সিদ্দিকুরের ভারত জয়

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫০
বাংলাদেশের সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান হিরো ইন্ডিয়ান ওপেন গলফ টুর্নামেন্টের তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ চতুর্থ এবং শেষ রাউন্ডে মাত্র এক শটের ব্যবধানে ভারতের দুই প্রতিযোগীকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছেন। প্রায় দেড় কোটি টাকা নগদ অর্থপুরস্কারের এই শিরোপাটি জয়ের মধ্যদিয়ে তিন বছরের শিরোপা খরাও ঘোচালেন এই দেশসেরা গলফার। সিদ্দিকুর এ নিয়ে এশিয়ান ট্যুরে দ্বিতীয় শিরোপা জিতলেন। শুধু তাই নয় দিল্লীর এই প্রতিযোগিতায় একাধিকবার অংশ নিয়েও শেষ পর্যন্ত এদিনই শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ মেটালেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সিদ্দিকুর বলেন, ‘এখানে জিততে পেরে আমি খুব খুশি। ব্রুনাইয়ে জেতার পর মাঝে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আমার জন্য আজ দীর্ঘ একটি দিন ছিল সন্দেহ নেই। তবে (এটাও সত্য) ক্যারিয়ারের সেরা খেলাটাই এখানে খেলেছি আমি। আমি চাপ নিতে চাইনি তবে বেশ কিছু বাজে শট আমাকে চাপের মধ্যে ফেলেছিল।’ তবে ঐ মুহূর্তেও আত্মবিশ্বাস হারাননি দাবি করে সিদ্দিকুর বলেন,‘আমার সব সময়ই মনে হচ্ছিল আমি জিততে পারি। তবে ১৭ নম্বর হোলের ঐ বার্ডিটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। চার শটে এগিয়ে থাকলেও (শেষ রাউন্ডের আগে) আমি জানতাম এই কোর্সে অনির্বাণ ও চৌরাশিয়া যে কোন সময় ভালো করতে সক্ষম। আর একারণেই রক্ষণাত্মক না হয়ে আমি আগের মতোই আক্রমণাত্মক খেলে গেছি।’ তিন বছরের শিরোপা খরা দূর করতে পেরে উচ্ছ্বসিত সিদ্দিকুর আরো বলেন, ‘ব্রুনাইয়ে (২০১০ সালে) জেতার পর আমি প্রতি মুহূর্তেই পরবর্তী শিরোপার জন্য চেষ্টা করে গেছি। তবে সেটা হয়নি। এরপরও আমি নিজেকে বলেছি আমার জন্য বড় একটি শিরোপা অপেক্ষা করছে। আর সেই বড় শিরোপাটাই আজ পেলাম।’ ব্রুনাইতে ২০১০ সালে নিজের প্রথম এশিয়ান ট্যুর শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। সিদ্দিকুর গতকাল রবিবার দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্থানীয় ফেভারিট চৌরাশিয়ার চেয়ে চার শটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থাতেই হঠাত্ করে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। অথচ আগের দিনের শেষটায় এবং গতকাল শুরুর দিকেও ভাল অবস্থানে ছিলেন তিনি। শেষ রাউন্ডের দ্বিতীয় ও পঞ্চম হোলে পারের চাইতে এক শট কম (বার্ডি) খেলেন তিনি। কিন্তু ষষ্ঠ হোলে এসেই খেই হারান আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা সিদ্দিকুর। প্রথম শট ঝোপে গিয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত বোগি (পারের চেয়ে একটি শট বেশি খেলা) নিয়ে এই হোলের খেলা শেষ করতে হয় তাকে। ঠিকমতো টি শট (প্রতিটি হোলের প্রথম শট) মারতে না পেরে তিনি ‘বোগি’ করেন নবম হোলেও। এক শট বেশি খেলেছেন দশম হোলেও। একাদশ হোলেও হয় ‘বোগি’। তবে তখন পর্যন্ত অন্য সবার চেয়ে এগিয়েই ছিলেন ২৮ বছর বয়সী এই গলফার। এরপর ১৩ ও ১৪ নম্বর হোলে ‘বার্ডি’ পাওয়ার পর মনে হচ্ছিল শেষ পর্যন্ত সহজ জয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ১৫ তম হোলে ‘ট্রিপল বোগি’ (পারের চেয়ে তিনটি শট বেশি খেলা) করে শিরোপা জয়ের পথটা কঠিন করে ফেলেন তিনি। পরের হোলে আবার করেন বোগি। এ সময় তাকে ছুঁয়ে ফেলেন আরো তিন গলফার। অর্থাত্, প্রথমদিনের মতো আবারো শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করতে হয় সিদ্দিকুরকে। তবে স্নায়ুক্ষয়ী এই সময়ে ১৭তম হোলে অবিশ্বাস্য এক ‘বার্ডি’ করে আবার এক শট এগিয়ে যান সিদ্দিকুর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও টুর্নামেন্টের দুইবারের চ্যাম্পিয়ন চৌরাশিয়াসহ অন্য কেউই সেখানে বার্ডি করতে পারেননি । এরপর ১৮তম মানে শেষ হোলে মাথা ঠাণ্ডা রেখে তিনি বল পকেট করে সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টের মোট পারের চেয়ে ১৪ শট কম খেলার সুবাদে শিরোপা নিশ্চিত করেন। ফলে চার রাউন্ড শেষে সিদ্দিকুরের স্কোর দাঁড়ায়- ৬৬, ৬৬, ৬৭ ও ৭৫। অন্যদিকে সিদ্দিকুরের চেয়ে এক শট বেশি খেলে যৌথভাবে রানার্স আপ হন অনির্বাণ লাহিড়ী ও চৌরাশিয়া। এই টুর্নামেন্টে কয়েক দফায় অংশ নিয়েও এর আগে দুইবার রানারআপসহ মোট ছয়বার শীর্ষ দশে থাকলেও সিদ্দিকুর শিরোপার দেখা পেলেন এই প্রথম। এদিকে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গলফ বিশ্বকাপে শীঘ্রই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন সিদ্দিকুর। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আগামী ২১ থেকে ২৪ নভেম্বর এই প্রতিযোগিতা হবে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে এর আগে ১৪ থেকে ১৭ নভেম্বর মেলবোর্ন মাস্টার্স গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন তিনি।