মতিঝিলে বহুতল ভবনে আগুন, আহত ১০

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ২১:২৩
রাজধানীর মতিঝিলে ২০তলা বিশিষ্ট দিলকুশা সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ভবনের নির্মাণ ত্রুটির জন্য আগুন নেভাতে প্রায় দেড়ঘন্টা সময় চেষ্টা করতে হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগুনে প্রায় কোটি টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে ফায়ার কর্মীদের প্রাথমিক ধারণা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভবনের নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, আচমকা পুরো ভবনে পোড়া গন্ধ বের হতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়ার পাশাপাশি ভবনের সব বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে করে ভবনের তিনটি লিফটি বন্ধ হয়ে যায়। একইসঙ্গে হ্যান্ডমাইক দিয়ে ভবন থেকে সবাইকে নিরাপদে নেমে পড়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। মুহূর্তেই কালো ধোয়ায় পুরো ভবন অন্ধকার হয়ে যায়। ভবনটির ১৭ তলায় কর্মরত দিলরুবা বেগম বলেন, সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে অফিসে যাই। ডেস্কে বসে কাজ করছিলাম। এরই মধ্যে পোড়া গন্ধ আসতে থাকে। মুহূর্তেই দমবন্ধ হওয়ার যোগাড় হয়। তাত্ক্ষণিক দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নামতে থাকি। ততক্ষণে ভবনের নিরাপত্তা কর্মীরা আগুন লাগার বিষয়টি হ্যান্ডমাইক দিয়ে প্রচার করছিলেন। এমন ঘোষণায় আতঙ্কে সবাই হুড়োহুড়ি করে নামা শুরু করলে সিঁড়িতে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ভবনটির নিচতলা থেকে ২০ তলা পর্যন্ত হেঁটে উপরে উঠে দেখা গেছে, ভবনের দেয়ালের গায়ে লাগানো থাকা প্রতিটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নষ্ট। তিনটি ছোট ছোট লিফট। ভবনে কোন জরুরি সিঁড়ি নেই। ভবনটির ঢুকতেই বামদিকে থাকা বৈদ্যুতিক ক্যাবলের স্থানগুলো পুরোপুরি পুড়ে গেছে। নিচতলা থেকে ২০ তলা পর্যন্ত ক্যাবল লাইন পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়েছে। আগুনের তাপে ক্যাবল লাইনের আশপাশের কক্ষের দরজা জানালার কাঁচ ভেঙ্গে পড়লে ১২ তলা থেকে ১৭ তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৮টি গাড়ি দেড়ঘন্টার চেষ্টার পর দুপুর ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক মেজর শাকিল নেওয়াজ জানান, ক্যাবল লাইন থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ভবনের নির্মাণ ত্রুটির কারণে পুরোপরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মেজর জিহাদুল ইসলাম জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।