ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জেনেভা বৈঠক একটা সমঝোতা বা চুক্তির দিকে এগুতে পারে বলে শুক্রবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আশাবাদ জানিয়েছে। এদিকে, গতকাল শুক্রবার এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং রাশিয়াসহ প্রভাবশালী ছয়টি দেশের সাথে ইরানের দু’দিনের এ বৈঠকটি জাতিসংঘ দপ্তর জেনেভায় শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। বৈঠক নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফ বলেছেন, সমঝোতার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী এবং তার দেশের সাথে প্রভাবশালী দেশগুলোর আস্থা বাড়ানোর জন্য কিছু পদক্ষেপের ব্যাপারে যৌথ বিবৃতি আসতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান তাদের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি আংশিক স্থগিত রাখার ঘোষণা দিতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবরোধ শিথিল করার প্রস্তাব দিতে পারে। বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচির জেরে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবরোধ আরোপ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, ইরান বোমা তৈরির উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
জেনেভা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর আরোপিত অবরোধ কিছুটা শিথিল করাসহ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান যেন পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জে কার্নি বলেছেন, ইরানকে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, তারা সীমিত পরিসরে ও সুনির্দিষ্ট বিষয়ে অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত। বিনিময়ে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিতের প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে হবে। আর ইরান যদি তার প্রতিশ্রুতি না রাখতে পারে তাহলে শিথিল অবস্থান থেকে আমাদের কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি বহাল রেখে ইরানেরর সাথে কোন সমঝোতা হলে, সেটা আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের জন্য হবে ভুল সিদ্ধান্ত।
