দক্ষিণ এশিয়ান সেনিটেশন কনফারেন্স

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪১
বাংলাদেশ সেনিটেশন মাস অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। পাশাপাশি পাবলিক ওপেনিং ও ২৫ অক্টোবর ২০১৩ মাঠ পরিদর্শনসহ মোট ৫ দিনের সার্ক দেশ সরকারের আয়োজনে নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুতে ৫ম দক্ষিণ এশিয়ান সেনিটেশন কনফারেন্স (সাকোসান) সমাপ্ত হয়। কাঠমুন্ডু থেকে ১৩ কিঃমিঃ দূরে ঐতিহাসিক বখতপুর দরবার স্কোয়ারে নেপালের প্রেসিডেন্ট মিঃ রাম বরুন যাদব জমকালো সাংস্কৃতিক পরিবেশে ২১ অক্টোবর পাবলিক ওপেনিং করেন। এই উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট বখতপুরকে ১০ম নেপাল ‘খোলা পায়খানা মুক্ত’ জেলা ঘোষণা করেন। সার্ক দেশ আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার মন্ত্রী, উচ্চ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, এনজিও, রিসার্সার, সেনিটেশন বিশেষজ্ঞ ও একাডেমেশীয়ান, উন্নয়ন সহযোগী, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ইত্যাদি মিলে ৪৫০ প্রতিনিধির এই কনফারেন্স নেপালের ভাইস প্রেডিডেন্ট পরামানন্দ-ঝা প্রধান অতিথি ছিলেন। পর্যটন শহর কাঠমুন্ডুর অভিজাত হোটেল ইয়াকি-ইয়াতী হোটেলে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে সাধারণ অধিবেশন ও বিষয় ভিত্তিক উপস্থাপন, সাইড ইভেন্ট ছাড়া ৮টি দেশের ৮টি ফোকাস বিষয় উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের কম্যুনিটি ভিত্তিক সেনিটেশন এবং এর টেকসই, পাকিস্তানের শহর সেনিটেশন, ইন্ডিয়ার রিচিং দ্যা আনরিসড, অন্যান্য দেশ জ্ঞান ব্যবস্থাপনা ও নেটওয়ার্কিং, মিডিয়া এডভোকেসী ও সেনিটেশন মার্কেটিং, স্কুল সেনিটেশন এবং স্বাস্থ্য ও সেনিটেশন উপস্থাপন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ সার্ক দেশগুলোর মধ্যে একটি উন্নত সেনিটেশন ব্যবস্থা গড়ার প্রতিযোগী তাগিদ আসে। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মোঃ শামছুল কিবরিয়া, জানান বাংলাদেশের ৯৬% মানুষ সেনিটেশন আওতায় আছে, যা সহসাই শতভাগে আসবে। ইউনিসেফ প্রতিনিধি মিঃ স্টিফেন ভারত ও পাকিস্তানের সেনিটেশনে নাজুক অবস্থা তুলে ধরে বছরে দক্ষিণ এশিয়ার সাড়ে সাত লাখ শিশু মারা যায় জানান। আফগানিস্তানের ইঞ্জিনিয়ার গোলাম কাদের সেনিটেশনে নেতৃত্ব, মালিকানা ও অংশীদারিত্বে ‘নতুন ঘর নতুন জীবন’ শ্লোগানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের কাছে এগিয়ে যাচ্ছে জানালেন। ভুটানের স্বাস্থ্য সচিব সেনিটেশনকে, তার দেশে ‘স্বাস্থ্য ও জীবনের’ কেন্দ্রে আনার কথা বলেন। বিশাল ভারতের শহর ও গ্রাম, ধনী-গরীব বৈষম্য তুলে ধরে ড্রিংকিং ওয়াটার ও সেনিটেশন স্টেট-মিনিস্টার শ্রী ভারত সিং সোলাংকী লিখিত বক্তব্যে ভারতের সংস্কৃতি ও আচরণে খোলা স্থানে পায়খানা করাকে গভীর শিকড়ে গ্রহণীয় ধরে নেয়ার অভ্যাসকে পরিবর্তন করার কথা জানিয়ে পানি ও সেনিটেশন অধিকার রক্ষায় ‘নির্মূল ভারত’ অভিযানের কার্যক্রম তুলে ধরেন। পাকিস্তানের জলবায়ু সচিব রাজা হাসান সেনিটেশনকে সামগ্রিক বিবেচনায় এনে দারিদ্র্যতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ টেকসই উন্নয়নে সরকার, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজসহ এগিয়ে যাচ্ছে জানান। ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় নেপাল নগর সচিব স্থানীয় সরকার নেতৃবৃন্দকে আসল চালিকাশক্তি বলে অভিহিত করেন। পাকিস্তানের মিঃ ইরফান তারিক পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের শিক্ষা কারিকুলাম, দুর্যোগকালীন সেনিটেশনসহ সামষ্টিক কৌশল নির্ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। শ্রীলঙ্কার মিঃ রনজন বালাসূরীয়া, আফগানিস্তানের মিঃ গোলাম কাদের, মালদ্বীপের প্রতিনিধি সেনিটেশনকে মৌলিক অধিকার ধরে সম্পদ জোগান ও বিকেন্দ্রীয়করণ করে টেকসই ও লাগসই প্রযুক্তির কথা বলেন। ওয়াটার এইড এর নীতি প্রধান মিঃ হেনরী-নর্থওভার বাংলাদেশ’র দেশ সমন্বয়কারী ডাঃ খাইরুল ইসলাম দুর্গম এলাকায় সেনিটেশন কার্যক্রম নীতি- চ্যালেঞ্জ এর ফলপ্রসূতার কথা তুলে ধরেন। ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের দেশ পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইনাম মাহমুদ রিয়াদ শিশু কেন্দ্রিক সেনিটেশনের গুরুত্ব দেন। বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশ কার্যালয়ের পানি ও সেনিটেশন স্পেশালিষ্ট রোকেয়া আহমেদ সাকোসান, সেনিটেশন শিক্ষার চলমান প্লাটফরম অভিহিত করেন। বিশ্ব ব্যাংক কম্যুনিকেশন স্পেশালিষ্ট মিরভা তুলিয়া বাংলাদেশে তরুণদের ‘হ্যাকাথন’ ইন্নোভেশানে যুক্ত হওয়ার কথা তুলে ধরেন। মাঠ পরিদর্শনে ফোকরা এবং দুলিখেল জেলার জকিদল থাকুরী ছাপ গ্রামে তরুণ প্রধান শিক্ষক পুষ্পরাজ নেতৃত্বে স্কুল কেন্দ্রিক আবাল বৃদ্ধ বনিতার এমন স্বতর্ঃস্ফূত সকলের ফুলঝরা আকর্ষণীয় নৃত্য গান, র্যালিতে অংশগ্রহণমূলক সমতল-পাহাড়ীদের শতভাগ সেনিটেশন প্রদর্শনী সত্যিই প্রশংশনীয়। জাতিসংঘের পানি বিষয়ক বেষ্ট অনুশীলক ’১৩ পুরস্কার প্রাপ্ত এনজিও ডর্প-এর প্রতিনিধি মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রাপ্ত ‘মা’ কেন্দ্রিক সেনিটেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গৃহায়ন, কর্মসংস্থান, সঞ্চয় ও উন্নয়ন ঋণসহ উদ্ভাবনী ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ বাস্তবায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমকে ‘পাবলিক প্রাইভেট পূয়র পাটনারশীপ’র (পিপিপি) মূলধন বিনিয়োগ আওতায়, নিলেই টেকসই সেনিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে বলে মত দেন। সার্ক দেশের সেনিটেশন বিষয়ক সামগ্রী, পুস্তিকা, লিফলেট, পোষ্টার প্রদর্শনীতেও বাংলাদেশ অগ্রগামী ছিল। তত্ত্বাবধানে ছিলেন কর্মউদ্দীপক প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ ওয়াশ এলায়েন্স, ওয়াটার এইড, বিশ্ব ব্যাংক, ইউনিসেফ, এডিবি, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন, অঞ্চল, দেশ ও গ্লোবালসহ সকল প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ছিল আন্তরিক।  লেখক :উন্নয়ন কর্মী ইমেইল: [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন