বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় রাফায়েল নাদাল আজ লন্ডনের ওটু অ্যারিনায় নোভাক জকোভিচকে হারিয়ে দারুণ একটা বছরের সমাপ্তি ঘটাতে চান। বাংলাদেশ সময় রাত রাত দুইটায় শুরু হবে বছর সমাপনী ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালসের এ শিরোপা লড়াই।
নাদাল রবিবার রাতে রজার ফেদেরারকে ৭-৫, ৬-৩ গেমে হারিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টের পর টেনিসের সবচাইতে মর্যাদাবান আসরটিতে প্রথম শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা জোরদার করেন। সুইস ফেদেরারের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের ৩২তম লড়াইয়ে ২২তম জয়টির দেখা পান। হালে ফেদেরারের ফর্ম পড়তির দিকে হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নাদালই হলেন তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী।
অপরদিকে বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় জকোভিচ একই রাতে অনুষ্ঠিত খেলায় শুধু ফাইনালই নিশ্চিত করেননি স্ট্যানিসলাস ওয়ারিনকাকে ৬-৩, ৬-৩ গেমে হারিয়ে নিজের টানা জয়ের সংখ্যা উন্নীত করেন ২১টিতে।
বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় এই দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে এটি হবে ২০১৩ সালের ষষ্ঠ লড়াই। ক্যারিয়ারের হিসেবে ৩৯তম। নাদাল চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের সব ক’টির পাশাপাশি ডেভিস কাপ এবং অলিম্পিকের স্বর্ণ জিতেছেন। কিন্তু মৌসুম সমাপনী এই টুর্নামেন্টটি এখনো জিততে পারেননি। তাই ২৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়টি বলেন,‘এটা ঠিক যে টুর্নামেন্টটি বিশেষ কিছু এবং আমার কখনো সুযোগ হয়নি তা জেতার। কিন্তু আমি জানি আমার এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে, সম্ভবত সবচাইতে কঠিনটি এবং ব্যাপারটা চমত্কার। আমি মনে করি আমি যদি নিজের সেরাটা খেলতে না পারি, তাহলে আমার কোন সুযোগ থাকবে না। কাজেই আমাকে আরো আগ্রাসী হয়ে খেলতে হবে।’
জকোভিচের তুলনায় নাদাল এ ফাইনালের আগে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। সেটি হলো তিনি প্রথম সেমিফাইনালটিতে ফেদেরারকে সরাসরি সেটে হারিয়ে জকোভিচের চাইতে ছয় ঘণ্টা আগে কোর্ট ছেড়েছিলেন। তবে তিনি জানান যে, ‘এটা কোন প্রভাব ফেলবে না।’ তিনি বলেন,‘বিজয়ীও (দ্বিতীয় সেমিফাইনালের) সকালে ভাল ঘুমের সুযোগ পাবেন। আমি মনে করি না এটা কোন ফারাক গড়ে দেবে।’
দুজনের মধ্যকার লড়াইয়ে নাদাল ২২-১৬ ম্যাচে এগিয়ে আছেন। এর মধ্যে চলতি বছরে যে পাঁচটি খেলা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে তিনটিতে জিতেছেন তিনি। কিন্তু সার্বিয় জকোভিচ সর্বশেষটিতে বেইজিংয়ে জয়ী হন এবং টানা ২১ খেলায় অপরাজিত আছেন। তাছাড়া ২৬ বছরের এই সার্ব প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়নও। ওটু অ্যারিনাতেও তিনি টানা নয় খেলায় অপরাজিত আছেন।
এ ব্যাপারে জকোভিচ বলেন,‘ইউএস ওপেনের ফাইনালের পর আমি কোন খেলায় হারিনি। এই আত্মবিশ্বাস থেকে আমি অনেক ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছি। আমি বেইজিংয়ের ফাইনালে তার বিরুদ্ধে সরাসরি সেটে জিতেছি এবং খেলেছি অসাধারণ একটা ম্যাচ।’
তিনি আরো বলেন,‘আমি যেভাবে আমাদের খেলাগুলোয় উন্নতি ঘটাচ্ছি তা পছন্দ করছি। আমি নিজের কিছু পরিবর্তন পছন্দ করছি যা তা তার বিরুদ্ধে আমাকে জিততে সাহায্য করছে। সেগুলোই আমি তার বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে (ফাইনালে) চেষ্টা করবো।’
