দেশে কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৩৯
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দরকার দেশের স্বার্থে ছাড় দেবার মানসিকতা নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে জটিলতা আমাদের দেশে নতুন নয় । প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দুই দলের নেত্রীর মাঝে রেষারেষির কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে এবং বহু রক্তক্ষয় হয়। নিজেদের অবস্থান থেকে তারা একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি নন। এটাই সমস্যার মূল কারণ। প্রশাসন দলীয়করণ করেও তারা যখন নির্বাচনে পরাজিত হন তখন নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে তারাই প্রশ্ন তোলেন। গণতন্ত্র রক্ষায় নির্বাচন ছাড়া বিকল্প পথ খোলা নেই। আজ না হয় কাল সব দলকে নির্বাচনে আসতেই হবে। কাউকে না কাউকে ছাড় কিংবা সমঝোতা করতেই হবে। অহেতুক কালবিলম্ব করলে তার ফল কারো জন্যই সুখকর হবে না। তাই সুষ্ঠু গণতন্ত্রের স্বার্থে বড় দুই দলকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কোনরকম শর্ত ছাড়াই সংলাপে বসতে হবে। সংলাপের টেবিলেই নির্ধারণ করতে হবে নির্বাচনকালীন সরকার। হোক সেটা সর্বদলীয় কিংবা নিরপেক্ষ সরকার কিংবা নতুন পদ্ধতির সরকার। আন্দোলন কিংবা দমননীতি প্রয়োগ করে এই অচলাবস্থা নিরসন সম্ভব নয়। মো. মনোয়ার হোসেন মুনির চতুর্থ বর্ষ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে সরকার প্রধান করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি সরকার ও বিরোধী দল। ফলে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও কর্মসূচি। বিরোধী দল হরতাল অবরোধসহ অনেক কঠোর কর্মসূচি দিয়েছে। অনেকে হারিয়েছে হাত,পা, চক্ষু এবং জীবন। কিন্তু সমস্যার কোন সমাধান হয়নি বরং দিন দিন বেড়েছে। যা এখন কঠিন আকার ধারণ করেছে। সরকার ও বিরোধী দল যার যার অবস্থানে অনড়। কারণ সরকারের ক্ষমতা হারানোর ভয় আর বিরোধী দলের ক্ষমতায় যাওয়ার আশা। তাই কেউ ছাড় দিতে নারাজ এবং রয়েছে আস্থার সংকট। তাই নিজ নিজ পথে হাঁটছে দুই দলই। ফলে পরিস্থিতি আরো সংঘাতময় হয়ে উঠছে। তাই এই পরিস্থিতিতে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে সরকার প্রধান করে নির্বাচন পরিচালনা করলে দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে। হাফিজুর রহমান রানা ইতিহাস বিভাগ ১ম বর্ষ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বর্তমানের সরকারি দল ও বিরোধী দল তাদের স্বার্থ ত্যাগ করে , জনগণের স্বার্থে ও দেশের স্বার্থে সমঝোতার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে যদি ক্ষমতা দেয় তবেই সুষ্ঠু নির্বাচন আসা করা যায়। নির্বাচনীয় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে এমনই যে, সরকার কোন দলের একক প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এবং তার নির্দেশে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তাই জনগণের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন বলে গৃহীত হবে। আমরা লক্ষ্য করেছি দেশের অধিকাংশ লোক নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক এটাই চায়। অনেকেই মতামত দিয়েছেন যে, গত নির্বাচনের পূর্বে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার পর সেই সরকার নিয়মতান্ত্রিক সময় তার নির্বাচন পরিচালনা না করে তার নিজের স্বার্থের কর্মকাণ্ড শুরু করছিল। আমার মতে এমনই চুক্তি স্বাক্ষর হোক যাতে নির্ধারিত সময় নির্বাচন পরিচালনা করতে বাধ্য থাকে। যেই সরকার জয়ী হবে তার কাছে ক্ষমতা বুঝিয়ে পদত্যাগ করে। এই ব্যবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন ও সঠিক সরকার গঠন সম্ভব। মো. স্বপন মল্লিক মানবিক বিভাগ, (একাদশ শ্রেণি ১ম বর্ষ ), সাফা ডিগ্রী কলেজ, মঠবাড়ীয়া, পিরোজপুর নির্বাচন কমিশনের দৃঢ়তায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব আলোচনায় পূর্বশর্ত না দিয়ে, অতীতকে না টেনে এবং হরতালনামক নৈরাজ্য না চালিয়ে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস না করে, দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে, অতিদ্রুত দুই নেত্রী একাধিকবার মুখোমুখি আলোচনায় বসে, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করে সরকারের প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করলে উভয় নেত্রীর মধ্যে আস্থার সংকট অনেকটা কমে যাবে। আমি মনে করি স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি উজ্জ্বল সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে অংশগ্রহণ করলে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান করলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। সজল ব্যানার্জী এম. বি. এ (মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা), স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ