দাবা ফেডারেশনের বড় রুমটিতে খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে হ্যাটট্রিক মোহামেডান শিরোপা জয়ের মুকুট মাথায় তুলেছে। মোহামেডান কর্মকর্তারা সেখানেই মিষ্টি বিতরণ করছেন। শুভাকাঙ্ক্ষিরা মিষ্টি খাচ্ছেন। কিন্তু দাবাড়ুদের মনে উচ্ছ্বাস নেই। বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাশিয়ান দুই গ্র্যান্ডমাস্টার রাস্তার দিকে তাকিয়ে। গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ কথায় ব্যস্ত। আর অন্যদিকে আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান তার স্ত্রীর সাথে আলোচনারত। হ্যাটট্রিক শিরোপা পেয়েও কোনো উচ্ছ্বাস নেই কেন ? জিয়া বলেন, সব সময় তো জিতি। তাই আলাদা কিছু নেই। হারলে হয় তো মন খারাপ হতো।’ গতকাল শেষ রাউন্ডে মোহামেডান ড্র করলেই চলত। কিন্তু সাদাকালো দল মোহামেডান ৪-০ পয়েন্ট গোপালগঞ্জকে হারিয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়, হ্যাটট্রিক শিরোপা জয় করে। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে নৌবাহিনী রানার্সআপ।
মোহামেডান ঢাকার ফুটবল লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয় করে। হকিতে সাদাকালো দলটির হ্যাটট্রিক শিরোপা রয়েছে। এবার দাবায় হ্যাটট্রিক শিরোপা জয় করে অন্যন্য রেকর্ড গড়েছে মোহামেডান। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য মোহামেডান রাশিয়া থেকে দু’জন সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার এনেছিল। সাথে ছিলেন আন্তর্জাতিক মাস্টার মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ সাগর, মাহতাব উদ্দিন ও গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ এবং জিয়া। মূলত এই চার গ্র্যান্ডমাস্টারই শিরোপা জয়ের পেছনের বড় কারিগর। দলের অধিনায়ক নিয়াজ মোরশেদ বলেছেন, মোহামেডান শিরোপা জয়ের জন্য টাকা খরচ করে। খেলার প্রতি নজর দেয়। সময় দেয়। এটাই শিরোপা জয়ের মূল কারণ।’ রাশিয়ান গ্র্যান্ডমাস্টার ফারুখ আমানোটভ বলছেন, নিয়াজ আমার বন্ধু। বলেছিলাম দলকে চ্যাম্পিয়ন করে দিয়ে যাবো। আমরা সফল হয়েছি।’ আজ দুই সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার দেশে ফিরে যাবেন।
দাবা লিগে মোহামেডান ৭৭, ৭৮ সালে দাবায় লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর অনেক দিন তারা দাবা থেকে বিরত ছিল। ৯৬ ও ৯৭ সালেও লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় মোহামেডান। তবে দলের পেছনে সব সময় নিয়াজের অবদান ছিল।
নতুন দল নৌবাহিনী চ্যাম্পিয়ন হতে এসে লিগ রানার্সআপ হয়েছে। গ্র্যান্ডমাস্টার রিফাত বিন সাত্তার, আব্দুল্লাহ আল রাকিব এবং এনামুল হোসেন রাজিব খেলেছেন এই দলে। কিন্তু দলটির পক্ষে শিরোপা জয় করা সম্ভব হয়নি। লিগের দুই বড় দল ছিল মোহামেডান এবং নৌবাহিনী। প্রথম রাউন্ডে মোহামেডান নৌবাহিনীকে হারানোয় সেদিনই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় মোহামেডান শিরোপার পথে। নৌবাহিনীর ভক্তরা অপেক্ষায় ছিলেন মোহামেডানের হারের খবর শোনার জন্য। কিন্তু তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আমোনটভ দুইবার ড্র করে, আবু সুফিয়ান শাকিল এবং মেহেদী হাসান পরাগের সাথে। আর মোহামেডানের মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ সাগর ড্র করেন নৌবাহিনীর এনামুল হোসেন রাজিবের সাথে। এছাড়া মোহামেডান সব কয়টি ম্যাচ জিতে শিরোপা জয় করে।
শিরোপা জয় করতে না পারা গ্র্যান্ডমাস্টার আব্দুল্লাহ আল রাকিব বলছেন, পুরো লিগটা একটা ম্যাচের খেলা ছিল। সেটা হেরে যাওয়া শিরোপাটা চলে গেছে। তিনি বলেন, গত লিগে আমরা দূরন্ত রাজশাহীর হয়ে খেলেছিলাম। সেবারও প্রথম ম্যাচে হেরে শিরোপা চলে যায়।’ রাকিব বলছেন লিগে দুইটা মাত্র বড় দল। আরো কয়েকটা দল থাকলে জমাট লড়াই হতো।’ নৌবাহিনীর আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার রিফাত সাত্তার বলছেন লিগের ফরম্যাট খেলাটাকে জমাতে পারেনি। এক দলের ছয়জন খেলোয়াড় দরকার নেই। একজন কমিয়ে দিলেও সেই দাবাড়ু অন্য ক্লাবে খেলতে পারে। তাতে আরো কয়েকটি ক্লাব শক্তিশালি হয়।’
খেলায় পয়েন্ট বন্টনের সিস্টেমটি পছন্দ নয় রিফাতের। লিগে তৃতীয় হয় লিওনাইন চেস ক্লাব, তিতাস ক্লাব চতুর্থ, গোপালগঞ্জ চেস ক্লাব পঞ্চম, একসেস গ্রুপ ষষ্ঠ, প্রিতিম প্রিজম সপ্তম, সৃজন চেস ক্লাব অষ্টম হয়েছে। ফেইথ চেস ক্লাব প্রথম বিভাগে নেমে গেছে। ৮৭, ৮৮ এবং ৮৯ ব্রাদার্স ইউনিয়ন প্রথম বার হ্যাটট্রিক শিরোপা জয় করে। ৯০, ৯১, ৯২ এবং দ্বিতীয় বার ২০০১-২০০২ ও ২০০৩ সালে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়। গতকাল সন্ধ্যায় রূপাহালি শাড়িজ প্রিমিয়ার দাবা লিগের পুরস্কার বিতরণ করেন রাজনীতিবিদ এবং ক্রীড়া সংগঠক মোজাফফর হোসেন পল্টু।
