এই একটা জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ছিল নিউজিল্যান্ড। অবশেষে সফরের শেষ দিনে এসে সেই জয় পেল তারা। জয়টা সহজে আসেনি এবং বাংলাদেশের কাছ থেকে এমন প্রতিরোধই আশা করছিলেন বলে কাল সংবাদ সম্মেলনে বললেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কাইল মিলস। মিলসের সংবাদ সম্মেলনের উল্লেখযোগ্য অংশ—
অবশেষে একটা জয় বাংলাদেশ সফরে পেলেন। কাজটা কী সহজ ছিল?
মোটেও সহজ ছিল না। আমার মনে হয়, আমরা আসলে অসাধারণ ব্যাট করেছি। উদ্বোধনী জুটি আসলে জড়তাটা কাটিয়ে দিয়ে এসেছে। এরপর রস টেলর আরেকটা সুন্দর ইনিংস খেলেছে। আর মুনরো আগের ম্যাচের ফর্মটা ধরে রেখেছে। সবমিলিয়ে আপনি যখন ২০০ রানের ওপরে একটা বড় স্কোর বোর্ডে রাখতে পারেন, তখন ম্যাচের অর্ধেক থাকতেই বেশ খানিকটা এগিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু এরপরও আমাদের বল হাতে খুব চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে। বাংলাদেশ দল পুরো সিরিজে যেমন ভয়াবহ ছিল, শেষ ম্যাচেও কঠিনভাবে ব্যাট হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত খুবই চমত্কার, উপভোগ্য ম্যাচ হয়েছে। ভালো লাগছে যে, ফলাফলটা আমাদের পক্ষে এসেছে।
কখনো মনে হয়েছে, বাংলাদেশ জিতে যেতে পারে?
সেভাবে না। কারণ, ওরা প্রথম সাত ওভারে অনেক রান তুললেও আমরা নিয়মিত উইকেট তুলে নিচ্ছিলাম। ওরা কখনোই বড় জুটি গড়তে পারেনি। আমরা সবসময়ই উইকেটে আঘাত হানতে পেরেছি। প্রায় পুরোটা ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে ছিল।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্টটা আসলে কোনটাকে বলবেন?
আমাদের ব্যাটিংটাই। আমি আসলে ম্যাচের অর্ধেক হতেই নিশ্চিত ছিলাম যে, আমরা কাজটা করতে পারব। আমাদের শুধু ভালো বল করে যেতে হবে এবং দু’- একটা উইকেট নিতে হবে শুরুতে। বোলাররা ওয়ানডের ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে এসে সেটা দারুণভাবে করতে পেরেছে। তবে বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিতে হবে। কারণ অন্তত সাত ওভার পর্যন্ত তারা যে ব্যাট করেছে।
কোরি অ্যান্ডারসনই কী ম্যাচটা জিতিয়ে দিলেন?
বাংলাদেশ দল আমাদের স্পিনারদের সবসময়ই ভালো খেলছে। সে জায়গায় কেরি অ্যান্ডারসন আসলেই পেসার হিসেবে তার কাজটা করে আসতে পেরেছে। এটা সে এই সিরিজ জুড়েই বল হাতে যখনই সুযোগ পেয়েছে করেছে। আমার মনে হয়, সে আমাদের একটা বড় প্রাপ্তি। আজও সে অসাধারণ বল করেছে।
ওয়ানডের হতাশা কাটিয়ে উঠে এই জয় পাওয়াটা কতোটা কঠিন ছিল?
৩-০ সিরিজের ওই পৃষ্ঠাটা আমরা খুব দ্রুত উল্টে ফেলতে পেরেছি। এ ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প ছিল না। এই ম্যাচের আগে মাত্র আমরা দু’ দিন সময় পেয়েছি। তবে এখানে আমরা মনে রেখেছি যে, আমরা শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশকে ভালো ব্যবধানে হারিয়েছি। আমরা জানতাম ভালো ক্রিকেট খেললে সেটা আজও করতে পারবো।
তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও বাংলাদেশ যে আক্রমণ চালালো, তাতে অবাক হয়েছেন?
না। বাংলাদেশ আসলেই শেন জার্গুনসেনের সময়ে খুব আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছে। আসলে এই যে মাঠ ভর্তি দর্শক, একটাই ম্যাচ, এখানে আপনার এই আক্রমণাত্মক খেলাই একমাত্র উপায়। আমরা জানতাম যে, বাংলাদেশ এমন কিছু করবে। তারা তাই করেছে। ভাগ্য ভালো যে, শুরুতে বেশ কিছু উইকেট তুলে নিতে পেরেছিলাম আমরা।
ডেভচিসের পারফরম্যান্সটাকে কিভাবে দেখছেন?
ও কন্ডিশনটা খুব ভালো বুঝতে পেরেছে। ও কারো মতো খেলার চেষ্টা করেনি। নিজের শটগুলোই খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলে গেছে। দেশের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলছে। আর সেখানেই প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে এভাবে দাঁড়িয়ে গেল। অসাধারণ।
