হরতাল-ভয়তাল আর মিথ্যার রাজনীতি

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪১
আমাদের জীবন আপাতত হরতালে হরতালে জেরবার হতে বসেছে। বাংলাদেশের সম্মানিত নাগরিক হিসেবে বিরোধীদলের এই লাগাতার ‘উপহার’ আমরা ভোগ করে চলেছি। বর্তমান পর্বে ৬০ ঘণ্টা হরতালের খাড়া দুই দফা হজম করে আমরা এখন ৭২+১২= ৮৪ ঘণ্টায় হরতাল-ফাঁপরে আছি। সামনের দিনগুলোতে আরও কত কত হরতাল আমাদের হজম করতে হবে— সেটা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ বলতে পারবেন বলে মনে হয় না। হরতাল কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি, এর প্রকারভেদ ইত্যাদি দেশবাসীকে উদাহরণসহ বোঝানোর দায়িত্ব নিয়েছেন বিরোধী পক্ষ। এটা আমাদের দেশের গণতন্ত্রের এক আজব রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা যখন ক্ষমতায় থাকবেন, তাদের ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে বিরোধী পক্ষ লাগাতার হরতাল আহবান করে চলবেন। বিরোধী পক্ষ হরতালের পক্ষে বলবেন, হরতালের গুণগান করবেন, পক্ষান্তরে ক্ষমতাসীনরা হরতালের ক্ষয়-ক্ষতির বর্ণনা দেবেন। হরতাল যে কত খারাপ জিনিস—এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করবেন। গত দুই দশক ধরে আমরা একই দৃশ্য দেখছি। জাতীয় পার্টির একদা ডাকসাইটে নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন আশির দশকের শেষদিকে হরতাল প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “এসব হরতাল নয়, ভয়তাল। ভাঙচুর আর বোমাবাজির ভয়ে কেউ গাড়ি ছাড়ে না, দোকান খোলে না। একে ‘ভয়তাল’ বলাই শ্রেয়।” শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কথাটিকে সত্য প্রমাণ করতে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কর্মীরা আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। হরতাল একসময় ছিল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ভাষা। রাজনীতির অধঃপতনের পথ ধরে হরতাল এখন পুরোপুরিই ‘ভয়তালে’ পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশে হরতাল কালচার আমদানি করেছিলেন জননেতা মওলানা ভাসানী। তখন স্বতঃস্ফূর্ত এবং জনমুখী ছিল হরতাল। তার ডাকা হরতাল ছিল শোষকরূপী পাক শাসকদের মোকাবিলার লক্ষ্যে। তখন আমজনতা নিজেরাই হরতাল পালন করত, হরতাল পালনের জন্য কাউকে বাধ্য করা হতো না। কালের বিবর্তনে হরতাল এখন জনগণের মনে ভয় ঢোকানোর বৈধ এক রাজনৈতিক কৌশল। আমাদের দেশের প্রধান বিরোধী দল ও তার রাজনৈতিক মিত্ররা হরতালের ক্ষেত্রে নতুন ‘ডাইমেনসন’ এনেছেন। নেতাকর্মীরা এখন আর রাজপথে মিছিল-পিকেটিং করেন না। তারা বাসায় শুয়ে-বসে টিভি দেখে সময় কাটান। তাদের হয়ে কিছু ভাড়াটে লোক টাকার বিনিময়ে গাড়িতে আগুন দেয় আর ককটেল-বোমার আওয়াজে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে। এখন রাজনীতি যেমন আওয়াজ নির্ভর, হরতালও হয়ে উঠেছে আওয়াজ আর উত্তাপসর্বস্ব। রাজনীতিবিদদের ভাড়াটে বিবেকহীন পশুরা মাঝে মাঝে কিছু পরিবহন চালক-হেলপার অথবা যাত্রীকে ঝলসে-পুড়িয়ে কাবাব বানিয়ে দেয়। লক্ষ্য—অতঃপর ভয়ে যেন আর কেউ রাস্তায় বের না হয়, কোনো গাড়ি রাস্তায় বের না করে। কিন্তু মানুষের প্রয়োজন যে ভয়-ডর কোনো কিছুকেই পরোয়া করে না! তাই তো হাতের মুঠোয় জীবন নিয়েও মানুষ বাইরে বের হচ্ছে, কাজ করছে। যদি এক-দু’দিনের ব্যাপার হতো তাহলে মানুষ হয়তো খুশি মনেই হরতাল পালন করতো। কিন্তু সপ্তাহের ৫ দিনই যদি হরতাল হয়, তাহলে মানুষ তা মানবে কীভাবে? এখন মানুষ হরতালের দিনের চেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকেন হরতালের আগের দিন। এ দিনটা হচ্ছে হরতালের গায়ে হলুদের মত। হরতাল-উত্সবে বোমা ফাটানোর বিকৃত আনন্দ উদযাপন দিবস। এরপর হয়তো বৌ-ভাত অনুষ্ঠানের মত হরতালের পরেরদিনও বোমা-আগুন-ভাঙচুর চালানো হবে। হরতালের বৌ-ভাত আর কি! হরতাল আহবান করা প্রতিটি দলের রাজনৈতিক অধিকার। তবে দেশের মানুষ সেই হরতালে সমর্থন দেবে, কি দেবে না—এটা তাদের পছন্দ। এখন আর মানুষের সেই ‘পছন্দের’ সুযোগ নেই। হরতাল আহবানকারীরা আপোষহীন, তাদের অবস্থান হচ্ছে: ‘তুমি বাসো কিনা, তা আমি জানি না, আমার কাম আমি বন্ধু করিয়া গো যাবো’। রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল দেয় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নাম করে। হরতালে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ মানে মানুষের অধিকার হরণ। অবাক বিষয় হচ্ছে জনগণের সম্পদ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগকে রাজনৈতিক দলগুলো অধিকার মনে করে। হরতালকারীদের দমনের জন্য সরকার পক্ষ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পাইকারিহারে মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিক্ষেপ, লাঠি-গুলি-টিয়ারগ্যাস, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে রাজপথেই নগদে দণ্ডাদেশের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু তাতে বিরোধী পক্ষ ক্ষান্ত হয়নি। তারা ‘ভয়তাল’ চালিয়েই যাচ্ছেন। হরতাল-ভয়তাল করে কারো কোনো লাভ হয় না। হরতালের মাধ্যমে আমাদের দেশে শাসকরা কখনও দাবি মানেনি। ভবিষ্যতেও মানবে বলে মনে হয় না। সমস্যা সমস্যার জায়গাতেই থাকে। বরং হরতাল সমস্যাটাকে আরও ঘনীভূত করে; আরও প্রকট করে। নিছক ক্ষমতার লড়াইয়ের অংশ হিসেবে, এক দলকে হটিয়ে আরেক দলের ক্ষমতায় যাওয়ার কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী হরতাল ডেকে জনগণকে তাদের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা সংবিধানে প্রদত্ত ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’-এর পর্যায়ে পড়ে না। এতে হরতাল আহবানকারীদের কথিত ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’-এর নামে বাদবাকি জনগণের ‘গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকার’ হরণ করা হয়। বস্তুত আমাদের দেশে এখন যে ধরনের হরতাল হয় তা রাজনৈতিক সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছুই নয়। হরতাল সাংবিধানিক অধিকার নয়, এমনকি ‘গণতান্ত্রিক’ বা ‘নাগরিক’ অধিকারও নয়। হরতাল হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে মানুষের উপর জবরদস্তি। সংবিধান কোনো নেতা-নেত্রী বা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীকে এভাবে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত করার, কিংবা রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন করার অধিকার কখনই দেয়নি। সংবিধানের ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তার কোথাও হরতালকে ‘সাংবিধানিক অধিকার’ হিসেবে অভিহিত করা হয়নি। সাংবিধানিক অধিকার, নাগরিক অধিকার যে কোনো অর্থে হরতাল নামের এ ভয়তাল কোনো অধিকারের মধ্যেই পড়ে না। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমা-ককটেলবাজি, পুড়িয়ে মারা বরং ফৌজদারী অপরাধ। অথচ কাজটি প্রতিনিয়ত হচ্ছে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমা-ককটেলবাজি আর পুড়িয়ে মারার দায় একজন আর একজনের উপর চাপাতে ব্যস্ত। তারা প্রতিনিয়ত মিথ্যে কথা বলছেন। মিথ্যে দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছেন। কিন্তু মিথ্যে দিয়ে কী আদৌ স্বার্থোদ্ধার সম্ভব? আমাদের দেশে রাজনৈতিক-সংঘাত, হরতাল-বোমা হুমকি তো চলছেই, একইসঙ্গে চলছে সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব। আর এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন দেশের প্রধান দুই নেত্রী। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর মধ্যে যে বহুল আলোচিত নিষ্ফল টেলিসংলাপ হয়ে গেল, সেই টেলিসংলাপের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল একে-অপরকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করার চেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি সেদিন দুপুরে ফোন দিয়েছেন। রিং হয়েছে। কিন্তু কেউ ধরেনি। বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মিথ্যে বলছেন। তিনি আসলে ফোন করেননি। ফোন বাজেনি। রিং হয়নি। ফোন নষ্ট ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি মিথ্যা বলেননি। বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সত্য বলেননি। সত্য বলা না-বলা নিয়ে দেশের প্রধান দুই নেত্রীর এই বাহাস মিথ্যাবাদীদের অনেক সাহস যোগাবে। কারণ এটাতো ঠিক যে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অথবা মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রী কেউ একজন অসত্য বলেছেন। দু’জনই সত্য উচ্চারণ করেননি। আবার দু’জনই অসত্য বলেননি। একজন নিশ্চিত করে অসত্য বলেছেন! একথা ঠিক যে, প্রত্যেক মানুষই কমবেশি মিথ্যা বলে। কেউ প্রয়োজনে বলে, কেউ আবার মনের আনন্দে বলে। তবে বিনা কারণে, বিনা প্রয়োজনে নির্বিকারভাবে মিথ্যা কথা বলে এমন লোকও আমাদের সমাজে কম নেই। কেউ কেউ অহঙ্কার করার জন্য মিথ্যা কথা বলে। অফিসের বসরা যেমন বলে থাকেন, আমার চেয়ে ভাল ইংরেজি এ অফিসে একজনও জানে না। কিংবা কাজে ফাঁকি দেয়া আমার ডিকশনারিতে নেই। আমাদের বন্ধু-বান্ধবরাও বিস্তর মিথ্যা বলে। অনেকেই আছে যারা বঙ্গবাজার থেকে আনকোরা এক মাল গায়ে চাপিয়ে বলে, এটা আমার আঙ্কেল নিউজার্সি বা আন্টি এলে (লস-এঞ্জেলস) থেকে পাঠিয়েছেন! অনেকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অথবা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নির্যাতন ও জেরায় জর্জর হয়ে মিথ্যা কথা বলে। দেরি করে অফিসে পৌঁছে ঊর্ধ্বতনের কাছে, রাতে দেরি করে বাসায় ফিরে বউয়ের কাছে মিথ্যা কারণ দেখানোরও অনেকের প্রয়োজন পড়ে। স্কুলের ক্লাসে ছাত্রছাত্রীরা মিথ্যা বলবে কিংবা অফিসে বসের কাছে কনিষ্ঠ সহায়ক অসত্য অজুহাত দেবে কাজ না করার, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। বাড়ির কাজের লোক বাজার করে এসে সত্যি হিসাব দেবে, কিংবা লম্পট স্বামী স্ত্রীর কাছে সত্য বিবৃতি দেবে, এরকম আশা করাটাও অন্যায়। এগুলোর তবু কার্যকারণ আছে। এসব মিথ্যা ভাষণের প্রয়োজন বোঝা কঠিন নয় এবং যে মিথ্যা বলছে তার কাছে এর প্রয়োজনও রয়েছে। কিন্তু এর বাইরে এক ধরনের প্রয়োজনহীন মিথ্যা কথা আছে। মনের আনন্দে নির্দ্বিধায় উল্টোপাল্টা ডাইনে-বাঁয়ে মিথ্যা বলা অনেকের স্বভাব এবং বলতে না পারলে তারা দম বন্ধ হয়ে পেট ফেটে মরে যাওয়ার অবস্থায় পৌঁছে যায়। ডাকটিকেট জমানো ও পুরোনো মুদ্রা সংগ্রহের মতো অনেকের হবি হচ্ছে মিথ্যা বলা। তবে এসব মিথ্যা খুবই সাধারণ এবং নির্দোষ। এ ধরনের মিথ্যা কারও কোনো ক্ষতির কারণ হয় না। স্রেফ গল্প দেয়ার জন্যই তারা এ ধরনের মিথ্যা চর্চা করে থাকে। যেমন কবে কোথায় কোন মেয়ে তার প্রেমে পড়েছিল, কবে একদিন একাই দুই ছিনতাইকারীকে পাকড়াও করেছিল— এসব মিথ্যাচার কারও কোনো ক্ষতির কারণ হয় না। তবে সব ধর্মেই এ কথা বলা আছে— মিথ্যা বলা মহাপাপ। এই আপ্তবাক্য অবশ্য মিথ্যুকদের সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনি। সুযোগসন্ধানীরা স্বার্থ-সুবিধা ও প্রয়োজনমতো ঠিকই মিথ্যা চর্চা অব্যাহত রেখেছে। আমাদের দেশের নেতানেত্রীরা সত্যের ধারেকাছেও বড় বেশি ঘেঁষেন না। যেমন: খুন-হত্যা-অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুরের দায় কেউ কখনও স্বীকার করেন না, বরং প্রতিপক্ষের ঘাড়ে তা চাপানোর চেষ্টা করেন। হরতালের কথাই ধরা যাক। হরতাল আহবানকারীরা দিনশেষে বলবেন, স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালনের জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ। তাদের এক কর্মী হয়তো আমগাছ থেকে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙেছেন, কিন্তু সংবাদ সম্মেলন করে বলা হবে যে, আমাদের ওমুক কর্মী পুলিশের নির্মম পিটুনির শিকার হয়ে সে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন! সরকার পক্ষ বলবেন, কোনো হরতাল হয়নি, সবকিছু ছিল স্বাভাবিক, পুলিশ কোথাও কাউকে পেটায়নি, এমনকি একটা মশা-মাছিকেও আঘাত করেননি। সারাদিন লুডু খেলে ঢুলুঢুলি দিন কাটিয়েছেন। এভাবেই চলছে সরকার পক্ষ আর বিরোধী পক্ষের মিথ্যাচার! আমাদের দেশে মিথ্যা বলাটা এখন ক্ষমতাবানদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যারা দুর্নীতি করেছেন, তারা বলে আমি নির্দোষ। যারা জঙ্গি সৃষ্টি করছেন, তাদের মদদ দিয়েছেন, তারা বলেন, না ওসব মিথ্যা কথা। আমি মহান। কেউ তার অপরাধ স্বীকার করেন না, হাতেনাতে ধরা পড়লেও না। যাদের যা করার কথা তারা তা করেন না। অথচ নিয়মিত প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিলে অস্বীকার করে বসেন। এভাবে মিথ্যা আর অসত্যের চাদরে সবকিছুকে ঢেকে ফেলা হয়েছে। সবাই যেন মিথ্যা বলার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। কেউ সত্য কথা বলছেন না। তারা অবশ্য মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিতও করতে পারছেন না। আজকের মিথ্যাকে আগামীকালই সত্য হিসেবে কবুল করছেন। তারপর শুরু করছেন নতুন করে মিথ্যাচার। প্রশ্ন হলো, হাশরের ময়দানে এই মিথ্যুকরা কী জবাব দেবেন? পুনশ্চ: আমার স্কুল জীবনের প্রিয় শিক্ষক আবদুল লতিফ সাপির একদিন ক্লাসে বলেছিলেন, প্রাচীনকালে সদানন্দ নামে এক ব্যক্তি জমিদারবাড়িতে চাকরের কাজ করতো। জমিদারবাড়ির লোকেরা তাকে সংক্ষেপে সদা নামে ডাকত। সদা বাজার-সদাই করতো, ফরমাশ খাটতো। সদা যেন কোনো কিছু নয়-ছয় করতে না পারে সেজন্য তার ওপর নির্দেশ জারি ছিল, ‘সদা, সত্য কথা বলবে’। জমিদারবাড়ির আর কারও জন্য সত্য বলার বাধ্যবাধকতা ছিল না। সেই থেকে ‘সদা’ তথা হতদরিদ্র নিম্নশ্রেণির জন্য সত্য কথা বলার ট্রাডিশন চলে আসছে। ধনী-টাকাওয়ালা-বড়কর্তাদের সত্য বলার প্রয়োজন নেই। ‘সদা’ই কেবল সত্য বলবে! লেখক :কলামিস্ট

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন