বৃটিশ আমলে বাঙালিদের সশস্ত্র বাহিনী থেকে দূরে রাখার একটা প্রবণতা ছিল। সেই কারণ লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সে সময়ে বৃটিশ বাহিনীতে বাঙালি জোয়ানদের খুব একটা দেখা যায় না। এমন প্রেক্ষাপটে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে ১৯৪৩ সনে বৃটিশ সেনাবাহিনীতে কমিশন পদে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হন এমএ রব।
এমএ রব ১৯১৯ সালের ৬ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গ উপজেলার খাগাউড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হাজি মোহাম্মদ মনর ও মাতা রশিদা বেগমের প্রথম সন্তান ছিলেন রব। রব ছোটবেলা হতেই ছিলেন মেধাবী। ১৯৩৫ সালে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করলে, তিনি সিলেটের এম.সি কলেজে ভর্তি হন। সেখান হতে বিএসসি পাস করে ভর্তি হন আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে।
১৯৪৩ সনে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবার পর ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে বার্মা রণাঙ্গনে আরাকান সীমান্তে রব দুর্দান্ত সাহসিকতায় সম্মুখ সমরে অংশ নেন। ভারত বিভক্ত হবার পর এমএ রব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ষ্টাফ মেজর, লে. কর্ণেল, কোয়াটার মাষ্টার, জেনারেলসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি তার দক্ষতার জন্য চীফ অব ষ্টাফ পদে নিযুক্ত হন ও আগড়তলায় সদরদপ্তর স্থাপন করে মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য সাহসিকতার জন্য স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের দ্বারা রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ খেতাব “বীরউত্তম” খেতাবে তিনি ভূষিত হন।
১৯৭২ সালে এমএ রব বীরউত্তম চীফ অব ষ্টাফ পদ হতে ইস্তফা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য “মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট” গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। সর্বশেষে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে আজমিরিগঞ্জ-বানিয়াচঙ্গ আসন থেকে নির্বাচন করেন ও সাংসদ নির্বাচিত হন। এর দু’বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৪ নভেম্বর মেজর জেনারেল এমএ রব চরম রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিত্সায় মারা যান।
স্বাধীনতা সংগ্রামের এক নিবেদিতপ্রাণ চিরকুমার মেজর জেনারেল এমএ রবের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ১৪ নভেম্বর। যিনি নিঃশব্দে ত্যাগের মহিমায় কাজ করেছেন, দেশ ও মানুষের জন্য। যুদ্ধ কৌশলী হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেই দায়িত্বের পাঠ চুকিয়ে দেননি জেনারেল রব। বরং জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়েছেন তার অসামান্য মেধা ও শ্রম। বিনিময়ে জীবনে কিছুই চাননি। এমন মহত্ ব্যক্তিত্বই আজকের প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশ ও জাতির জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। মেজর জেনারেল এমএ রবের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা, ভালবাসা।
লেখক :উন্নয়নকর্মী
[email protected]
