শিক্ষাই জাতীর মেরুদণ্ড, শিক্ষাই জীবনের বড় সম্পদ, শিক্ষা মনের আলো, মননের দিশারী। সেই শিক্ষাদানের প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় যদি ভুয়া বা নিম্নমানের হয় অথবা পরীক্ষা পাস না করেই সেখানে সনদ পাওয়া যায় তাহলে ঐ শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীরা নিজের জন্য বা দেশের জন্য কি অবদান রাখবে। কিন্তু বাস্তবে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় যা ঘটছে সেটা জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার কলঙ্ক। দেশে বর্তমানে ৭৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, তন্মেধ্যে প্রায় দেড় ডজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব বা একাধিক ট্রাস্টি বোর্ড বা অননুমোদিত ক্যাম্পাস রয়েছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠান চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরকে ভুলিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে। ইউজিসি বারবার সতর্ক করে দেয়ার পরও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ গুরুত্ব দেননি।
এমন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যাদেরকে সরকার একটি ক্যাম্পাস খোলার অনুমতি দিলেও এসব প্রতিষ্ঠান ৪৫০টি ক্যাম্পাস খুলে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে এবং সনদ বিলি করে। ইউজিসি নাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবৈধতা জানিয়ে বহুবার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তারপরও কোন কাজ হয়নি। আজ বিশ বছরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখান থেকে সনদ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করলেও এমপিওভুক্তি পায়নি, অনেকে এই সনদ দিয়ে চাকরির জন্য আবেদনই করতে পারছে না, বেকার বসে আছে। অনেকে এডভোকেটশিপ এনরলম্যান্ট পরীক্ষাতেও প্রবেশপত্র পাচ্ছে না, গ্রন্থাগারিক নিয়োগের পরীক্ষাতেও অংশ নিতে অনুমতি পায়নি। এ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করছে। শুধু তাই নয়, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শাখাটি অনুমোদিত তা নির্ধারণ করার জন্য হাইকোর্ট রিট হয়েছে, শুনানি হয়নি। এখন স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, ইউজিসি শুধু বিজ্ঞপ্তি জারি করেই দায়িত্ব শেষ করে দিল অথচ বিশ বছর যাবত্ কোন আইনানুগ কার্যক্রম বা মামলা করে ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ করলো না কেন। একটি ক্যাম্পাসের অনুমতির সুযোগে ৪৫০টি ক্যাম্পাস খুলতে নিশ্চয়ই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘসময় লেগেছে।
এই দীর্ঘসময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নিয়ে নীরবতা পালন করায় কি পরোক্ষ অনুমোদনের ইঙ্গিত পাওয়া না। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট হচ্ছে জেনেও ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০ বছর যাবত্ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কেন? উচ্চ শিক্ষায় এরকম অনিয়ম ও বিশৃংঙ্খলা তরুণ প্রজন্মের জন্য বিরাট ক্ষতি। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান ভাল না হলে শিক্ষার্থীদের যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের শিক্ষা সনদ গ্রহণ যোগ্যতা হারায়। সর্বোপরি নিম্নমানের শিক্ষা ও ভুয়া সনদ দ্বারা তরুণ প্রজন্ম প্রতারিত ও বঞ্চিত হলে তাদের মনোবল, উচ্চাকাঙ্ক্ষা হোচট খায় এবং তারা বিপথে যায়। তরুণ প্রজন্মকে এই হতাশা ও বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের। তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা জীবনকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য তাদেরকে সত্বর এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক:এফসিএ ও কথাসাহিত্যিক
