শচীন টেডুলকারের বিদায়ী টেস্ট। সময় গড়ানোর সাথে সাথে এনিয়ে ভক্তদের উন্মাদনা বাড়তে বাড়তে সেটা এখন আকাশ ছোঁয়া। ক্রিকেট রূপকথার নায়ক দারুণ এক ইনিংসে ইতি টানবেন তার স্বপ্নের মতো ক্যারিয়ারের, এমন চিন্তায় বিভোর লক্ষ-কোটি ক্রিকেট প্রেমী। তবে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় দশটা থেকে মুম্বাইয়ে শুরু হতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বড় কিছু নয়, শচিন স্রেফ শেষ বারের মতো খেলাটাকে উপভোগ করবেন; ব্যাটিং জিনিয়াসের কাছে এটাই চাচ্ছেন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুই টেস্ট সিরিজ শেষেই দু’শো টেস্টের মাইলফলক ছুঁয়ে ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন। গত মাসে শচিনের এমন ঘোষণার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায়, এই সিরিজে ক্রিকেটের চাইতে বেশি আলোচনা চলবে শচিনকে নিয়েই। তাছাড়া তুলনামূলক বিচারে দুর্বল সফরকারিদের প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ভারত এরই মধ্যে নিশ্চিত করে ফেলেছে সিরিজ হারছে না তারা। ম্যাচের আগে তাই সাংবাদিকদের টেস্টের চাইতে শচিনের বিষয়েই বেশি আগ্রহী বলে মনে হলো। ফলে শচিন বিষয়েই একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যেতে হলো ধোনিকে।
শচিনের কাছ থেকে শেষ টেস্টে কি চাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় দলপতি যা বললেন, সেটাকে চাইলে তুলনা করা যেতে পারে বাহিনীর সবচেয়ে বড় যোদ্ধাকে প্রতিপক্ষের আঘাত থেকে রক্ষার জন্য কুশলী সেনাপতি যেমন তার সামনে ঢাল তুলে ধরেন সেরকম কিছুর সঙ্গেও। মাঠে প্রতিটি মুহূর্তে দেড়শো কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপ বহন করে চলা শচিন শেষ বেলায় যেন অন্তত চাপ ছাড়া কেবল নিজের খেলাটা উপভোগ করতে পারেন সে প্রার্থনাই ঝরলো ধোনির কণ্ঠে, ‘আমি চাই শেষ টেস্ট ম্যাচটা যেন সে কেবল উপভোগ করে। আপনারা যতই তার কাছ থেকে একশো, দু’শো বা তিনশো রান চান সেটা এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।’
ওয়াংখেড়ের উইকেটে বরাবরের মতোই থাকছে কিছুটা বাউন্সও। ধোনির বিশ্বাস শেষ টেস্টে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও শচিন পেতে পারেন সাফল্য, ‘যেহেতু এটা তার শেষ টেস্ট তাই আমি প্রথমেই চাইবো সে যেন খেলাটা প্রাণ ভরে উপভোগ করে। এবং পাশাপাশি সে আমাদের কিছু উইকেটও এনে দেয়। এটা হবে সত্যিই মজার। তাছাড়া উইকেট থেকে আমরা স্পিনের পাশাপাশি কিছু বাউন্সও আশা করছি।’
শচিন মাতামাতিতে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে কিনা এমন ধারণা উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক আরো বলেন, ‘মনোযোগ সরে যাবার কোন ব্যাপার নেই। যেহেতু এটি তার শেষ টেস্ট তাই নিশ্চিতভাবেই এটি ইতিহাসের অংশ হবে। তবে এর বাইরেও বেশ কিছু ব্যাপার আছে। তাই মনোযোগটা মাঠেই ধরে রাখতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করছি। সময়টাকে আমরা উপভোগ করছি, এটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
