টি-টোয়েন্টি ধাঁধা আজ

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৩, ২২:০৫
টি-টোয়েন্টি খেলাটা যখন শুরু হল, তখন বাংলাদেশের সমথকরা খুবই খুশি হয়েছিলেন। বলা হয়েছিল—খেলা যত ছোট, বাংলাদেশের সম্ভাবনা ততো বেশি। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের যাত্রাও শুরু হয়েছিল এই কথাকে সত্যি প্রমাণ করে; নিজেদের প্রথম চার ওয়ানডেতে তিন জয় নিয়ে রীতিমতো প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলে ফেললো। কিন্তু ওই পর্যন্তই তারপর থেকে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম এই ফরম্যাটটি বাংলাদেশের জন্য ধাঁধার এক নাম রয়ে গেছে। যে বাংলাদেশ টেস্টে সেরা দলগুলোর সঙ্গে জয়ের জন্য লড়ে, যে বাংলাদেশ সেরা ওয়ানডে দলগুলোকে বলে কয়ে হারায়; তারাই টি-টোয়েন্টিতে নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও জিততে পারে না। আজ আরও একবার বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি নামের এই রহস্যের মুখোমুখি হবে। এবার অন্তত এই ফরম্যাটটাকেও হাতের তালুতে নিয়ে নিতে চাইবে মুশফিকুর রহিমের দল। তার আগে আবারও আলোচনায় আসছে বারবার সেই প্রশ্ন—কেন টি-টোয়েন্টিতে এমন অসহায় বাংলাদেশ? কতোটা অসহায়? একটু পরিসংখ্যান চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক। বাংলাদেশ আজকের ম্যাচের আগ পর্যন্ত ৩০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে; তাতে জয় মাত্র ৯টি। এর মধ্যে ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ একটি ম্যাচও জিততে পারেনি এই ফরম্যাটে। সামনেই ঘরের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেখানে আবার প্রথম পর্ব নামের এক বাছাইপর্ব খেলতে হবে স্বাগতিকদের। তার আগে টি-টোয়েন্টি কেন ধাঁধা, সেই প্রশ্নটা ঘুরে-ফিরেই আসছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্লেষকরা সবাই মোটামুটি একবাক্যে কথাটার উত্তর দিচ্ছেন—বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি খুব কম খেলে বলেই এখনও সেভাবে মানিয়ে নিতে পারেনি খেলাটায়। অন্তত তেমনটাই বিশ্বাস করেন জাতীয় দলের দুই সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও শাহরিয়ার নাফীস। বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। তার নেতৃত্বে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েই খেলায় যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। নাফীস এখনও নিয়মিত ক্রিকেটার এবং জাতীয় দলের আশেপাশেই থাকলেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ওই ম্যাচের পর আর খেলা হয়নি তার। তবে জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি যাত্রা অনুসরণ করে তিনি মনে করছেন, ‘বাংলাদেশ টেস্ট ও ওয়ানডে যত খেলে, সে তুলনায় টি-টোয়েন্টি অনেক কম খেলে। ফলে খেলাটাতে বাংলাদেশের অভ্যস্থতাই তৈরি হয়নি।’ সেই সঙ্গে নাফীস খেলাটির একটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেই ব্যাখ্যা করলেন, কেন আমরা পেরে উঠছি না, ‘টি-টোয়েন্টিকে আমি সব ফরম্যাটের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ক্রিকেট বলে মনে করি। এর কারণ হল, এখানেও টেস্ট ও ওয়ানডের মতো স্কিল ও দক্ষতার দরকার হয়, কিন্তু সেটা অনেক বেশি লাগে। কারণ এই ফরম্যাটে আপনি দল হিসেবে কাম ব্যাক করার তেমন কোনো সুযোগই পান না। ফলে প্রথম সুযোগেই সেরাটা খেলে ফেলতে হয়। আর একটা করতে হলে আপনাকে খুব বেশি মাত্রায় টি-টোয়েন্টিতে অভ্যস্ত হতে হবে।’ প্রায় একই যুক্তি দিলেন শাহরিয়ার নাফীসেরই সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তিনি একই সঙ্গে মনে করছেন, কম খেলার ফলে বাংলাদেশ এখনও টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টই সেভাবে খুঁজে পায়নি। আর এটাকেই নিয়মিত ফল না পাওয়ার কারণ মনে করছেন তিনি, ‘টি-টোয়েন্টি খেলাটার জন্য এখন দুনিয়া জুড়ে সব দল কিছু স্পেশালিস্টের ওপরই মূলত বেশি নির্ভর করে। এরা টি-টোয়েন্টির কঠিনত ক্রিকেটের সঙ্গেই অভ্যস্ত থাকে এবং এই ফরম্যাটে খেলায় বেশি দক্ষ থাকে। এখন আমরা যেহেতু এই ফরম্যাটে খেলছিই খুব কম, ফলে স্পেশালিস্ট সেভাবে তৈরি হয়নি। বলতে পারেন, এখনও আমরা এরকম কয়েক জন স্পেশালিস্টের খোঁজে আছি।’ তাহলে আমরা কী হতাশ হয়ে পড়ব? টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ভবিষ্যতটা কী? হাবিবুল বাশার আশাই দেখাচ্ছেন। তিনিই মনে করিয়ে দিলেন, গত বছর দুয়েকে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টির ফলাফল বদলাতে শুরু করেছে। ২০১১-১২ সালে বাংলাদেশ টানা ৭টি টি-টোয়েন্টির মধ্যে ৫টিতেই জিতেছিল। পরে আবার টানা ৬ ম্যাচ হারলেও জিতেছে তারা সর্বশেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আর এটাকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন হাবিবুল। জাতীয় দলের এই নির্বাচক মনে করছেন, আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ থেকেই আসলে এই মানিয়ে নেয়াটা আরও বেশি করে শুরু হবে, ‘আমরা এখন আগের চেয়ে টি-টোয়েন্টি বেশি খেলছি, ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলা হচ্ছে। ফল হিসেবে আগের চেয়ে একটু হলেও ভালো করছি আমরা। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ফলে এখন আমাদের আরও দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। আজকের ম্যাচটা সে বিবেচনাতেই আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি।’