সুয়ারেজের গোলে লিভারপুলের বড় জয়

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫২
লুইস সুয়ারেজের জোড়া গোলে লিভারপুল নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে গত শনিবার ফুলহ্যামকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। একই রাতে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে শেষ মুহূর্তের বিতর্কিত পেনাল্টিতে নিজের মাঠে চেলসি ওয়েস্ট ব্রোমউইচ অ্যালবিওনের সাথে ২-২ গোলে ড্র করে মান বাঁচায়। মরিনহোর নিজ মাঠে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটিও অক্ষুণ্ন থাকে। যদিও দলটি চতুর্থ স্থানে নেমে যায় এবং এই সুযোগে সাউদাম্পটন ৪-১ ব্যবধানে হাল সিটিকে হারিয়ে উঠে আসে তৃতীয় স্থানে। লিভারপুলের কাছে এই হারে আগে থেকেই চাপে থাকা কোচ মাটিন জোল চাকরি খোয়ানোর হুমকির মধ্যে পড়লেন। কেননা লিগে এটি ফুলহ্যামের টানা চতুর্থ হার। ২৩ মিনিটে ফুলহ্যামের ডিফেন্ডার ফার্নান্দো অ্যামোরেবিয়েত আত্মঘাতী গোল করে নিজেদের জালে বল জড়ালে এগিয়ে যায় লিভারপুল। এরপর ২৬ মিনিটে স্টিফেন জেরার্ডের দুর্দান্ত এক কর্নার কিকে মাথা ছুঁইয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মার্টিন স্কারটেল। এর দশ মিনিটের মাথায় সুয়ারেজ খেলায় নিজের প্রথম গোলটি করে স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করেন। উরুগুয়ের এই তারকা পরে আবারো জেরার্ডের বাড়ানো বলে নিজের দ্বিতীয় গোল করলে ৪-০ ব্যবধানের বড়ো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন কোচ ব্রেনডন রজার্সের দল। সুয়ারেজ এই দুই গোলের সুবাদে ম্যানচেস্টার সিটির সার্জিও অ্যাগুয়েরো এবং সতীর্থ ড্যানিয়েল স্টারিজের পাশাপাশি আট গোল পেয়ে এখন যৌথভাবে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ গোলদাতা। দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে জয় পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে লিভারপুল কোচ রজার্স বলেন, ‘জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আমরা অসাধারণ খেলেছি।’ সুয়ারেজের প্রশংসায় তিনি বলেন, ‘লুইস সুয়ারেজ প্রতিভাবান একজন তারকা। আমরা চেষ্টা করছি পুরো দল যেন তার মতো করে খেলে।’ ইংলিশ তারকা জেরার্ড বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা দারুণ খেলেছি। আমরা সমন্বিতভাবে যখন ভাল খেলি তখন ভয়ঙ্কর একটি দলে পরিণত হই।’ সুয়ারেজের প্রশংসা করে এই প্লে-মেকার বলেন, ‘বিশ্বের সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন সে। অধিকাংশ মানুষ তার অতীত নিয়ে মাথা ঘামায়। কিন্তু সে এখন যেটা করছে আমি সেটা দিয়ে তাকে বিচার করি।’ লিভারপুল লিগের আগের খেলায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল আর্সেনালের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের কাছে পরাজিত হয়েছিল। সেই দলে রজার্স তিনটি পরিবর্তন এনেছিলেন। ফিলিপ্পে কোটিনহো এবং জন ফ্লানাগান সেপ্টেম্বরের পর চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো দলের হয়ে মাঠে নামেন। এছাড়া গ্লেন জনসনও এদিন মাঠে নামেন। ওয়েস্ট ব্রোমের বর্তমান কোচ স্টিভ ক্লার্ক চেলসির কোচ হোসে মরিনহোর সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তাই এই খেলায় মাঠের বাইরেও বাড়তি আকর্ষণ ছিল। সর্বশেষ ১৯৮৩ সালে চেলসি স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ওয়েস্ট ব্রোমের কাছে পরাজিত হয়েছিল। এদিন ইনজুরি টাইমে পাওয়া পেনাল্টির সুবাদে নিজেদের মাঠে টানা দশক অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখলো ‘ব্লুজ’রা। ৪৫ মিনিটের মাথায় ক্যামেরুনের স্ট্রাইকার স্যামুয়েল ইতোর গোলে এগিয়ে যায় হোসে মরিনহোর চেলসি। ৬১ মিনিটে শেন লং এবং ৬৮ মিনিটে স্টিফেন সেসেগননের গোলে দুর্দান্তভাবে খেলায় ফিরে আসে ওয়েস্ট ব্রোম। তবে নির্ধারিত সময়ের পর ইনজুরি টাইমের খেলা যখন চতুর্থ মিনিটে সেসময় ওয়েস্ট ব্রোমের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে সফরকারী দলের ডিফেন্ডার স্টিফেন রেইড ব্রাজিলীয় রামিরেসকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। স্পট কিক থেকে ডান পায়ের শটে সমতা ফেরান চেলসির মিডফিল্ডার এডেন হ্যাজার্ড। এই পেনাল্টি নিয়ে ওয়েস্ট ব্রোমের কোচ ক্লার্ক আপত্তি তুললেও মরিনহো অবশ্য বলেছেন এটা তাদের প্রাপ্য ছিল। পর্তুগীজ কোচটি বলেন, ‘আমি দুই থেকে তিনবার এটা দেখেছি। রেফারি এই ম্যাচে অনেক ভুল করেছেন। কিন্তু এটা তার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল না।’