ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্ট শুরু আজ

সবকিছুকে ছাপিয়ে কেবলই শচীন

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৩, ২২:০৬
শচীন টেণ্ডুলকারের বিদায়ের রাগিনীর মধ্যে আজ বুধবার থেকে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে শুরু হচ্ছে ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি। তাই ক্রিকেটীয় লড়াইকে ছাপিয়ে টেস্ট শুরুর প্রাক্কালে আলোচনা চলছে শচীনের অবসরের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। লিটল মাস্টার হিসেবে খ্যাত ভারতের এই ক্রিকেট ঈশ্বর এই সিরিজের মধ্যদিয়েই তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন। এটি হবে ৪০ বছর বয়সী শচীনের ১৯৯তম টেস্ট। এরপর মুম্বাইয়ে নিজের মাঠে ২০০তম টেস্ট খেলে ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন তিনি। এই নিয়ে শচীন ভক্তদের মধ্যে আবেগের যেন শেষ নেই। কলকাতায় তো এখন চলছে রীতিমতো শচীন উম্মাদনা। সংগঠকদের ব্যস্ততা চলছে এই প্রবাদ প্রতীমকে বিদায় জানানো নিয়ে। টেণ্ডুলকার অবশ্য নিজের শেষ টেস্ট সিরিজটাকে ব্যাটিংয়ের মাধ্যমেই চির স্মরণীয় করে রাখতে চাইছেন। সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজও নিজেদের ঝালিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। ভারতের বর্তমান দলটিতে বেশ কয়েকজন তারকার আবির্ভাব ঘটলেও পুরো সিরিজে সকলের দৃষ্টি থাকবে শচীনের উপর। ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে ভারতের হয়ে যা কিছু অর্জন তা দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি টেণ্ডুলকারের ব্যক্তিগত রেকর্ডকেও নিয়ে গেছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক রানের পাশাপাশি টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় ঘরানা মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিকও যে এই মারাঠি। ভক্তদের কাছে তাই তিনি ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’। ক্রিকেট পাগল কলকাতাবাসীর কাছেও এই টেস্ট এক অবিস্মরণীয় স্মৃতির উপলক্ষ হয়ে থাকবে। এই কলকাতায় ১৯৯১ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অভিষেক হয়েছির তার। এই মাঠেই টেণ্ডুলকারের ব্যাটিং ক্যারিয়ারের অনেক চড়াই-উত্রাই দেখেছে ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা। কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনে টেস্ট এবং ওয়ানডে মিলিয়ে ২৫টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি যা অন্য যে কারো চেয়ে বেশি। এত সবকিছুর পরও সাম্প্রতিক সময়ে টেণ্ডুলকারকে নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। গত দুই বছরে ২১টি টেস্ট এবং ১২টি ওয়ানডেতে তার পারফরমেন্স ভক্তদের খুব একটা আশ্বস্ত করতে পারেনি। ২০১২ সালের ১৬ মার্চ বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন। টেস্টে তার সেঞ্চুরি ৫১টি। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে কেপটাউনে ১৪৬ রান করার পরে এখন পর্যন্ত ২১টি ম্যাচে তিনি সেঞ্চুরির দেখা পাননি। ]কলকাতায় টেণ্ডুলকারের বিদায়ী টেস্টটিতে ভারত সুস্পষ্ট ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইতোমধ্যে উত্তর প্রদেশ ক্রিকেট এসোসিয়েশনের বিপক্ষে গত সপ্তাহে তিনদিনের অনুশীলন ম্যাচ খেললেও তাতে খুব একটা ভাল পারফর্ম করেনি। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগামী বছরের ব্যস্ত সূচীকে সামনে রেখে মহেন্দ্র সিং ধোনীর দলের জন্য এটা দারুণ এক প্রস্তুতি পর্বও বটে। মিডল অর্ডারে শিখর ধাওয়ানের প্রত্যাবর্তনে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ আরো শক্তিশালী হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলতি বছরের শুরুতে মোহালিতে অভিষেক টেস্টে এই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান ১৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। আইপিএলের পর ধাওয়ান সম্প্রতি ওয়ানডে সিরিজগুলোতে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ইনজুরিতে পড়া রবীন্দ্র জাদেজার অনুপস্থিতিতে ধোনীকে বিকল্প চিন্তা করতেই হচ্ছে। উমেশ যাদব দলে ফিরেছেন। ইশান্ত শর্মার সাথে নতুন বোলিং আক্রমণে ভুবনেশ্বর কুমার রয়েছেন। এদের কারণে স্থানীয় বোলার মোহাম্মদ সামীর টেস্ট অভিষেক কিছুটা হলেও বিলম্ব হবে। অমিত মিশ্রর জায়গায় দেখা যেতে পারে বাঁ হাতি স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝাকে। অন্যদিকে অতিথি ক্যারিবীয়দের পেস আক্রমণে যথারীতি রয়েছেন কেমার রোচ, টিনো বেস্ট। বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে পারমলতো রয়েছেনই। সব মিলিয়ে বিরাট কোহলি, ধাওয়ান, শর্মার মত খেলোয়াড়দের আটকাতে ক্যারিবীয়দের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতেই হবে। স্কোয়াড : ভারত : মহেন্দ্র সিং ধোনী (অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, মুরালি বিজয়, চেতশ্বর পুজারা, শচীন টেণ্ডুলকার, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, রবিচন্দ্রন আশ্বিন, ভূবনেশ্বর কুমার, মোহাম্মদ সামী, উমেশ যাদব, অজিঙ্কে রাহানে, প্রজ্ঞান ওঝা, অমিত মিশ্র। ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ড্যারেন স্যামি (অধিনায়ক), ক্রিস গেইল, কিয়েরন পোলার্ড, ড্যারেন ব্র্যাভো, মারলন স্যামুয়েলস, নারসিং ডিওনারিন, শিবনারায়ণ চন্দরপল, দিনেশ রামদিন, টিনো বেস্ট, পারমল, শেলডন কটেরেল, ক্রিক এডওয়ার্ডস, কেমার রোচ, শেন শিলিংফোর্ড, চারউইক ওয়ালটন।—বাসস