শ্বেতা মেননের ইউটার্ন এবং

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৩৯
শ্বেতা মেননের বয়স ৩৯ চলছে এখন। এখনও চমত্কার আবেদনময় ইমেজ নিয়ে দখিনী মালায়লাম সিনেমায় উপস্থিত হচ্ছেন। শোবিজে আবেদনময়ী নারী হিসেবে তার খ্যাতি ও পরিচিতি। কেরালার মেয়ে হলেও শ্বেতার জন্ম পাঞ্জাবের চন্ডিগড়ে। বাবা এয়ারফোর্সে চাকরি করতেন। শ্বেতা একদা বলিউডের সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন, টিভি শো উপস্থাপনা করেছেন। মডেল হয়েছেন, র্যাম্পে হেঁটেছেন। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিরোপাও জিতেছেন। বেশ কয়েকবার নানা ঘটনার জন্ম দিয়ে বিতর্কের ঝড়ও তুলেছেন। একবার র্যাম্পে ভারতের তিন রঙা পতাকার আদলে শরীরে কাপড় জড়িয়ে উপস্থিত হয়ে বিতর্ক আর সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন শ্বেতা। আর একবার একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ কোম্পানি তার অভিনীত ছবির স্টিল অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে তাদের যৌন উদ্দীপক ট্যাবলেটের প্রচারণা চালালে শ্বেতা মামলা করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে ঐ ওষুধ কোম্পানির মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ ঘটনাটি শ্বেতাকে অনেক আলোচনার মধ্যমণি করে তুলেছিল। গতবছর শ্বেতা মেনন প্রথম কন্যাসন্তানের মা হন। হাসপাতালে সন্তান প্রসবের দৃশ্য সরাসরি ক্যামেরায় ধারণের অনুমতি দিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন কেরালার এই আবেদনময়ী সুন্দরী অভিনেত্রী। এভাবে একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়ে শ্বেতা মেনন আলাদা খ্যাতি ও পরিচিতি অর্জন করেছেন। শ্বেতা মানেই নতুন কোনো বিতর্কের সূচনা— তেমন একটি ধারণা চালু হয়ে গেছে অনেকের মনে। সেই আবেদনময়ী অভিনেত্রী, মডেল, টিভি উপস্থাপিকা শ্বেতা মেনন কয়েকদিন আগে আরেকটি নতুন বিতর্কিত ঘটনার কারণে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। এবারের ঘটনাটি শোবিজ কিংবা গ্ল্যামার অঙ্গনে সীমাবদ্ধ থাকেনি। শ্বেতা এবার ভারতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দারুণ তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। তাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন খেলা শুরু হয়ে গেছে। কেরালার একজন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং এমপি এন পিথামবারা কুরুপ এর বিরুদ্ধে সরাসরি যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার পর কয়েকঘন্টা না পেরোতেই আবার সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে শ্বেতা মেনন আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তার এই ইউটার্ন সাধারণ মানুষের মনে অনেক প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ১ নভেম্বর শুক্রবারে কেরালার কোল্লাম শহরে প্রেসিডেন্ট কাপ বোট রেস অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন সুন্দরী আবেদনময়ী চিত্রতারকা শ্বেতা মেনন। গাড়ি থেকে নামার পর তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন স্থানীয় কংগ্রেস দলীয় এমপি এন পিথামবারা কুরুপ। উপস্থিত সমাবেশে বক্তব্যও প্রদান করেছেন শ্বেতা। কিন্তু তখনও কেউ জানতে পারেননি কংগ্রেস দলীয় স্থানীয় এমপি পিথামবারা কর্তৃক তাকে যৌন হয়রানির কথা। অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাবার পর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলে হঠাত্ করে বোমা ফাটালেন শ্বেতা মেনন। ৭৩ বছর বয়সী প্রবীণ, অভিজ্ঞ একজন রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে পুলিশের কাছে মামলা রেকর্ড করান তিনি। শ্বেতার অভিযোগ: প্রেসিডেন্ট কাপ বোট রেস অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে সেখানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। গাড়ি থেকে নেমে মূল অনুষ্ঠানস্থলে যাবার পথে স্থানীয় কংগ্রেস দলীয় এমপি এন পিথামবারা কুরুপ তার অনুমতি না নিয়ে হাত ধরেন, কাঁধে হাত রাখেন এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গা স্পর্শ করেন অশ্লীল উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে। ব্যাপারটি তার জন্য অস্বস্তির কারণ হওয়ায় তার হাত ছেড়ে দিতে বলেন শ্বেতা। অনুষ্ঠানের যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো সিনক্রিয়েট না করে চুপচাপ থাকেন বলে জানিয়েছেন ঘটনার শিকার শ্বেতা মেনন। এ ঘটনার জন্য তিনি অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণকারী কেরালার কোল্লাম শহরের কালেক্টরকে দায়ী করেন। শ্বেতার বক্তব্য হলো: কালেক্টর তাকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়েছিলেন, ওখানে তার পুরো নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল আমন্ত্রণকারীদের, তারা সেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাকে। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়েরের পর কেরালার রাজনৈতিক অঙ্গনে দারুণ তোলপাড় সৃষ্টি হয় মুহূর্তেই। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে শ্বেতা কয়েকঘন্টার মধ্যেই প্রবীণ কংগ্রেস দলীয় এমপি পিথামবারা কুরুপের বিরুদ্ধে তার আনীত যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। তার কথা হলো, একটি মহল বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলতে চেয়েছিল। আমার আনীত অভিযোগটিকে ইস্যু করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। আমি কারো রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে চাই না। আমাকে ব্যবহার করে একটি মহল ফায়দা লুটুক তা আমি চাই না বলেই বিষয়টি সমাপ্ত করে দিয়েছি। ওদিকে কেরালার রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রকাশ্যে, আড়ালে সবাই বলাবলি করছেন, পিথামবারার বিরুদ্ধে আনীত যৌন হয়রানির অভিযোগ এমনি এমনি তুলে নেননি চিত্রতারকা শ্বেতা মেনন। পিথামবারার রাজনৈতিক পক্ষ থেকে শ্বেতাকে হুমকি দেয়া হয়েছিল অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে আয়কর ফাঁকি দেয়ার কঠিন মামলায় তাকে জড়িয়ে দেয়া হবে। অহেতুক হয়রানি থেকে বাঁচতেই তিনি হঠাত্ পিছু হটে ইউটার্ন নিয়েছেন। এরকম ঘটনা ভারতে প্রথম নয়। আগেও ঘটেছে। অনেক ঘটনা সামাজিক চাপ এবং প্রভাবের কারণে মিডিয়ায় আসে না শেষ পর্যন্ত। এলেও এটাকে নানা খাতে প্রবাহিত করে বিভিন্ন মহল ফায়দা লুটতে চায় বলেই বিষয়টি অঙ্কুরেই শেষ করে দিয়েছে। লেখক: ব্যাংকার ও সিনে কলামিস্ট

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন