বছরের শেষ এটিপি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে এই মুহূর্তে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট তারকা এরই মধ্যে পৌঁছে গেছেন লন্ডনে। ইংল্যান্ডের রাজধানী শহরের বিখ্যাত ওটু অ্যারেনায় এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে গ্র্যান্ড স্ল্যামের পরেই টেনিসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসর। তবে কোর্টে নামার আগেই লন্ডন থেকে এই টুর্নামেন্টটি সরিয়ে নিতে বলে কোর্টে নামার আগেই আলোচনার জন্ম দিয়েছেন দুই শীর্ষ বাছাই নোভাক জোকোভিচ এবং রাফায়েল নাদাল। এদিকে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া এই টুর্নামেন্টের প্রথম দিনে রিচার্ড গ্যাসকুয়েটকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছেন আর্জেন্টিনার হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রো।
দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানো নাদালের অভিযোগটা টুর্নামেন্টের ভেন্যু নিয়ে। কয়েকদিন আগেই আয়রন মেইডেনের মতো বিখ্যাত ব্যান্ড দল পারফর্ম করে যাওয়া এই ওটু অ্যারেনায় ছাদের নিচে খেলা নিয়ে আপত্তি তার। আপত্তির কারণটাও স্পষ্ট। অন্য সবাইকে যেখানে বিপত্তির মুখে পড়তে হয় সেখানে ঘুরতে ঘুরতে ক্রমেই উপরের দিকে উঠতে থাকা নাদালের ফোরহ্যান্ডগুলো সহজেই পেরিয়ে যেতে পারে জালের বাধা। অর্থাত্ শারীরিক সক্ষমতা আর খেলার স্টাইলের কারণে বাতাসে ভরা এক দিনে নাদাল এগিয়ে থাকবেন অন্য যে কারো চাইতে। তবে ইনডোরে নাদাল স্বাভাবিকভাবেই এমন কোন সুবিধা পাবেন না। আর তাই এখন পর্যন্ত একবারও এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে না পারা নাদাল নিজেকে দুর্ভাগাই ভাবছেন। সাতাশ বছর বয়সী এই স্প্যানিয়ার্ড বলেন, ‘গত ২০০৫ সাল থেকেই ট্যুর ফাইনালটি (এই টুর্নামেন্ট) ছাদের নিচে হচ্ছে। সুতরাং এক্ষেত্রে আমি নিজেকে কিছুটা দুর্ভাগা ভাবতেই পারি। এটি যদি খোলা আকাশের নিচে অন্য কোন ধরনের কোর্টে হতো তাহলে সেটাই আমার জন্য সুবিধাজনক হতো। এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে সবধরনের কোর্টে খেলেই আমাদের নিজেদের প্রমাণ করতে হয়। অথচ টুর্নামেন্টের খেলাগুলো কেবল হার্ড কোর্টেই হয়।’
তবে তার একার মতে যে ভেন্যু পাল্টাবে না সেও বুঝতে পারছেন রেকর্ড আটবারের ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতা নাদাল, ‘আমি জানি আমার প্রজন্মে এই পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমি নিজের জন্য এটি বলছিও না। আমি বলছি ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কথা ভেবে। আর এটা করলে দর্শকরাও আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠতো।’
এদিকে সার্বিয়ান তারকা জোকোভিচের আপত্তি অন্য জায়গায়। তার যুক্তি বছর শেষের টুর্নামেন্টটি প্রতি বছরই কেন একই জায়গায় হতে হবে? টেনিসের জনপ্রিয়তা বাড়াতে প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় এটি আয়োজনের পক্ষপাতী গত মাসেই র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান চ্যুত হওয়া জোকোভিচ। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় বিশ্বের অন্যান্য শহরগুলোকেও আয়োজক হওয়ার সুযোগ দেয়া উচিত। আমি শুনেছি ফুটবলের পর টেনিসই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। কোন সন্দেহ নেই এটি দারুণ একটি বিষয়। তবে আমার মনে হয় এই ব্যাপারটাকে আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি না।’
