক সন্তানদের ভোগান্তির জন্য বিরোধী দলকেই দায়ী করবেন। বাস্তবে তাদের সবাই এক পক্ষকে দায়ী করবেন বলে কিন্তু মনে হয় না। তারাও দলীয়ভাবে বিভক্ত। হরতালে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের মধ্যেও এমন বিভক্তি রয়েছে। তারাও যার যার মতো করে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী করবেন সরকার ও বিরোধী পক্ষকে। তা সত্ত্বেও এরা সবাই সাধারণভাবে উদ্বিগ্ন ঘন ঘন, টানা ও সহিংস হরতাল দেখে। এদিকে আন্দোলনকারীরা পাবলিক পরীক্ষাকে হরতালের আওতামুক্ত রাখলেও লাভ নেই। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার কথা ভেবে সরকারকে পরীক্ষার দিনক্ষণ বদলাতেই হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের তরফ থেকেও দাবি উঠছে, রফতানি ও আমদানিপণ্যবাহী যানবাহন যেন পুলিশ প্রহরায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হরতালে পরিস্থিতির যেমন অবনতি ঘটছে, তাতে এক্ষেত্রে বিজিবি ব্যবহারের দাবি ওঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বেড়াতে গিয়ে এর কোনো কোনো এলাকা অতিক্রমের সময় আগে-পিছে ও মাঝে ভারি অস্ত্রে সজ্জিত নিরাপত্তা বাহিনীর প্রহরা নিতে হয়েছিল আমাদের। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তত্পরতাই এর কারণ। বাংলাদেশে তো সমস্যা শুধু একটি জাতীয় নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এদেশে গণতন্ত্র এখনো বস্তুতপক্ষে নির্বাচনী গণতন্ত্র। এর বাইরে ব্যবস্থাটিকে অর্থবহ করে তোলার সিরিয়াস কোনো উদ্যোগ রয়েছে বলে মনে হয় না। তা সত্ত্বেও দিনকে দিন আরও সহিংস হয়ে ওঠা হরতাল মোকাবেলা করতে হচ্ছে আমাদের। ঘর থেকে বেরোতেও ভয় করছে আজকাল। ঘরের মধ্যেও না এসে ফাটে ককটেল! দেশীয় গ্রেনেডও বানাতে শিখে গেছে এখানকার পেইড ক্রিমিনালরা। লেখক : সাংবাদিক E-mail : [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন