হরতালে ক্ষতি হচ্ছে অর্থনীতি

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৩, ২১:২৪
দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের জন্য হরতাল একটা বিরাট অন্তরায়। আর দারিদ্র্য পীড়িত বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান হাতিয়ার এ হরতাল। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য তারা কারণে-অকারণে হরতাল দিয়ে থাকেন। প্রকারান্তরে সে হরতালের কুপ্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপনে। বাংলাদেশের মত একটা দেশও এ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে দেশে রাজনৈতিক দলগুলো হরতালের মত ব্যাপক বিধ্বংসী কর্মসূচির ফলে আমাদের দেশ হারায় বিদেশি বিনিয়োগ এবং অজস্র সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায় ও অনেকে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে পরনির্ভরশীল হয়ে জীবন-যাপন করতে বাধ্য হয়। তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে হরতালের বিকল্প অন্য কোন যুত্সই কর্মসূচি বেছে নিতে হবে। এ বিষয়ে বিরোধী দলের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি সরকারি দলেরও আছে। তবে সরকারকেই সবসময় বেশি উদ্যোগী হতে হয়, যাতে এমন কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় যে কারণে বিরোধী দলকে হরতালের মত কঠোর কর্মসূচি দিতে হয়। আমরা বস্তুতপক্ষে হরতালের মত ধ্বংসাত্মক কোন কর্মসূচি আর দেখতে চাই না। ডাঃ মর্জিনা আক্তার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন ও চিকিত্সক, বারিধারা পাইল্স কিউর সেন্টার, নদ্দা, উত্তর বারিধারা, ঢাকা হরতালে বাংলাদেশে প্রতিদিন ক্ষতি হয় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা, ব্যাহত হয় শিল্প উত্পাদন, নেমে আসে দেশের সর্বত্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়। অথচ বাংলাদেশ এই সর্বনাশা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে। এদিকে হরতালে আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও যে ক্ষতি আর্থিক মানদণ্ডে বিচার করা যায় না তা হলো, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি। আর্থিক মানদণ্ডে বিচার করলে এর মূল্যমান হবে আকাশচুম্বি। মূলত হরতালের কারণে বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়, রপ্তানির নিরাপদ উত্স হিসাবে বাংলাদেশকে বিবেচনায় আনা নিয়ে অনেক দেশই বিব্রত হয়। সিপিডি’র মতে, হরতালের কারণে দেশের ১ শতাংশ পুঁজি নষ্ট হলে তাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা যা আমাদের জিডিপির দশমিক ৯ শতাংশ। এফবিসিসিআইয়ের হিসাবে একদিনের হরতালে দেশের জিডিপি’র দশমিক ১২ শতাংশ ক্ষতি হয়। এসব আমাদের দেশে হরতাল ৯৫ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে ঘটছে কাজেই এর আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি নিবারণে উপযুক্ত পন্থা নিরূপণে রাজনৈতিক দলগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে জাতিকে ঘোর অমানিষার দিকে ধাবিত হতে হবে যা স্বয়ং রাজনীতিবিদদেরও কাম্য নয় বলে আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি। তাই বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সুচাগ্র মেদিনীভাব থেকে দেশ ও জাতির স্বার্থে উভয় জোটকে বেরিয়ে এসে হরতাল, অবরোধ, ভাঙ্গচুর, জ্বালাও-পোড়াও নীতি স্থায়ীভাবে বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। ভূইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাস্থ বেগমগঞ্জ পেশাজীবী সমিতি ৫, বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা ১২০৩ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভাজন প্রক্রিয়া প্রকট হওয়ায়, হরতালের মতো ক্ষতিকর কর্মসূচি দিয়ে বিরোধী দলগুলো তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে মাঠে নেমেছে। হরতালে শুধু আর্থিক ক্ষতিই হচ্ছে না, সামাজিক সম্প্রীতি, সম্পর্কেরও ক্ষতি হচ্ছে পাল্লা দিয়ে। প্রতিদিনের আর্থিক ক্ষতি যেমন দেড় হাজার টাকা হচ্ছে, তেমনি সন্তানহারা বাবা-মা’র, স্বামীহারা বিধবার ভবিষ্যত্ অন্ধকার জীবনের ক্ষতি অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে, যা টাকার অংকে নিরূপণ করা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে ক্ষতিতে ক্ষতিতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে দেশ ও জাতি। তবুও হরতাল হচ্ছে, আগামীতেও হবে। কেন এই হরতাল? পাগলও তার স্বার্থ বোঝে, আমরা কেন বুঝি না? বাংলাদেশের রাজনীতির কদর্যতা এমন যে, যে দলই যখন ক্ষমতায় যায় তারা ‘পিঠে কুলো, কানে তুলো’ দিয়ে দেশ সেবার নামে ব্যক্তি ও দল সেবায় নেমে পড়ে। আপামর জনসেবা হয় উপেক্ষিত। অপরদিকে দলের স্বার্থ সুরক্ষা দিতে, শাসক কুলের নিরাপত্তা দিতে, সংবিধান সংশোধনীতেও আদা জল খেয়ে নেমে পড়ি। যেমনটি হয়েছে পঞ্চদশ সংশোধনী। আদালতের দোহাই দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিদায় করে, দেশ ও জাতির জন্য এক বিরাট ক্ষতের সৃষ্টি করা হয়েছে। পরমতসহিষ্ণুতা, সমঝোতার পথ থেকে সরে এসে রাজনীতিকদের আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগে ও হরতাল কর্মসূচিকে এগিয়ে নিচ্ছে বিধায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় দুর্ভিক্ষ ভর করেছে। পঞ্চদশ সংশোধনী সুস্থ ধারার রাজনীতির পথ কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে। মিমাংসিত ইস্যু বিদায় করার মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যা সমাধান না হওয়ায় জান-মালের ক্ষতি করেও সরকার বিরোধীরা দিনের পর দিন হরতাল দিয়ে যাচ্ছে। সত্যি কথা বলতে কি, আমরা স্ব-বশে নেই। তাই জানমাল ও আর্থিক ক্ষতি এখন রেগুলার প্রাক্টিসে রূপ নিয়েছে। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসাবে হরতাল এখন আর জনগণ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য কর্মসূচি নয়। হরতালকে ভয়তাল বলা হয়েছে সে বহু আগেই। এখন তো মানুষের চিন্তা-চেতনাতে আরও পরিবর্তন এসেছে। পৃথিবীর অন্য সব উন্নত দেশে যেখানে সরকার, বিরোধী দলসমূহ ও সর্বোপরি জনগণের চিন্তা ও কর্মে দেশ গঠনের মত বিষয়টি ঘুরপাক খায়, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের মত দেশে দেশ গঠনের পরিবর্তে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপেই কেন যেন একশ্রেণির উচ্ছৃঙ্খল মানুষ বেশি আনন্দ পায়। এটি হয়ত এক ধরনের হতাশারই ফলশ্রুতি। রাজনৈতিক দলগুলোর ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধীরা দেশে হরতালের সময় তাদের ইচ্ছামত মনের খেদ মেটাতে কিংবা কখনো কখনো লুটপাট করতে সুযোগ পায়। হরতাল কোন কারণেই আর এ দেশের জন্য অর্থবহ নয়। অন্য কোন বিকল্প কর্মসূচি রাজনৈতিক দলগুলো খুঁজে বের করবে, সেটিই এখন আমাদের মত সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। সরকারকেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত মারাত্মক অপরাধ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নির্দলীয় প্রশাসন গড়ে তুলতে পারলে আমার আমরা হরতালের মত দেশবিরোধী কর্মসূচি থেকে বিরোধী দলকে বিরতে রাখতে আরও বেশি যুক্তিগ্রাহ্য চাপ প্রয়োগ করতে পারব। অধ্যাপক ওমর ফারুক এডিটর, ইংরেজি সাপ্তাহিক ঢাকা পোস্ট, উত্তর বারিধারা, ঢাকা। সত্যি হরতালে সবচেয়ে ক্ষতি হচ্ছে দেশের অর্থনীতির। তাই আমরা আশাকরি বিরোধী জোটের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং আগামীতে তারা প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে হরতালের বিকল্প পথ খুঁজে বের করবে। কাজী শহীদুল ইসলাম রয়েল নিশিন্দা, মধ্যপাড়া, বগুড়া। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ৬০ ঘণ্টার হরতালে প্রথমদিনেই মারা গেছে ৪ জন। পরবর্তী ৬০ ঘণ্টার হরতালে ১৯ জন মারা গেছে। তাই আমাদের মনে এখন প্রশ্ন জাগে আর কত লাশ পড়লে ও আর কত মানুষ মারা গেলে ও মায়ের বুক খালি হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বোধোদয় হবে? হোসনে আরা করিম, এনায়েতগঞ্জ লেন, ঢাকা বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর যে ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের জিডিপির ৪ দশমিক ৫ শতাংশের সমান। হরতালে দেশের জনগোষ্ঠীকে করে তোলে কর্মবিমুখ, অলস, অন্যদিকে ধ্বংস করে মানবিক মূল্যবোধ। হরতালে শুধু বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিই বিনষ্ট হচ্ছে না। বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকেরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সুতরাং হরতাল পরিহার করে বিকল্প আন্দোলনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। লাড্লা, আজিমপুর, ঢাকা ঢাকা শিল্প ও বণিক সমিতির ভাষ্য অনুসারে একদিনের হরতালে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পখাতে ১ হাজার ৬শ’ টাকার ক্ষতি হয়। তিনদিনের হরতালে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা। যদি তাই হয় তাহলে দেশ উন্নত হবে কিভাবে। কেউই এরকম হরতাল সমর্থন করবে না। কারণ আমরা তো পিছিয়ে যেতে রাজি নই। আবদুল মালেক মিয়া দলিল লেখক সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, মিরপুর, ঢাকা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতির নেতিবাচক প্রবণতা প্রকাশ পাচ্ছে নানাভাবেই। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ থমকে যাচ্ছে, ব্যক্তি বিনিয়োগ থমকে যাচ্ছে, রেমিটেন্সের বিষয়টিও চিন্তার। সুতরাং হরতালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে অর্থনীতির বিষয়টি। হরতাল পরিহার করে নতুন কোন আন্দোলনের পন্থা বেড় করতে রাজনৈতিক দলসমূহের ভাবা দরকার। বজলুল করিম রিসোর্স ইট্রিগ্রেশন সেন্টার (রিক), ধানমন্ডি, ঢাকা সিপিডির হিসাবে হরতালে ১ শতাংশ পুঁজি নষ্ট হলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আর এফবিবিসিআইয়ের দাবি হচ্ছে ১ দিনের হরতালে দেশের জিডিপির দশমিক ১২ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মো. সেলিম, মহাখালী, ঢাকা হরতালে ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয় বেশি। বিশেষ করে কাঁচামালের ব্যবসায়ীদের। হরতালে দোকান খোলা রাখলেও বেচা বিক্রি তেমন হয় না। অন্যদিকে যারা চাকরিজীবী তাদের তো অফিসে যেতেই হবে, তাই এই হরতালে দিনটিতে বাসা থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বের হতে হয়। সুতরাং হরতালে সর্বত্র আতংক থাকে। হরতাল পরিহার করা একান্ত জরুরি। হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী কবিরহাট, নোয়াখালী এটাও ঠিক হরতাল জনজীবন ও অর্থনীতি বিপন্ন হলেও সরকারের সহজে পতন হয় না। তাই দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রতি আমাদের আহ্বান রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করুন। মো. মোজাহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান, ইন্টারন্যাশনাল ডারলগ এইড ফাউন্ডেশন সাভার হরতাল মানে এখন সহিংসতা। ককটেল বিস্ফোরণ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা। অন্যদিকে অর্থনীতির ক্ষতিগ্রস্ত হয় সব শাখায়। এমন হরতাল জনগণ আর মেনে নিতে চায় না। মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল) আরাপপুর, ঝিনাইদহ একটি গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের সহিংস হরতাল কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সুতরাং সহিংসতার হরতাল পরিহার করে একটি গঠনমূলক রাজনৈতিক আন্দোলনে মনোযাগী হওয়া দরকার। খায়রুল বাশার (চয়ন), কুতুবখালি, যাত্রাবাড়ি দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪২ বছর প্রায়। অথচ আমাদের দেশের কোন কিছুতেই তাল নেই। সারা পৃথিবীর বাজার অর্থনীতির বলতে আবদ্ধ। বাজার অর্থনীতির মূল টার্গেট হলো অর্থ। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কিছু অগ্রসর। তার মাঝে হরতালে মতো চরম ক্ষতিকর বিষয়টি চেপে বসছে। রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, কোন কিছুতেই তাল নেই। হরতালের তাল কিন্তু দিন দিন শক্ত পাকাপোক্ত হচ্ছে। যেই বিরোধীদলে যায় কারণে-অকারণে হরতাল দিয়ে দেশের ১২টা বাজিয়ে ছাড়ে। গত দেড় যুগে হরতালে যে ক্ষতি হয়েছে তা দিয়ে না কী দেশের দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী সবার ২৭ বছরের খাদ্য সংস্থান হতো। আমরা সভ্যতার দাবিদার। এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বাদ দিতে হবে। আইন করে হরতালকে চিরতরে বন্ধ করতে হবে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক নীতি নির্ধারকদের সদিচ্ছা নেই। আমরা সবাই বলির পাঁঠা। অপেক্ষা করতে হবে। সর্বনাশার হরতাল চলবে আর কতকাল। সুমন সিয়াদার, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা হরতাল হচ্ছে একটি জলাতঙ্কের নাম। হরতাল ডাকলে দেশের জনগণ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে হয়ে পড়ে নিরাপত্তাহীন। হরতাল চলাকালীন জননিরাপত্তা পদে পদে বিঘ্নিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষ। সুতরাং আমরা আশা করবো হরতাল না দিয়ে বিকল্প কিছুর চিন্তা-ভাবনা। আবুল হোসেন ইলেকট্রিক প্লাজা, মিরপুর, ঢাকা হরতাল মানব সভ্যতা ধ্বংস করে দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশা ডেকে আনে। হরতাল একটি জাতির পতনের পথ নির্দেশনা দিয়ে থাকে। সংঘাত, সহিংসতা, দুর্নীতি, শিক্ষার অবক্ষয়, উত্পাদনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। হরতালকে হাতিয়ার করে দিনমজুর, শ্রমিক শ্রমজীবীদের টাকা দিয়ে মিটিং-মিছিলে অংশগ্রহণে বাধ্য করছে। সরকার মানেই নির্বাচিত সংসদ। এ দেশের বেতনভোগী নির্বাচিত সংসদ তবে কেন কাজ করছে না। উন্নয়ন কাজে না থেকে সহিংসতাকে গ্রহণ করে ১ দিনের হরতালে দেড় হাজার কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের ক্ষতি, জনগণের ক্ষতি, দেশবাসীর ক্ষতি এখন এর বিরুদ্ধে শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষদের হরতাল ডাকা উচিত বলে মনে করি। আশা এলিজাবেথ গোমেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০ হরতাল মানেই এখন সহিংসতা। হরতাল মানেই এখন জ্বালাও, পোড়াও, ভাংচুর, ব্যবসা বাণিজ্যে ক্ষয়ক্ষতি। হরতাল মানেই এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, শিল্প প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি। হরতাল মানেই অসহনীয় জনদুর্ভোগ। হরতাল মানেই অর্থনীতির বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন। আমরা আমাদের দেশে এমন হরতাল আর চাই না। আমরা রাজনীতিতে চাই দুই প্রধান নেত্রীর মধ্যে সমঝোতা ও সংস্কার। শেলী, স্যানি সাইড, নিউইর্য়ক হরতালকে কেন্দ্র করে যেসব সহিংসতার খবর প্রতিদিন আমরা দেখছি ও পত্রিকায় পড়ছি। এতে করে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এদেশের অর্থনীতি। পিছিয়ে পড়বে দেশ। সুতরাং আমরা সুন্দর সুষ্ঠু পরিবেশে দুই নেত্রীর আলোচনা, সংলাপ দেখতে চাই। আইরিন সুলতানা সন্জু, ধুপপুর, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম হরতালের কারণে দেশে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। আমরা চাই বিরোধী দল ও মহাজোট সরকার একসাথে আলোচনার মাধ্যমে সর্বদলীয় সরকার গঠন করে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করবে। অমিত বণিক উন্নয়ন কর্মী, কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ সমঝোতায় না গিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের কর্মসূচি-পাল্টা কর্মসূচি নতুন প্রস্তাব অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং এর থেকে বেরিয়ে আসা দরকার রাজনৈতিক নতুন কর্মসূচি দিয়ে। ফারুক আলম, মালিবাগ, ঢাকা সহিংসতা; বার বার হরতাল এবং নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝে এখানে কেউ বিনিয়োগ করে লোকসান দিতে চাইবে না; এটাই সত্য। সুতরাং এখন দুই দলকে এক সাথে বসে আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। মাসুদ আলম বিপ্লব, উর্দ্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা হরতালে দেশ সার্বিক পর্যায়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হরতাল কোনভাবেই দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। এখন যে হরতাল চলছে তার জন্য দায়ী সরকার, এই হরতাল কখনো সহনীয় নয়। সাইফুল ইসলাম তানভীর মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট এ হরতাল কেন? ১৯ কিংবা ২০ শতকে এই ভোতা অস্ত্র আর কতদিন এই জাতির ঘাঁরের উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। হরতালের যৌক্তিকতা যতই থাকুক না কেন; বর্তমান যুগে সাধারণ মানুষ কখনো হরতাল সমর্থন করে না এবং পছন্দও করে না। এ হরতালে মানুষগুলো জীবন দিচ্ছে, কিংবা যারা পঙ্গু হচ্ছে তাদের দায় কার? অর্থনীতির চরম ক্ষতি তো হচ্ছেই, অহরহ অগণিত সাধারণ মানুষও বলি হচ্ছে। অনেকে বলেন, হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার। ধিক এই অধিকারকে। যে অধিকার দেশ, জাতি ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর সে কারণেই এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধ করা উচিত। বর্তমানের হরতালগুলো সরকারের একগুঁয়েমির জন্য জনগণের উপর বর্তাচ্ছে। সরকার উচিত দয়া করে দেশ ও জাতির স্বার্থে জনগণের এই দাবি মেনে নিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচন দিয়ে জাতিকে বাঁচানো। শাহ্ আলম খান স্বরল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম হরতাল দিয়ে দেশের যে অর্থনীতি ধ্বংস হচ্ছে এবং মানুষের জীবন বিপন্ন করা হচ্ছে এর দায়-দায়িত্ব সরকারি দল ও বিরোধী দল দু’জনকেই নিতে হবে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দেশকে ধ্বংস করা ও বোমাবাজি এবং মানুষকে হত্যা করা এটা মারাত্মক অপরাধ। মানুষ হত্যা করার অধিকার কারো নেই। সৈয়দ হায়দার আলী সভাপতি, মহাখালী যুব কল্যাণ সমিতি, মহাখালী, ঢাকা দু’টি দলই বলে তারা নাকি জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করে। কিন্তু তাদের অসমঝোতার জন্য তারা যেভাবে কাদা ছুঁড়াছুড়ি করছেন এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ জনগণ। তারা এমন কোন বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করুক যেখানে জনগণের ক্ষতি হবে না, বরং তাদের সমঝোতা হবে। জনগণতো এখানে নিছক, তারা কেন দুর্ঘটনার শিকার হবে। জনগণকে এভাবে কাঁদিয়ে তারা ক্ষমতা দখলের যে লড়াই করছে এতে মনে করি তাদের রাজনীতি থেকে অব্যাহতি নেয়া উচিত। রাজনীতি যেহেতু জনগণের স্বার্থে তাই জনগণের সাথে কাঁধ মিলিয়ে জনগণের কাতারে এসে রাজনীতি করতে হবে। ইভান, কাওরাইউ, শ্রীপুর, গাজীপুর হরতাল মানেই জনজীবনকে বিপর্যস্ত করা এবং মানুষের স্বাধীনতার নগ্ন হস্তক্ষেপ করা। হরতাল মানেই অর্থনীতির ধ্বংস করা। সে সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যকে অবরুদ্ধ করে রাখা। প্রতিদিন শিল্প কারখানার উত্পাদনে বাধা দেয়া। এখন ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার পরিবেশকে প্রতিহত করা হচ্ছে। হরতালে বোমা মেরে মানুষ খুন, গাড়িতে আগুন লাগিয়ে যাত্রী বা চালককে খুন করে এমন ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে যা দেখে জাতি চমকে উঠছে। হরতালে যদি প্রতিদিনের ক্ষতি ১ শত ৫০ কোটি টাকা হয় তাহলে ত্রিশ দিনের পরিমাণ কত দাঁড়ায় সেটা কি তারা বিবেচনা করেছেন কখনো। হরতালে আনুপাতিক হারে শিল্প কারখানার উত্পাদনে ব্যাহত হওয়ায় এবং জনগণের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ায় অর্থনীতি স্তবির হয়ে পড়ছে। হরতালে রাষ্ট্র ও জনগণের উপকার কিংবা উন্নতি হয়েছে এমন নজির বিশ্ব কোথাও দেখা যায় না। আমাদের উভয় নেত্রীর এখনই এ বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। শাহ মো. হেলালউদ্দিন হিরু, কালিহাতী, টাঙ্গাইল হরতালের ক্ষতি সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় জীবনহানির কথা। তারপর আসে আহত এবং জ্বালাও পোড়াও-এর কারণে ব্যাপক সম্পত্তি ধ্বংসযজ্ঞ। এর ক্ষতি পূরণ কেউ কোনদিন নিরূপণ করেছে বলে জানা নেই। ১৫০০ কোটি টাকা ক্ষতির কথা বলা হয়, সেটি একটি কথার কথা বলে মনে করি। নানাবিধ ক্ষতি এবং খরচ হরতালের জন্য মানুষের জীবনে ঘটে যায়। অপরদিকে মিল কারখানা দোকানপাট, কলেজ-মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, বাজার বন্ধ থাকায় এবং নিত্যনৈমিত্তিক আয় উপার্জনকারী ব্যক্তিবর্গের যে কত বড় ক্ষতি সাধিত হয় তা হিসাবে নিরূপণ করা যাবে না। যেমন যায় না, মায়ের সেবাকে টাকা দিয়ে নিরূপণ করা। শিক্ষার্থীরা একদিন কিংবা দু’দিন স্কুল-কলেজে না গেলে তাদের জ্ঞান আহরণের যে ক্ষতি হয় সেটা ব্যারোমিটারে মাপা হবে। তাই সব শুভবুদ্ধির মানুষের কাছে উদাত্ত আহ্বান হরতাল বন্ধ করুন। হরতালে দোকান এবং দেশের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনে না। এ থেকে জাতি মুক্তি চায়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে বা যারা সরকারে থাকে তারা হরতাল চায় না। এরাই বিরোধী দলে গেলে আবার হরতাল ঘন ঘন দেয়। এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাহলেই দেশের উন্নয়ন ঘটবে। ওয়াহিদ মুরাদ, নেছারাবাদ, পিরোজপুর হরতালে শুধু অর্থনীতি ও শিল্প উত্পাদন ব্যবহূত হচ্ছে না। পাশাপাশি সারাদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। স্বাধীনতার শপথ ও বিপক্ষ শক্তি এই দু’নামে জাতির বিভক্তি। বর্তমানে সর্বদলীয় ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে প্রবেশ করেছে। এই বিভক্তি নিরসন হওয়া জরুরি। তা না হলে ব্যাপক ক্ষতির দিকে দেশ অগ্রসর হবে। জাহাঙ্গীর আলম (অবঃ) মুক্তিযোদ্ধা, অরেন্ট অফিসার, গোলাপবাগ, ঢাকা আমাদের ছোট দেশে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। কিন্তু এর চেয়ে বেশি যে ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়ে দুই নেত্রীর কোন মাথা ব্যথা নেই। প্রতিদিন দেশে কোন না কোনভাবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য মানুষের শত শত প্রাণ বিনষ্ট হচ্ছে। এতে করে ইসলামী দৃষ্টিতে এটা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। মানুষ হত্যা রাষ্ট্রের অভূত পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশি জনবলকে কাজে লাগানোর যে প্রয়াস ছিল তাতে বিশ্বের বুকে সমাদৃত হয়ে আছি। অথচ সে জন্য শক্তিকে আমরা অর্থাত্ রাজনীতিবিদদের অসহিষ্ণতার জন্য বিনষ্ট হতে চলেছে। কাজেই এই জনবলকে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করতে পারলে শুধু এদেশের অর্থনীতি ঘাটতি কেন সার্বিক উন্নয়নে এগিয়ে যাবো। কাজেই আমাদের একান্ত অনুরোধ দেশের মধ্যে আর হানাহানি, জনশক্তিকে বিনষ্ট না করে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সব ধরনের হত্যা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। আগামী নির্বাচনে সকলকে অংশগ্রহণ করতে হবে। আমরা হানাহানি , খুনাখুনি, ভাংচুর, দেখতে চাই না। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা একান্ত কর্তব্য মনে করি। আলহাজ্ব হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু) হাউজিং ষ্টেট, রাজশাহী-৬২০২ শর্তের বেড়াজালে দুই শীর্ষ নেত্রী, দু’পক্ষের মধ্যে সংলাপ হওয়াটাই হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। এর থেকে যত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসা দরকার। আলমগীর, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা হরতালে ড্রাইভার গাড়ীতে ঘুমিয়ে থাকে, সে সময় পেট্রোল দিয়ে ড্রাইভারসহ গাড়ী পুড়ানো হয়। এমন ঘটনা আগে হয়নি বিগত ১৯৯৬ইং সালে ১৭৩ দিনের হরতালে এমন ঘটনা দেখা যায়নি। তাছাড়া তখন ঘনবসতি যা ছিল তার থেকে এখন দেড়গুণ ঘনবসতি ঢাকা এখন। হরতাল দিলে এখন জনগণের বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। এর পূর্বে যত হরতাল হয়েছে তখন কখনো দেখা যায়নি হরতালের সময় সরকার পরিবর্তন হয়। বরং সাংবিধানিক সংকট হলে সরকার পরিবর্তন হয় কিন্তু বর্তমানে যে রকম সাংবিধানিক সংকট নেই। তারপরেও বিরোধীদল অযথাই হরতাল ডেকে চলেছেন। তার ফলশ্রুতিতে লাশের স্তূপ বেড়ে চলেছে প্রতিদিন। সেজন্য আমাদেরকে হরতালে সংঘাত পরিবর্তন করাও দরকার। প্রকৌশলী/মোহাম্মদ কুদ্দুসুর রহমান আজীবন সদস্য, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ বর্তমান রাজনৈতিক দর্শনে হরতাল, সহিংসতা, খুন, হত্যা যা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে তুলছে। আর এটাই স্বাভাবিক হিসাবে লালন করছেন রাজনীতিবিদগণ। জনগণের মঙ্গলের জন্য যে রাজনীতি সে রাজনীতি এখন জ্বালাও, পোড়াও, মানুষ খুন, হরতাল, সহিংসতা, পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। বিশ্বাস ও অবিশ্বাস। ক্ষমতায় যাওয়ার ও থাকার মূলমন্ত্র। জনগণ বিশ্বাস করতে পারছে না এ কারণেই যে দু’নেত্রী অভিজ্ঞ। দেশ পরিচালনায় যথেষ্ট দক্ষ ও অভিজ্ঞ। কিন্তু তারা কেন জনগণের মঙ্গলের কথা, দেশের কথা, শান্তির কথা চিন্তা না করে নিজেদের অহমিকায় অবিচল থেকে দেশকে কেন বাইরের শক্তির কাছে তুলে দিতে সহায়তা করছে। কোনকিছু ঘটে গেলে সরকার ও বিরোধী উভয় দল দেশের কাছে কলঙ্কের কালিমা হয়ে থাকবে। মন্জু খন্দকার, চুয়াডাঙ্গা বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, গত ৬দিনে ক্ষতি হয়েছে ১০০ হাজারের বেশি টাকা। রাজনীতির পক্ষের প্রাপ্তি কতটুকু হয়েছে সে হিসাব তারাই ভালো জানবেন। সব মিলিয়ে হরতালে দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যখন এই গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগ জনগণ ও দেশের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন করছে তখন বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা না করে হরতাল-অবরোধ করে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করছে। এটা জনগণ কখনই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আশা করে না। ফারুক আহমেদ, বাগমারা, রাজশাহী সম্প্রতি পর পর দুটো হরতালের দিনভর টিভি চ্যানেলগুলো দেশজুড়ে হরতালের সচিত্র খবর দেখিয়েছে। সহিংসতা, সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, মৃত্যু সব মিলিয়ে লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে হরতালে। এতে করে কি হলো দেশের? কি হয়েছে রাজনৈতিক দলের? কি হলো জনগণের? শুধু বলতে পারি ক্ষতি ছাড়া কিছুই হয়নি। হরতাল যদি সার্থকতা না দিল তাহলে এ কেমন হরতাল। মো. হানিফ মিয়া রিসোর্স ইন্ট্রিগ্রেশন সেন্টার (রিক) ধানমন্ডি, ঢাকা আমরা চাই সহিংসতা, ক্ষমতার রাজনীতির অবসান হোক। আর তার জন্য রাজনৈতিক ব্যবসা ও নেতৃত্বে অবশ্যই গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। সোহাগ, ভাগলপুর লেন, নবাবগঞ্জ, ঢাকা হরতাল ও নির্বাচন আমাদের দেশে দুটোই পাশাপাশি থাকে। এছাড়া বিষয়টি অনেক পুরনো হিসাবে চিহ্নিত। এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ও নভেম্বরের ৪ তারিখ পর্যন্ত ৩২৩ জন মারা গেছে। হরতালে। তাদের পরিবারের কথা কে ভাবছে? তাদের জন্য কে এগিয়ে আসবে? সুতরাং এগুলো বন্ধ করতে হবে। শিশির, আজিমপুর, ঢাকা হরতালে বহুবিধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যারপরনাই এর ক্ষতির পরিমাণ পুষিয়ে নেয়া খুবই কঠিন। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস শিল্পের অস্থিরতা সবচেয়ে নেতিবাচক দিক। হরতালকে কেন্দ্র করে যেসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে তার শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীসহ দেশের সব পেশার মানুষই। আমরা হরতালের পক্ষে নেই। আমরা চাই শান্তিময় কর্মসূচি। সেটাই সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান। মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা হরতালের কারণে অর্থনীতির ক্ষতি সময়ের ব্যবধানে একদিন না একদিন হয়তো পুষিয়ে যাবে। হরতাল শেষে শিল্প উত্পাদন শুরু হবে। কিন্তু সহিংস হরতালের জন্য পুলিশের গুলিতে, বোমার আঘাতে, আর পেট্রোলের আগুনে যে সকল প্রাণ অকালে ঝরে গেল—গেল। পরিবার নিঃস্ব হলো- হবে। এর জবাব অহেতুক দুই প্রধান নেত্রীকেই দিতে হবে জনগণের কাছে। তবে আমি শুধু বলবো দশম জাতীয় নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি আত্মত্যাগই হরতালের মূল চাবিকাঠি। অন্যথায় কবি দাউদ হায়দারের ‘জন্মই’ আমার আজন্ম পাপ’ কবিতার সুরে সুর মিলিয়ে আবৃত্তি করবো ‘বাংলাদেশে জন্মানোই হয়তো আমাদের সকলের জন্য আজন্ম পাপ।’ মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা গবেষকদের মতে, একদিনের হরতালে ক্ষতির পরিমাণ অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকা। তার মধ্যে পোশাক শিল্পের ক্ষতির পরিমাণ ২০০ কোটি টাকার মত। অন্যদিকে এবারে দ্বিতীয় পর্যায়ে হরতালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট জেএসসি পরীক্ষা হরতালের কারণে কর্তৃপক্ষ তারিখ পরিবর্তন করেছে। এভাবে এ মাসে রয়েছে মাধ্যমিক স্কুল ও প্রাইমারী স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা। সুতরাং এই পরীক্ষাগুলো যদি সময়মত না হয় তবে উক্ত পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হবে। ব্যবসায়ীদের লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ গুনতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া দিনমজুরের আয়ের পথে বাধা। সব মিলিয়ে বিশৃঙ্খলায় দেশ ও জাতি। সুতরাং এখনো আমরা আশা করছি, দু’নেত্রী যাতে একত্রে বসে সংলাপ ও আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করে নেয়। এস, কে, এইচ রমিজউদ্দিন প্রশিকা প্রধান কার্যালয়, মিরপুর, ঢাকা আমরা লক্ষ্য করছি যে বছর নির্বাচন থাকে সে বছর বেশি হরতালও থাকে। এতে করে সে বছরটিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমে যায়। যেমন তার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৬ সালে। সুতরাং আমরা আসলেই সাধারণ মানুষ হরতাল প্রত্যাশী নই। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু পরিবেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি। মুন্সী মো. ওয়াহিদউল্লাহ, প্রধান সড়ক, ফেনি আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি গত দুই দশকে গণতান্ত্রিক শাসনামলে যত হরতাল হয়েছে তার এক দশমাংশও হয়নি সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। সুতরাং গণতান্ত্রিক সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বদের এ বিষয়ে মনোযোগী হওয়া অপরিহার্য। মাসুম আহম্মেদ শেকড়ের সন্ধানে, যাত্রাবাড়ী

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন