প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের তথ্য চাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফটসহ শীর্ষস্থানীয় সব প্রতিষ্ঠানের অনলাইন বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের তথ্যই বেশিরভাগ সময় চেয়ে থাকে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। অনেক ক্ষেত্রে গোপনে অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোতে নজরদারিও করে থাকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ফেসবুক, গুগলসহ অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই তাদের কাছে আসা সরকারি অনুরোধগুলোর ধরণ এবং সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে সর্বসাধারণের জন্য। এবারে প্রথমবারের মতো এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যাপল। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের কাছে কী ধরনের তথ্যের অনুরোধ জানিয়েছে, সেই তথ্য দিয়েই এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে অ্যাপল জানিয়েছেন, ‘যেসব তথ্য আমরা আইনত শেয়ার করতে পারি সকলের সাথে, তার সবই এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। গ্রাহকদের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সবসময়ই সচেষ্ট ছিলাম এবং এই প্রতিবেদনও তারই একটি ধারাবাহিকতা।’ অ্যাপল’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা ও অন্যান্য সংস্থা তাদের কাছে তথ্য থেকে ১ হাজার থেকে ২ হাজার অনুরোধ পাঠিয়েছে। আর এসব অনুরোধের সাথে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পরিমাণ ছিল ২ হাজার থেকে ৩ হাজার। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্যান্য সরকারের পক্ষ থেকে করা অনুরোধের পরিমাণ অবশ্য অনেক কম। দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে ১২৭টি, যার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল ১৪১টি অ্যাকাউন্ট। তৃতীয় স্থানে থাকা স্পেনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে ১০২টি, যার সাথে রয়েছে ১০৪টি অ্যাকাউন্টের সংশ্লিষ্টতা। এর পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে জার্মানি (৯৩), অস্ট্রেলিয়া (৭৪), ফ্রান্স (৭১) এবং ইতালি (৬০)। অ্যাপল জানিয়েছে, যেসব তারা পেয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠন এবং হারানো ব্যক্তি সম্পর্কিত। আর বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে তারা যেসব তথ্য প্রদান করেছে, তার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অ্যাপল অ্যাকাউন্টের নাম এবং ঠিকানা। এর বাইরে স্পর্শকাতর তথ্যগুলো খুব কমই চাওয়া হয়েছে তাদের কাছে। অ্যাপল’র ভাষ্যমতে, ‘খুব কম ক্ষেত্রেই আমাদের কাছে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের সাথে সংশ্লিষ্ট ছবি বা ইমেইল চাওয়া হয়েছে। আর অন্যান্য তথ্যগুলো প্রদানের ক্ষেত্রেও আমরা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করেছি।’ অ্যাপল আরও জানিয়েছে, তার গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ তাদের মূল ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। গ্রাহকদের তথ্যের গোপনীয়তা তারা কঠোরভাবেই মেনে চলে। ভবিষ্যতেও তারা নিজেদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত অনুরোধের তালিকা এভাবে প্রকাশ অব্যাহত রাখবে।
