তিন দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে গড়িয়েছে ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দশম রাউন্ড। বিকেএসপি’র তিন নম্বর মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আবাহনী ক্রীড়াচক্র ২৭ রানে পরাজিত করেছে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে। গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্সকে নয় রানে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দিল কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমী। একই দিনে অনুষ্ঠিত অপর দুটি ম্যাচে জিতেছে শেখ জামাল, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
জিতেই চলেছে আবাহনী
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ৪৯.৩ ওভারে অল আউট হবার আগে ২২৭ রান করে আবাহনী। সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন ওপেনার জর্জি স্মিথ। অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফিস ৪৩ ও আলাউদ্দিন বাবু ৪৪ রান করেন। ব্রাদার্সের হয়ে চারটি উইকেট নেন অধিনায়ক সোহরাওয়ার্দী শুভ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বলার মতো রান করতে পারেননি ব্রাদার্সের কেউই। প্রত্যেক ব্যাটসম্যানই দারুণ সূচনা করলেও শেষ পর্যন্ত সেটা ধরে রাখতে পারেননি। ১ থেকে ১১ পর্যন্ত, সব ব্যাটসম্যানই দুই অংকের ইনিংস ছুঁয়েছেন। সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে লোয়ার অর্ডারে নামা জসিম উদ্দিনের ব্যাট থেকে। আবাহনীর শামসুল আলম বাবু পাঁচটি ও আল আমিন দুটি উইকেট নেন।
অল আউট হবার আগে ২০০ রান করতে পারে ব্রাদার্স। যদিও টানা তিন ম্যাচ জিতলেও পয়েন্ট তালিকায় শেষের দিকেই আবাহনীর অবস্থান। ছয় পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে আছে ঐতিহ্যবাহী দলটি।
অঘটনের শিকার গাজী ট্যাংক
পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্সকে হারিয়ে মৌসুমে নতুন অঘটনের জন্ম দিল কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমী। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একতরফা ম্যাচে কলাবাগান গাজী ট্যাংককে হারিয়েছে নয় উইকেটের বিশাল ব্যবধানে।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২০৪ রান করে অল আউট হয়ে যায় গাজী ট্যাংক। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইমরুল কায়েস করেন সর্বোচ্চ ৮৩ রান। একাডেমীর হয়ে দুটি করে উইকেট নেন মাকসুদুল হাসান, অভিষেক মিত্র ও জাকারিয়া মাসুদ।
জবাবে রীতিমতো হেসে-খেলেই জিতেছে কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমী। ওপেনার অভিষেক মিত্র ২১ রান করে আউট হয়ে গেলেও ছিলেন আরেক ওপেনার আব্দুল মজিদ। তার সাথে জুটি বাঁধেন জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তাদের ১৫০ রানের জুটিতে জয় পেতে কোন সমস্যাই হয়নি দলটির। মজিদ ১০২ ও মাসাকাদজা ৭৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
যদিও এই হারে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থানেই থাকছে গাজী ট্যাংক। তাদের পয়েন্ট ১২। অন্যদিকে ১১ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমী।
সানির বোলিংয়ে শেখ জামালের জয়
টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে স্পিনার ইলিয়াস সানির স্পিন ঘূর্ণিতে খেলাঘরকে ছয় উইকেটে হারালো শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। সানির বোলিংয়ে ১৯০ রানে গুটিয়ে যায় খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সংস্থা। ইলিয়াস সানি শেখ জামালের হয়ে ২২ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন। দিন শেষে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠে তার হাতে।
খেলাঘরের দেয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিলশান মুনাবিরার ৮৮ রানের উপর ভর করে ৬ উইকেটে সহজে জিতে যায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। বিকেএসপি’র ২ নম্বর মাঠে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ১৯০ রান জমা করে।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন স্টিভেন মুলানি। এছাড়া ৪০ রান করেন মাইকেল ভেন্ডট। অধিনায়ক নিয়াজ মোর্শেদ করেন ৩০ রান। ইলিয়াস সানির ৪ উইকেটের সাথে ২টি করে উইকেট নেন নাহিদুল ইসলাম ও অ্যাঞ্জেলো পেরেরা। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে শ্রীলংকান দিলশান মুনাওয়ারার ৮৮ ও অধিনায়ক মুশফিকের ৩১ রানে ভর করে সহজেই জিতে যায় শেখ জামাল।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা দিলশান ৬ চার ও ৫ ছয়ে ৮৮ রান করে রান আউটের শিকার হন। শেষ পর্যন্ত ২১ রানে করে অ্যাঞ্জেলো পেরেরা শেখ জামালকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায়। পঞ্চম স্থানে থাকা শেখ জামালের পয়েন্ট এখন ১০।
সহজে জিতলো প্রাইম ব্যাংক
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দশম রাউন্ডে সহজ জয় তুলে নিলো প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ভিক্টোরিয়া সব উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে প্রাইম ব্যাংক ২৬.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
প্রাইমের হয়ে সৈকত আলী ৮১ ও রুম্মান আহমেদ ২৫ রান করেন। ৬৯ বল মোকাবিলা করে সৈকত ৮ চার ও ৩ ছয়ে ৮১ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন।
এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে ভিক্টোরিয়া ২১ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। সৌম্য সরকার ৩ ও আনামুল হক মাত্র ৪ রান করেই বিদায় নেন। এরপর তৃতীয় উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়েন মাইসিকুর রহমান ও নাসির হোসেন। দলীয় ৭৭ রানে মাইসিকুর (৩৩) লিয়াম এ ডাউসনের শিকার হন। ১ রান যোগ হতেই নাসির হোসেনকে ৩৫ রানে ফিরিয়ে দিয়ে দ্বিতীয়বার আঘাত হানেন লিয়াম এ ডাউসন। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ভিক্টোরিয়া। ১৩৪ রান তুলতেই ছয় উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় গত লিগের শিরোপাধারীরা। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে লিয়াম এ ডাউসন ও এনামুল জুনিয়র ৩টি করে উইকেট নেন। এছাড়া রবি বোপারা ২টি, তাপস বৈশ্য ও জিয়াউর রহমান ১টি করে উইকেট নেন। ১৮ রানের খরচায় ৩ উইকেট নেয়া এনামুল জুনিয়র ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আবাহনী—ব্রাদার্স ইউনিয়ন
আবাহনী: ৪৯.৩ ওভারে ২২৭/১০ (গ্রেগরি স্মিথ ৬২, আলাউদ্দিন বাবু ৪৪, শাহরিয়ার নাফিস ৪৩; সোহরাওয়ার্দী শুভ ৪/৪১, অলক কপালি ২/৩০, ইফতেখার সাজ্জাদ রনি ১/২২)।
ব্রাদার্স ইউনিয়ন: ৪৬.১ ওভারে ২০০/১০ (জসিম উদ্দীন ৩৩, থিলান সামারাবিরা ২৮, ইমতিয়াজ হোসেন ২১; শামসুল আজম বাবু ৫/৩৭, আল-আমিন ২/৩৪, নাবিল সামাদ ১/৩০)।
ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ: শামসুল আজম বাবু।
ফল: আবাহনী ২৭ রানে জয়ী।
গাজী ট্যাংক—কলাবাগান
গাজী ট্যাংক: ৪৯.৫ ওভারে ২০৪/১০ (ইমরুল কায়েস ৮৩, আফতাব আহমেদ ২২, হামিদুল ইসলাম ২২; জাকারিয়া মাসুদ ২/২৩, অভিষেক মিত্র ২/৪১, মাকসুদুল হাসান ২/৪১)।
কলাবাগান: ৪১.১ ওভারে ২০৭/১ (আবদুল মজিদ ১০২*, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৭৭*, অভিষেক মিত্র ২১; আরাফাত সানি ০/৪৪, আশার জায়দি ০/৩১)।
ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ: আবদুল মজিদ।
ফল: কলাবাগান ৯ উইকেটে জয়ী।
শেখ জামাল—খেলাঘর
খেলাঘর: ৪৬.৫ ওভারে ১৯০/১০ (স্টিভেন মুলানি ৪৪, মাইকেল ভ্যানডর্ট ৪০, নিয়াজ মোরশেদ ৩০; ইলিয়াস সানি ৪/২২, অ্যাঞ্জেলো পেরেরা ২/২৫, নাহিদুল ইসলাম ২/২৬)।
শেখ জামাল: ৩৫.২ ওভারে ১৯৪/৪ (দিলশান মুনাবিরা ৮৮, মুশফিকুর রহিম ৩১, অ্যাঞ্জেলো পেরেরা ২১; স্টিভেন মুলানি ১/২৪, ফোরকান /১২৯)।
ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ: ইলিয়াস সানি।
ফল: শেখ জামাল ৬ উইকেটে জয়ী।
ভিক্টোরিয়া—প্রাইম ব্যাংক
ভিক্টোরিয়া: ৪০.১ ওভারে ১৩৪/১০ (নাসির হোসেন ৩৫, মাইশুকুর রহমান ৩৩, রবিউল ইসলাম শিবলু ২৫; এনামুল হক জুনিয়র ৩/১৮, লিমা ডাওসন ৩/২৪, রবি বোপারা ২/৩২)।
প্রাইম ব্যাংক: ২৬.১ ওভারে ১৩৮/৩ (সৈকত আলি ৮১*, রুম্মান আহমেদ ২৫; মিরাজুল ভুঁইয়া ২/৪৪, ইশতিয়াক আহমেদ ১/৩৪)।
ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ: এনামুল হক জুনিয়র।
ফল: প্রাইম ব্যাংক ৭ উইকেটে জয়ী।
