শচিন টেন্ডুলকারের বিদায়ী সিরিজের প্রথম টেস্টে প্রতীক্ষিত অভিষেক পেয়েই নিজ মাঠ ইডেন গার্ডেনসে জ্বলে উঠলেন পেসার মোহাম্মদ সামি। অবশ্য শচিন নিজেও কম যাননি। দিনভর ফিল্ডিংয়ের ফাঁকে একটি উইকেটও তুলে নিয়েছেন। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৩৪ রানে আউট করে প্রথম দিনটি ভালই কাটালো মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। কেননা স্টাম্প তোলার আগে তারা কোন উইকেট না হারিয়ে ৩৭ রান তোলে।
কলকাতায় এটি শচিনের ১৯৯তম এবং শেষ টেস্ট। তাই কলকাতাবাসী এখন এই লিটল মাস্টারের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্যে আছে। এমনকি ইডেনে উদ্বোধনী দিনেই ৪০ হাজার দর্শক খেলা দেখেন। তবে এর মধ্যেই পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে আসেন সামি। মূলত তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের (৪/৭১) সুবাদেই সফরকারীদের প্রথম ইনিংস বেশিদূর যেতে পারেনি। এর মধ্যে শচিন নেন শেন শিলিংফোর্ডের উইকেটটি।
সামি এদিন ১৮ ওভার বল করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন। লাঞ্চের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভাল অবস্থায় (১০৭/২) ছিল। কিন্তু ফিরে আসার পর সামি প্রথমে মার্লন স্যামুয়েলসকে (৬৫) বোল্ড করে উইকেটের খাতা খোলেন। স্যামুয়েলসের এটি ছিল ক্যারিয়ারের ১৯তম অর্ধ শতক। তার আউটের পর ৯৬ রানে ক্যারিবিয় ইনিংস গুটিয়ে যায়।
ইডেনের দর্শকদের এদিন হতাশ করে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত। কেননা স্বাগতিক দর্শকরা এসেছিল তাদের ‘ক্রিকেট ইশ্বর’রের ব্যাটিং দেখতে। তবে দুই ওভার বল করে পাঁচ রানের বিনিময়ে শেন শিলিংফোর্ডের উইকেটটি শিকার করে ভক্তদের আশা কিছুটা হলেও মেটাতে পেরেছেন শচিন। টেস্টে এটি তার ৪৬তম উইকেট। টি-ব্রেকের আগে বল পেয়ে ঝিমিয়ে যাওয়া মাঠে আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফেরান তিনি।
ভারত শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনে ১২ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায়। তাতে বেশ স্বচ্ছন্দেই খেলেছেন ভারতের দুই ওপেনার শেখর ধাওয়ান এবং মুরলি বিজয়। দিন শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৭ রান নিয়ে দিন শেষ করেন দুই ওপেনার।
স্বাগতিক বোলারদের মধ্যে লেগ স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা দারুণ বল করলেও ২৪ ওভারে কেবল একটি উইকেট শিকার করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। তবে তার বলে উইকেটরক্ষক ধোনি স্যামুয়েলস এবং শিলিংফোর্ডের ক্যাচ মিস না করলে এই স্পিনারের নামের পাশে আরো দুটি উইকেট লেখা থাকতো। অফস্পিনার রবি চন্দন অশ্বিন ৫২ রান দিয়ে দুটি উইকেট শিকার করেন।
উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে জন্ম নেয়া মোহাম্মদ সামি আট বছর আগে কোচ বদরুদ্দিন সিদ্দিকের জোরাজুরিতেই কলকাতায় আসেন। এরপর অনূর্ধ্ব ২২ দলে ডাক পাওয়া সামি ২০১১ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়েও খেলেন। এদিন চার স্পেলে বল করেন তিনি। স্যামুয়েলসের উইকেটটির পর তৃতীয় স্পেলে সাত ওভার বল ছুঁড়ে ৩০ রানে নেন আরো দুটি উইকেট। শেষ স্পেলটা ছিল সব থেকে দুর্দান্ত। এতে তিন ওভারে একটি মেডেনসহ কেবল দুই রান দিয়ে আরো একটি উইকেট পান তিনি। উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ড্যারেন ব্রাভোর রান আউটটাও করেছেন এই পেসার।
এদিন টেস্ট খেলতে নেমেই দারুণ কিছু করার ইঙ্গিত দেন সামি। দুই ওপেনার ক্রিস গেইল এবং কিয়েরন পাওয়েল স্বাচ্ছন্দে খেলতে পারছিলেন না তাকে।
স্কোরকার্ড
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস
গেইল ক বিজয় ব কুমার ১৮
পাওয়েল ক কুমার ব সামি ২৮
ব্রাভো রান আউট ২৩
স্যামুয়েলস ব সামি ৬৫
চন্দরপল ব অশ্বিন ৩৬
রামদিন ব সামি ৪
স্যামি ক কুমার ব ওঝা ১৬
শিলিংফোর্ড এলবি ব টেন্ডুলকার ৫
পেরমল ক এন্ড ব অশ্বিন ১৪
বেস্ট অপরাজিত ১৪
কোট্রেল ব সামি ০
অতিরিক্ত ১১
মোট (৭৮ ওভারে অলআউট) ২৩৪
বোলিং:
বিনয় কুমার ১৪-৬-৩৩-১, সামি ১৭-২-৭১-৪, অশ্বিন ২১-৯-৫২-২, ওঝা ২৪-৬-৬২-১, টেন্ডুলকার ২-১-৫-১।
ভারত ১ম ইনিংস
ধাওয়ান অপরাজিত ২১
বিজয় অপরাজিত ১৬
মোট (১২ ওভারে) ৩৭
বোলিং:
বেস্ট ২-০-১৫-০, কোট্রেল ৫-২-১৩-০, শিলিংফোর্ড ৪-২-৮-০, পেরমল ১-০-১-০।
