উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ২১:২৮
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দুই হাজার নূতন উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম শুরু করিয়াছে। এ সংক্রান্ত তাহাদের প্রকল্প ‘এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো’র উদ্বোধন করা হইয়াছে গত বুধবার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন যে, দেশে যথেষ্ট সংখ্যক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি থাকিলে নূতন উদ্যোক্তা তৈরিতে অর্থায়ন সংকট কমিয়া যাইত। তিনি দ্রুত এই সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে সরকারকে পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে নূতন উদ্যোক্তা গড়িতে উদ্যোক্তামুখী একটি শিক্ষানীতি ও শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের আহ্বান জানান। উদ্যোক্তা তৈরির কোন বিষয় কিনা, এই নিয়া চিন্তাবিদদের মাঝে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। উদ্যম ও সৃজনশীলতা বেশিরভাগই স্বতঃস্ফূর্ত ও সহজাত হইয়া থাকে। ইহা সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা বা দানও বলা যায়। স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশে যেসব প্রথিতযশা শিল্পপতির জন্ম হইয়াছে তাহাদের অধিকাংশই পোড় খাওয়া মানুষ। তাহাদের উচ্চতর ডিগ্রী ও প্রশিক্ষণ ছিল না বলিলেই চলে। কিন্তু তাহাদের অদম্যতা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রমই তাহাদের জীবনে সাফল্য আনিয়া দিয়াছে। তাহারা প্রকৃতি, সমাজ ও জীবন বাস্তবতা হইতে শিক্ষা গ্রহণ করিয়া নিজস্ব মেধা ও সৃজনশীল শক্তিতে বলীয়ান হইয়া অগ্রসর হইয়াছেন। পৃথিবীর অধিকাংশ সাফল্যের ইতিহাসও তাহাই। তাহার পরও মানুষের চেষ্টা করিতে বারণ নাই। অনেক সময় আন্তরিক চেষ্টা, পরিশ্রম ও ইতিবাচক পরিবেশ কাঙ্খিত ফল আনিয়া দিতে পারে। বাংলাদেশ স্বাধীন হইয়াছে বলিয়াই আজ এ দেশে শত শত উদ্যোক্তার জন্য সুযোগ তৈরি হইয়াছে। তবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে ত্রুটি আছে তাহাই সর্বাগ্রে দূর করিতে হইবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সঠিক জায়গাতেই হাত দিয়াছেন। ইংরেজ প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য ছিল ভিন্ন। ফলে আজও শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হইয়া আছে চাকুরী করা। যদিও চাকুরীসহ কোন পরিশ্রমই অসম্মানজনক নহে, বরং তাহারও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তবে উদ্যোক্তাদের আলাদাভাবে গুরুত্ব দিতে হইবে এইজন্যই যে, আমাদের দেশটা আজও উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত। তাহাছাড়া জনবহুল হওয়ায় ব্যাপক বেকারত্ব মোচনে উদ্যোক্তাশ্রেণীর বিকাশকে গুরুত্বের সহিত বিবেচনা করিতে হইবে। তাহা হইলে আশা করা যায়, একদিন আমাদের দেশে চরম বেকারত্বের অবসান হইবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকার বেসরকারি খাতের সহায়তায় নূতন নূতন উদ্যোক্তা তৈরি করিয়া থাকে। এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন আন্তরিকতার পরিচয় দেয়। উদ্যোক্তা তৈরিতে সফল হইতে হইলে বাংলাদেশকেও তাহাদের পথ অনুসরণ করিতে হইবে। আমাদের দেশে প্রতি বত্সর কয়েক লক্ষ যুবক চাকুরীর বাজারে প্রবেশ করিতেছে। তাহাদের সকলেরই উদ্দেশ্য যদি হয় চাকুরী করা, তাহা হইলে চাকুরী সোনার হরিণ হিসাবে দেখা দিবে ইহাই স্বাভাবিক। তবে উদ্যোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও তাহাদের মনোবল ধরিয়া রাখিবার জন্য দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখা আবশ্যক। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করা প্রয়োজন। জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষুদ্র উদোক্তাদের জন্য ৬০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করিয়াছে। এই তহবিল হইতে নূতন উদ্যোক্তা প্রত্যেকেই ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করিতে পারিতেছেন। তাহাছাড়া নূতন উদ্যোক্তাদের জন্য ‘বিজনেস ইনকিউবেটর’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারে। ঢাকা চেম্বার এই ধরনের একটি বিজনেস ইনকিউবেটর গড়িয়া তুলিয়াছে। ইহার সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার। ভবিষ্যতে ইহাকে পূর্ণাঙ্গ ইনকিউবেটর সেন্টারে রূপান্তরিত করিতে হইবে। যুবকদের মেধা ও আবিষ্কারের মূল্যায়ন করিতে হইবে। রাষ্ট্রপতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ‘এক উপজেলা এক পণ্য’ প্রকল্প গ্রহণেরও আহ্বান জানাইয়াছেন। প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করিয়া হইলেও ঐতিহ্যবাহী পণ্য রহিয়াছে। তরুণরা এইসব পণ্য নিয়াই নূতন করিয়া পথচলা শুরু করিতে পারে। তাহাদের তথ্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও আধুনিক চিন্তাধারা এইক্ষেত্রে আরও সহায়ক হইবে। আমরা আশা করি, নূতন উদ্যোক্তাদের উত্সাহিত করিতে সরকার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন