স্যালুট জানাচ্ছে কলকাতা

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৪
এবার আলাদা কোনো দীপাবলি নেই। এটা শুধুই শচীন আলোতেই উত্সব করবে কলকাতা! —কথাগুলো বলছিলেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (ক্যাব) কোষাধ্যক্ষ বিশ্বরূপ দে। কথাগুলো আসলে তার একার নয়, পুরো কলকাতার ক্রিকেট অঙ্গনই আসলে এভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছে। সারা ভারত যখন মেতেছে দীপাবলির উত্সবে; কলকাতা তখন শুরু করেছে—স্যালুট টু শচীন নামে উত্সব। না, অনেক চেষ্টা চরিত্র করেও সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার শচীন টেণ্ডুলকারের শেষ টেস্ট আয়োজনের অধিকার পায়নি ইডেন। পেয়েছে তারা শেষের আগের টেস্টটি। আর সেই সুযোগকেই ষোলো আনা কাজে লাগাতে সপ্তাহব্যাপী উত্সব, টেস্ট জুড়ে নানা আয়োজন নিয়ে প্রস্তুত ক্যাব। ইডেনের এই টেস্টটি খেলার জন্য গত রবিবার দলের সঙ্গে কোলকাতায় এসে পৌঁছেছেন টেণ্ডুলকার। লিটল মাস্টারের আগমণ থেকেই শুরু হয়ে গেছে উত্সব। হাজারও কোলকাতাবাসীর মতো বিশ্বরূপ দে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন নেতাজি সুভাস চন্দ্র বসু এয়ারপোর্টে। শচীনকে ১৯৯টি গোলাপে সাজানো একটি ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে। টেণ্ডুলকার যতোটুকু সময় কোলকাতায় আছেন তার এক মুহূর্তও যাতে উত্সবহীন, বিফলে না যায় সে চেষ্টাতেই আছে ক্যাব। রবিবার পশ্চিম বঙ্গের ক্রীড়া মন্ত্রী এবং ক্যাবের সভাপতি শচীনকে নিয়ে একটি গানের অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচণ করেছেন। এই অ্যালবামে মোট ১১টি গান থাকছে; যার মধ্যে সাতটি বাংলা এবং চারটি হিন্দি। গানগুলো সবই শচীনকে নিয়েই লেখা হয়েছে। ক্রিকেট খেলার প্রায় তাবত্ রেকর্ড সঙ্গে নিয়ে টেণ্ডুলকার যখন ইডেন গার্ডেনে অনুশীলনের জন্য প্রবেশ করবেন তখন পিলো ভট্টাচার্যের গাওয়া এই গানগুলো বাজানো হবে। ভক্ত-শিল্পীরা মোম দিয়ে ভারতীয় এই কিংবদন্তীর একটি প্রতিকৃতি বানিয়েছে। টেস্ট চলার সময় স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমের সামনে এটি রাখা হবে। গতকাল সোমবার কোলকাতায় টেণ্ডুলকারের ১০০টি স্থিরচিত্রের একটি প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ক্যাব সুনিল গাভাস্কার এবং সৌরভ গাঙ্গুলিকে ভবানীপুর ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনী উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু সাবেক এই দুই ক্রিকেটার কলোম্বতে একটি দাতব্য কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকায় এখানে থাকতে পারেননি। তবে তাতে ক্যাবের পরিকল্পনার ব্যত্যয় ঘটেনি। টেস্ট শুরুর আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি এন শ্রীনিবাসনকে আমন্ত্রণ জানাবে ক্যাব। তারা বোর্ড সভাপতিকে দিয়ে এই টেস্টের টস করাতে চান। টস করার জন্য যে কয়েন ব্যবহার করা হবে তার এক পাশে টেণ্ডুলকার এবং অপর পাশে ইডেন গার্ডেনসের ছবি থাকবে। ক্যাব শচীনকে উপহার দেয়ার জন্য রূপা দিয়ে একটি বটবৃক্ষ বানিয়েছে যার পাতাগুলো আবার স্বর্ণ দিয়ে তৈরি। ক্যাব আশা করছে শচীন নিজে তাদের দপ্তরে এসে এই উপহারটি গ্রহণ করবেন। এছাড়া গ্রাউন্ডসম্যানরা শচীনকে ইডেন গার্ডেনসের একটি রেপ্লিকা উপহার দেবেন। ম্যাচের টিকিটে ইতোমধ্যে টেণ্ডুলকারের ছবি ছাপানোর কাজ শেষ হয়েছে। একেবারে অভিনব এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিশ্বরূপ দে বলেন, ‘এর আগে ইডেনের কোনো টেস্টের টিকিটে কারোর ছবি ছাপানো হয়নি।’ এখানেই কিন্তু আয়োজনের শেষ নয়! টেস্টের পাঁচটি আলাদা দিনে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছে। প্রথম দিনের প্রতিটি টিকিটের সাথে স্মৃতিস্বরূপ একটি করে বই দেয়া হবে। ক্যাব আশা করছে, ৭০ হাজার দর্শকের হাতে টেণ্ডুলকারের মুখচ্ছবি সম্বলিত মুখোশ দেবে। এটা যদি আসলেই সম্ভব হয় তাহলে ইডেন গার্ডেনসে একটা অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা ঘটতে পারে। দ্বিতীয় দিনে গ্যালারির প্রত্যেকটি দর্শককে একটি করে প্লাকার্ড দেয়া হবে। সব প্লাকার্ড একসাথে উঁচু করে ধরলে টেণ্ডুলকারের মুখচ্ছবি ফুটে উঠবে। তৃতীয় দিনে টেণ্ডুলকারের মুখচ্ছবি সম্বলিত ১৯৯টি বেলুন ওড়ানো হবে। চতুর্থ দিনে পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং হাজির হবেন শচীনকে সংবর্ধনা দিতে। এদিন অমিতাভ বচ্চন এবং শাহরুখ খানও মুখ্যমন্ত্রীর সাথে যোগ দিতে পারেন। আর টেস্টের শেষ দিনকে ঘিরে ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ম্যাচ শেষে বিমান থেকে ১৯৯ কিলোগ্রাম গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে গোলাপ বৃষ্টি ঘটানো হবে। ফুলের বৃষ্টি, রূপার গাছে, সোনার পাতায়, হাজারো ছবিতে মোড়ানো কলকাতা-বিদায় হবে টেণ্ডুলকারের। নিশ্চয়ই পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এই উত্সব দেখার অপেক্ষায় থাকবে।